কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন চালু

Second, submarine cable, launch,
ad

জাগরণ ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর পর চালু হয়েছে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ‘সি-মি-ইউ-ফাইভ’ এর কার্যক্রম। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত হয়ে ইউরোপের ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এর সংযোগ লাইন।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই সাবমেরিন কেবলের মেয়াদ ২০ থেকে ২৫ বছর। কুয়াকাটা সংলগ্ন মাইটভাঙ্গা গ্রামে ১০ একর জমির উপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির তথ্য মতে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাইটভাঙ্গা গ্রামে ২০১৩ সালের শেষের দিকে ১০ একর জমির ওপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার পর ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার পরীক্ষামূলক শুরু হয়।

সাগরের নিচ দিয়ে ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল লাইন বঙ্গোপসাগরের উপকূলে কুয়াকাটার স্টেশন থেকে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে তা সংযোগ স্থাপন করা হয়। ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কেবল স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়।

এই ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাবমেরিন কেবল থেকে সেকেন্ডে ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইট (জিবি) গতির ইন্টারনেট পাবে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলোকে আর বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে হবে না বলে সরকার আশা করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এই সাবমেরিন কেবল যুক্ত করা হয়েছে। পটুয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানিুষের সার্বিক উন্নয়ন করা কর্তব্য। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ২০০৬ সালে কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন স্থাপন করেছি। এটি ৩০০ জিবিপিএস ক্ষমতাসম্পন্ন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ২৫০-২৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হয়েছে। কুয়াকাটার দ্বিতীয় সাবমেরিন স্টেশনের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএস। কক্সবাজারের চেয়ে এটি ৫ গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার মো. মশিউর রহমান জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযোগের কাজ শেষ হয়। মার্চ মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ জিবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ সুবিধাসহ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ad