১৯৮৮ সালের বন্যা ও বেগম খালেদা জিয়ার গল্প!

flood khaleda
ad

১৯৮৮ সাল, চাইম তখন খুবই ব্যস্ত। আজ এ শহর, তো কাল ও শহর, আজ এই কলেজের নবীন বরণ তো কাল আর এক কলেজের নবীন বরণ। অনুষ্ঠানের আর শেষ নেই। এমনও হয়েছে দুপুরে একটা কলেজে অনুষ্ঠান করে বিকেলে আরও একটা কলেজে অনুষ্ঠান শেষ করে গভীর রাতে পুরান ঢাকার একটা প্রোগ্রামে এটেন্ড করেছি। আর এগুলো সবই হয়েছে আমাদের নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেমে। খুব তুখোড় ছিল আমাদের ছেলেরা, খোকন, মোশারফ ওরা এতই এক্সপার্ট হয়ে গিয়েছিলো যে আধা ঘন্টার মধ্যেই সব ইন্ট্রুমেন্টস সেটআপ করে ফেলতে পারতো। যদি শিখিয়ে দিতে পারতাম তবে ওরা হয়তো আমাদের গিটারগুলোও টিউন করে ফেলতে পারতো। মোট কথা তখন আমাদের অর্থনৈতিক ও জনপ্রিয়তা দুই ক্ষেত্রেই রমরমা অবস্থা। ঠিক ওই সময় দেখা দিলো কালের ভয়াবহ বন্যা। আমাদের কন্ট্রাক্ট পাওয়া অনুষ্ঠানগুলো সব পিছিয়ে গেল। আমরাও একটু কর্মহীন হয়ে পড়লাম। আমাদের সময় কাটে কাপ্তানবাজার মোড়ে আমাদের বন্ধু ও চাইমের ম্যানেজার “টমের” ছাদে আড্ডা দিয়ে। এদিকে ঢাকার আশেপাশের বানভাসি মানুষগুলো ঢাকার বিভিন্ন দোকানপাট ও বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নেয়া শুরু করলো। এর মধ্যে একদিন টমের ছোট ভাই সমর ও তার বন্ধুরা এসে জানালো যে, তারা কিছু মানুষকে নবাবপুর স্কুলের দারোয়ানকে বলে একরকম জোর করেই স্কুলের বারান্দায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অন্যদিকে বন্যার সাহায্যের নামে ঠাটারী বাজারের দোকানদাররা প্রতিদিন চাঁদাবাজির খপ্পরে পড়ছেন বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠনের কাছে।

কথাটা আমিই তুললাম। “আমাদেরতো কোন কাজ নেই, আমরা কি কিছু একটা করতে পারিনা এই বানভাসি মানুষদের জন্য?” এখানে উল্লেখ্য, এর আগের বছর ১৯৮৭ এর বন্যায় আমি স্বামীবাগের মিতালী স্কুলে বন্যার ক্যাম্পে কাজ করেছি, তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিলাম একটা ভলান্টিয়ার টিম বানিয়ে। এছাড়াও শেরাটন হোটেলের এমডির লন্ডন থেকে আগত কন্যা রেবেকা’র উদ্যোগে শেরাটনে সব ব্যান্ড মিলে দুইদিন শো করে ফান্ড উঠিয়েছিলাম। সেই ফান্ড নিয়ে শাফিনরা এরশাদের কাছে জমা দিয়ে নিজেদেরকে টিভির পর্দায় উঠিয়ে ধন্য হয়েছিল। তবে কত টাকা উঠেছিল বা সেই টাকা আদৌ বানভাসি মানুষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলো কিনা তা আমাদের জানানোর প্রয়োজন তারা মনে করেনি। ভাবটা এরকম ছিল, একদল ইংলিশ বলা ব্যান্ডরাই ছিল উচ্চ মার্গের আর আমরা নিম্ন মার্গের বাঙ্গলী ব্যান্ড, যদিও সেদিন আমাদের জনপ্রিয়তাই ছিল তুঙ্গে। বন্ধুরা আমাকে আর টমকে তাদের দলনেতা বানালো এই উদ্যোগের বাস্তবায়নে।

আমি, টম, টুলু, নাঈম, খালিদ, টিটু, সমর ও তার বন্ধুরা মিলে আমরা প্রায় ২০-২৫জনের একটা দল হয়ে গেলাম। আমরা সরাসরি ঠাটারীবাজার মালিক সমিতির কাছে গেলাম। আমাদের অভিপ্রায়টি তাদের জানালাম। ওরা যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার মত খুশি হয়ে গেল। তারা বললো, “ভাই, আপনারা যদি তত্ত্বাবধানে থাকেন তবে নবাবপুর স্কুলে যতজন শরণার্থী থাকবে তাদের দুইবেলা খাবারের দায়িত্ব আমরা নেব।” এতে হয়তো কারণ একটা ছিল যে, তারা যখন নিজেরাই একটা ক্যাম্প চালাচ্ছে তখন ঠাটারী বাজারে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। পরেরদিন নবাবপুর স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলে সব ক্লাসরুম খোলার ব্যবস্থা করলাম। প্রায় ৭০০ মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হলো। ঢাকা পৌরসভায় বলে অতিরিক্ত অস্থায়ী বাথরুম ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা হলো। আমাদের বিভিন্ন ডাক্তার বন্ধুরা দুইবেলা ক্যাম্পে রুগী দেখা শুরু করলো। অপসোনিন আমাদেরকে অঢেল অপসো স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করলো। আর সবচাইতে বেশি সাহায্য পেলাম তখনকার সূত্রাপুর থানার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আর্মি ইউনিট থেকে। ওই ইউনিটে যে সব তরুণ অফিসাররা ছিলেন তাদের অনেকেই তখন চাইম এর ভক্ত। লোকাল চেয়ারম্যান চাইলো আমাদের ক্যাম্পের মানুষদের তৈরী খাবার দিতে, আমরা নিষেধ করলাম। বললাম, “আপনারা যে চাল, ডাল রান্না করবেন, সেগুলো আমাদেরকে দিন। যখন তারা চলে যাবে তখন আমরা এগুলো তাদেরকে দেব। যাতে তারা তাদের বাড়িতে গিয়েও অন্তত কয়েকদিন খাওয়ার চিন্তা না করে।” তারাও আমাদের কথা রাখলেন। আমার মনে আছে শরণার্থীরা যখন ক্যাম্প ছেড়ে গিয়েছিলেন তখন এক একটা পরিবার ১০ থেকে ১২ কেজি চাল-ডাল তাদের সাথে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন যদিও লোকাল চেয়রম্যান এর দেয়া খাবারের পরিমাণ ছিল খুবই নগণ্য, এর সাথে যোগ হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অফিস থেকে পাওয়া খাদ্য ও বস্ত্র সমূহ।

এর মধ্যে ক্যাম্পে দেখা দিলো ডায়রিয়ার প্রকোপ। আর্মি ডাক্তারদের সাথে বসলাম কি করণীয় তা নির্ধারণ করতে। তারা বললো ”আমরা যতই ওষুধ দেই না কেনো, দুইবেলা ঝোলা খিচুড়ি খাইয়ে এটা রোধ করা যাবেনা।” আবার বসলাম ঠাটারীবাজার মালিক সমিতির সাথে। এবার আমরা তাদের মেন্যু করলাম, সাদা সেদ্ধ চালের ভাত, পাতলা ডাল ও একটা মিক্সসবজি। আমার মনে আছে ঠাটারীবাজার কসাই সমতিও তাদের নিজ উদ্যোগে কয়েকবার মাংস রান্না করে দিয়েছিলো। আমরা আমাদের ক্যাম্প ডায়রিয়া মুক্ত করে ফেললাম সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই। আমরা সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্যাম্পেই থাকতে শুরু করলাম। তবে রাতে প্রত্যেক ক্লাসরুম থেকে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে নিযুক্ত করলাম সিকিউরিটি হিসাবে আর স্কুলের বারান্দায় থাকলো ৬ জন পুলিশ। ওই সিকিউরিটিরা প্রত্যেকদিন সকালে আমাদের রিপোর্ট করতো রাতে কোথায় কি ঘটেছে, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতাম।

মোটকথা ভীষণ নিয়ম-শৃঙ্খলার সাথেই নিরাপদে সময় কাটিয়ে ছিলেন সেই সব বানভাসি মানুষগুলো যারা বেশিরভাগই ছিলেন ঢাকার আশপাশ থেকে আসা গৃহস্থ পরিবার। আর এই সব কাজগুলো খুব সহজেই করতে পারছিলাম আমাদের চাইমের জনপ্রিয়তায়, মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার কারণে। আমরা কখনোই নিজেদের সেলিব্রেটি ভাবিনি। তবে, আমাদেরও একটা লোভ অবশ্যই ছিল, তা ছিল মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা কুড়ানোর লোভ। আমরা ওদের সাথে একদম মিলেমিশে গিয়েছিলাম ওই ২৮ দিন। আমারা ক্যাম্পের মানুষদের প্রত্যেকের জন্য নাম্বার দেয়া পাস এর ব্যবস্থা করেছিলাম যা দিয়ে তারা খাবার নেয়া ও ক্যাম্পের গেটের বাইরে ও ভিতরে যাওয়া আসা করতে পারতো। যদিও আমারা সবাই সবাইকে এক দেখাতেই চিনে ফেলতে পারতাম একটা পরিবারের মতো। আমাদের ৭০০ মানুষের পরিবার চলছিল একটা নিয়মমাফিক সুখ-দুঃখে।

এর মধ্যে একদিন বন্ধু রাজু এসে জানালো বঙ্গবন্ধুর কন্যা আসবেন তোদের ক্যাম্প দেখতে, রিলিফ দিতে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম, রিলিফ দিলে আমাদের সাথে সমন্বয় করেই যেন দেয়, কারণ আমরা চাচ্ছিলাম না আমাদের ক্যাম্পে আবার ডায়রিয়া দেখা দিক। বিকাল বেলা আওয়ামী লীগ অফিস থেকে রিলিফ কমিটির লোক আসলো। তারা জেনে গেল আমাদের অভিপ্রায়। পরদিন শেখ হাসিনা আসলেন দুপুরের খাবারের সময়। তিনি সবার খোঁজ খবর নিলেন, শরণার্থীদের সাথে একসাথে বসে খেলেন, আমাদেরকে সাধুবাদ জানালেন। যাবার আগে আমাদেরকে দিয়ে গেলেন প্রত্যেক চারজন হিসাবে ২কেজির চালের প্যাকেট আর কিছু শাড়ি ও লুঙ্গি যা ছিল আমাদের দেয়া শরণার্থীদের লিস্ট অনুযায়ী। আমাদেরকে কিছু স্যালাইন ও ওষুধ দিতে চাইলেন কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত আছে বিধায় আমরা তা রাখলাম না। তিনি প্রত্যেকটা মহিলাদের রুমে গেলেন তাদের খোঁজ-খবর নিলেন, যাবার সময় তাদেরকে আমাদের উদ্দেশ্য করে এটাও বলতে ভুললেন না যে, “আপনারা আপনাদের এই ভাইদের জন্য দোআ করবেন।” কি সাধারণের মধ্যে এক অসাধারণ বাংলার নারীকেই দেখলাম আমরা সেদিন।

কিন্তু ঠিক তার পরেরদিনই ঘটল এক বিস্ময়কর নিন্দনীয় ঘটনা। সেদিনও দুপুর বেলায় খাবার বিতরণ করা হচ্ছে, সবাই তাদের নাম্বার পাস দিয়ে খাবার নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেগম খালেদা জিয়া ক্যাম্পে ঢুকলেন তার এক বিশাল দলবল নিয়ে। তাদের লোকগুলো ঢুকেই হম্বিতম্বি শুরু করলো, ভাবটা এমন যে, এই ক্যাম্পটা তারাই চালায়, অথবা এই ক্যাম্প চালানোর সব খরচ তারাই বহন করছে। তারা রীতিমতো আমাদের মানুষগুলোকে সরিয়ে দিয়ে তারাই খাদ্য বিতরণের ভার জোর করেই নিয়ে নিলো। এরপর খালেদা জিয়া হাতে খাবারের মগ নিয়ে কয়েকজনকে খাবার তুলে দিলেন, সেগুলোর ছবি তোলা হলো। তারপর তিনি চলে গেলেন তার দলবল নিয়ে। এ যেন এক ঝটিকা সফর।

এখানে একটা কথা বলা হয়নি, তিনি যখন স্কুলে ঢুকেছিলেন তখন তার সাথে কিছু অনাকাঙ্খিত ঢাকার রাস্তার ভাসমান মানুষও ঢুকে গিয়েছিলো। যাদেরকে তারা আমাদের ওই ৭০০ মানুষের খাবার থেকেই খাবার বিতরণ করেছিল, যা ছিল আমাদের হিসাবের বাইরে। তিনি চলে যাবার পর সাথে সাথে আমরা আবারও কিছু অতিরিক্ত রান্না বসিয়ে দেই যাতে সবাইকে খাবার দিতে পারি। কিন্তু ঘটনা যে এর চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠবে তা ভাবিনি। বেগম খালেদা জিয়া রিলিফ দেবার ছবি তুলে চলে গেলেও ঠিক ছিল, তাতে তার আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ থাকলেও তখনকার বিরোধী দলের নেত্রী হিসাবে তা সহ্য করেই নিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যা করলেন তা ছিল অমার্জনীয় অপরাধ, খুবই কুটিল এক গর্হিত কাজ।

তিনি ওই দিন সূত্রাপুরের বিভিন্ন ক্যাম্পে ঝটিকা সফর করার সময় সব জায়গায় বলে বেড়ালেন যে, “আপনাদের জন্য আমরা নবাবপুর স্কুলে রিলিফ দেবার ব্যবস্থা করেছি।” ব্যাস! হাজার হাজার মানুষ আমাদের ক্যাম্পে এসে হাজির খালেদা জিয়ার রিফিল নিতে। আমরা স্কুলের গেট বন্ধ করে দিলাম, তাতেও তাদের আটকানো যাচ্ছে না, বাজার কমিটির লোক আসলো, কাজ হলো না! পুলিশ আসলো, কাজ হলো না! মনে হল আমাদেরকে তিনি হাজার হাজার মানুষের বিপক্ষে এক যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে গেলেন। অবশেষে আর্মির গাড়ি এসে মানুষগুলোকে সরালেন, আমরাও আমাদের জান নিয়ে বাঁচলাম। ঠিক তখনি তিন-চারটা হোন্ডা এসে থামলো, কিছু উটকো চেহারার ছেলেপেলে নেমে এলো, তারা আমাদের কাছে জানতে চাইলেন, ম্যাডাম এখন কোথায়? আমাদের মধ্য থেকে একটু আগে ভিড়ের চাপে জখম হওয়া এক ছোট ভাই রেগে গিয়ে বললো, “গুলিস্থানের কামানের উপর বইসা থাকতে দেখছি একটু আগে।” সাথে সাথে হোন্ডাওয়ালারা ওর দিকে মারমুখী হয়ে ছুটে আসার আগেই আমাদের ক্যাম্পের ছেলেরা আর বাজার কমিটির মানুষদের হাতে তারা তৎক্ষণাৎ হালকা সাইজ হয়ে পালিয়ে বাঁচলো। পুলিশ তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখল, কারণ একটু আগেই সবাই দেখেছে কি অন্যায় ঘটেছে আমাদের উপর।

আমাদের একদল গেল থানায় ডায়রী করতে, তখন কে একজন বললো যে পত্রিকা অফিসে জানানো দরকার। আমাদের ১০০ থেকে ২০০ মানুষ অনেকটা মিছিলের মতো করে দৈনিক বাংলা আর টাইমস অফিসে আসলাম। আমার এক বন্ধুর বড়ভাই মঞ্জুরুল হক ভাইয়ের কাছে আমাদের লেখা রিপোর্টটি দিলাম। সব সাংবাদিকরা মঞ্জু ভাইকে ঘিরে ধরে রিপোর্টটি দেখলেন। সবাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন, খালেদা জিয়াকে ভৎসনা করলেন, কিন্তু ফিরে আসার আগে মঞ্জু ভাই আমার পিঠে হাত রেখে বললেন, “ওরে পাগল, আমি এটা এডিটিংএ দেব ঠিকই কিন্তু এটা নিউজ হবে বলে মনে হয় না, আফটার অল তিনি বিরোধী দলের নেত্রী। তোরা তোদের কাজ করে যা।”

সেদিন থেকে খালেদা জিয়ার প্রতি আমার বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধ নেই। একজন বড় দলের নেতৃত্বে যদি এরকম মিথ্যুক, ধাপ্পাবাজ মানুষ থাকে সে দল এই সমাজকেই বা কি দেবে? আর দেশকেই বা কি দেবে? তাই আজ যখন তিনি টুইটারে দেশের বন্যা পরিস্থিতির বয়ান দেন তখন আমি ১৯৮৮’র কথা ভাবি, তার সেদিনের কপটতার কথা মনে পড়ে যায় আর অবাক হই এই ভেবে যে, এই নেত্রী কি এতই অন্ধ, তিনি কি দেখতে পান না শেখের বেটি এর আগের বছরের সঙ্কট গুলোকে কিভাবে সামলিয়েছেন দেশের বা বিদেশের কোন সাহায্য ছাড়াই। এবারও তিনিই সামলিয়ে নেবেন ইনশাআল্লাহ! যার মধ্যে সততা থাকে তাকে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই সাহায্য করেন। দেশ এখন একজন সৎ মানুষের হাতে।

১৯৮৮ সালে দেশে ছিল স্বৈরাচার লুটপাটের সরকার। যে সব সরকাররা সব সময় হয়তো মনে এই আশা নিয়ে থাকতো যে, কখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে, কখন দেশ-বিদেশের সাহায্য আসবে, কখন সেগুলো আমাদের বক্সে ঢুকবে। তাই দুর্যোগ মানেই অনেকের জন্য আশীর্বাদ ছিল। সেইদিন দুর্যোগের নামে এক শ্রেণীর মানুষদের চাঁদাবাজি ও রিলিফের মাল লোপাট করারও মহোৎসব হয়েছিল। তবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর ডালিমের একান্ত সহযোগী, তার ভগ্নিপতি আবুল খায়ের লিটুরা।

আমাদের মতো সারা দেশের মানুষই সেদিন দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন যার যা সামর্থ আছে তাই নিয়ে। কারণ তখন দেশের মানুষের জন্য কোন বিশ্বস্ত সরকার ছিল না। অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল ওই সময়ে সাধারণ মানুষের নিজস্ব একাগ্রতায় গড়া শৃঙ্খলেই আমরা মোকাবেলা করেছিলাম সেদিনের দুর্যোগ। কিন্তু আজ আমাদের সেই অবস্থা নেই।
বর্তমান সরকার এর আগের কয়েকটা বড় বড় দুর্যোগ মোকাবেলা করে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারা কারও কাছে ভিক্ষার হাত না পেতেই নিজেদের সম্পদ দিয়েই মোকাবেলা করেছেন পূর্বের দুর্যোগগুলি। এবারও করবেন।

তবে মিডিয়ারও উচিত হবে তাদের দায়িত্ববোধ থেকেই এই বন্যাকে মোকাবেলা করা। মিডিয়ার প্রতি দুঃখভরা মন নিয়েই বলছি, ১৯৮৮ সালেও দেখেছি, খালেদা জিয়ার সাথে মিডিয়ার ক্যামেরা এসেছিলো কিন্তু শেখ হাসিনা এসেছিলেন ক্যামেরা বিহীন। আজও দেখি সেই একই অবস্থা। এর সাথে যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। আপনারা বন্যার্তদের সাহায্য করতে চান, করুন। কে আপনাদের মানা করেছে কিন্তু মানববন্ধন কেন? কার বিরুদ্ধে মানববন্ধন? সরকার নাকি বন্যার বিরুদ্ধে? মিডিয়ার বদৌলতেই আজ ছেলেদের ছুঁড়ে মারা ডিম হয়ে যাচ্ছে হকিস্টিক, প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়ে যাচ্ছে সরকারের ষড়যন্ত্র। তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, কোন বুদ্ধিতে এর পিছনে কাজ হচ্ছে? এর সাথে বসে নেই সুদূর প্রবাসের জামাত আদর্শিক দলগুলোও, যারা আজ মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়েই। অথচ খুব সফলতার সাথেই এই বঙ্গবন্ধুর কন্যার সরকার এর আগের বিপর্যয় গুলোকেও শক্ত ও সুনিপুন হাতেই সামলে নিয়েছিলেন, এবারও পারবে ইনশাল্লাহ! এই আশাই প্রত্যেকটা বাঙালীর।

লেখক
আল আমিন বাবু
লস এঞ্জেলেস

ad