রোবোটিক হাত তৈরি করে বাংলাদেশি তরুণের বিশ্বজয়!

রোবট গবেষকদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন রোবোটিক হাত তৈরি করা লভলু। বিশ্বে তার অবস্থান চতুর্থ।


মানুষের হাতের মতো নড়াচড়া করছে কব্জি ও আঙুলগুলো। ইচ্ছেমতো, যেকোনো দিকে ঘোরানো যাচ্ছে, করা যাচ্ছে মুষ্টিবদ্ধও। এমন কি এক লিটারের বোতল ধরতে এবং পানি পানের জন্য মুখের কাছে নিয়ে যেতে পারছে স্বাভাবিক ভাবেই।এটি আসল হাত কিংবা আঙুল নয়। কিশোর লাভলুর তৈরি ‘রোবোটিক্স হ্যান্ড বা রোবোটিক হাত’।


চট্টগ্রামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ইলেকট্রনিক্স ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত লাভলুর পুরো নাম জয় বড়ুয়া লাভলু। পড়াশোনার পাশাপাশি রোবটিক্স নিয়ে আছে তার অসংখ্য কাজ। তিনি এরই মধ্যে বানিয়েছেন হোম ক্লিনিং রোবট। কৃষক সহায়তায় উদ্ভাবন করেছেন উভচর রোবট, রোবটিক থার্ড হ্যান্ড, ওয়্যারলেস হ্যান্ড, ইএমজি কন্টোল রোবটিক হ্যান্ড, হেড মেসেজ ডিভাইজ, এলিন ওয়ান ফিউচার কার, রোপ ক্যামেরা, ওয়্যারলেস ক্যামেরা, কথা বলা রোবট, রোবটিক্স মুখ ইত্যাদি।


জানা গেছে, এরই মধ্যে গত মার্চে প্লাস্টিক আর সিলিকনে তৈরি সাশ্রয়ী এই কৃত্রিম একটি হাত রফতানি হয়ে গেছে এশিয়া-ইউরোপের সেতুপথ তুরস্কে। সেখানকার রেহানলি জেলার হাতায় প্রভিন্সের ইয়ানিক মাহ’র জন্য এই হাতটি বায়না করেছিলেন তার চিকিৎসক নিহাত কুরুল কাড। ফেসবুকে লাভলুর পেজ থেকে। লাভলু সেটি পাঠিয়েও দিয়েছেন।


তবে এর আগে একই ধরনের আরো একটি হাত লাভলু বিক্রি করেছেন বগুড়ার কৌশিক রায়ের কাছে। কনুই পর্যন্ত হাত না থাকা কৌশিক এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন রোবটিক হাতের সাহায্যে। এরপর সারাদেশে বেশ সাড়া ফেলে তার রোবটিক হাত।


উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে তরুণ বিজ্ঞানী জয় বড়ুয়া লাভলুর। এবার বিশ্বের শীর্ষ ১০ তরুণ রোবট গবেষকদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন রোবোটিক হাত তৈরি করা লভলু। বিশ্বে তার অবস্থান চতুর্থ।


অ্যানালিটিক্স ইনসাইটের তথ্য মতে, ২০২২ সালের এই তালিকায় লাভলুর আগে আছেন নাসার লুনাবোটিকস জুনিয়র কনেটস্ট জয়ী লুসিয়া গ্রিস্যান্ট, শ্রিয়া সাওয়ান্ত ও ডায়েটার ফক্স।


লাভলু এরই মধ্যে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় যান্ত্রিক হাত উপহার দিয়ে জয় করেছেন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যয়বহুল চিকিৎসার বাধা। শুধু দেশে নয়, প্লাস্টিক আর সিলিকনে তৈরি তার উদ্ভাবিত কৃত্রিম হাত দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় এরই মধ্যে ভারত, মায়নামার, ইতালি ও মালোয়েশিয়া থেকেও বায়না পেয়েছেন তিনি।


জয়ের তৈরি এই হাত সাড়া দেয় মানুষের স্নায়বিক আবেদনে। শরীরের বিভিন্ন নার্ভের সাথে সংযুক্ত করে দিলে কৃত্রিম হাতটি কাজ করে অনেকটা স্বাভাবিক হাতের মতোই। যে কোনো দিকে ঘোরানো, মুষ্টিবদ্ধ করা, যেকোনো জিনিস ধরে ওপরে তোলার কাজ করা যায়। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে পানি তুলেও খাওয়া যায়।