গুগল-ফেসবুক জানা যাবে মৃত্যুর পূর্বাভাস!

Google - Facebook, Death, Forecasting, 2
ad

জাগরণ ডেস্ক: এখন থেকে ফেসবুক লগইন করলেই আর গুগল সার্চ করলেই আপনি জেনে যেতে পারেন কবে আপনার মৃত্যু হতে চলেছে!

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্র্রতি এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করছে, যা দিয়ে বিবাহের বার্তা থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্বাভাস পর্যন্ত জানিয়ে দিতে পারবে। ফেসবুকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনের প্রতিটি দিকে নজরদারি। এখন তারা নতুন একটি বিষয় নিয়ে কাজে নেমেছে।

মানুষ কখন মারা যাবে, তার পূর্বাভাস জানাবে ফেসবুক। মৃত্যুর পূর্বাভাস জানানোর অ্যালগরিদম তৈরিতে একটি পেটেন্ট আবেদনও করেছে ফেসবুক। ‘দ্য প্রেডিকটিং লাইফ চেঞ্জেস’ নামের ওই পেটেন্টের খবর প্রথম জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।

তাতে বলা হয়, লাইফ চেঞ্জ প্রেডিকশন ইঞ্জিন নামের যে প্রযুক্তি তৈরি করা হবে, তাতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পূর্বাভাস থাকবে। এর মধ্যে বিয়ে, জন্মদিন, নতুন চাকরি, শিশুর জন্ম, পড়াশোনা, এমনকি মৃত্যুর পূর্বাভাস দেয়ার ক্ষমতা থাকবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের অ্যালগরিদম মূলত তৈরি করা হয়েছে বিজ্ঞাপনের জন্য। যে কোনো মানুষের জীবনের গোপন বা গভীর তথ্য জানার ফলে তাকে সে বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে ফেসবুক। যেমন ফেসবুক যদি বুঝতে পারে কেউ গর্ভধারণ করেছে, তখন নিউজফিডে শিশুর নানা পোশাক, খাবারের বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করবে।

ফেসবুকের ওই পেটেন্ট আবেদন অনুযায়ী, ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের প্রোফাইলে যেসব তথ্য দেন, সেগুলো ফেসবুক নিজেই বিশ্লেষণ করে নিজস্ব একটি বার্তা প্রস্তুত করবে ফেসবুক।

যদিও এর আগে ফেসবুক বলেছিল, তারা পেটেন্ট আবেদন করেছে ঠিকই কিন্তু এটি তারা ব্যবহার নাও করতে পারে।

সম্প্রতি ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার তথ্য কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। এর আগে সম্প্রতি গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মৃত্যুর পূর্বাভাস দেয়ার কথা জানায়। এরপরই ফেসবুক এ ধরনের প্রযুক্তির পেটেন্ট করার কথা জানাল।

এর আগে এক্সেল মেডিকেল সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক ল্যান্স বার্টনের কোম্পানি ভিসেনশিয়া সেফটি ইনডেক্স নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করে।

হার্ট অ্যাটাক বা ফুসফুসের আক্রমণের অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে সফটওয়্যারের অ্যালগরিদম ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকেত দিতে পারবে। জানিয়ে দিতে পারবে মৃত্যুর খবর।

এ সময় চাইলে আপনি চিকিৎসককে ডেকে বাঁচার শেষ চেষ্টা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দফতর এ রকম একটি সফটওয়্যারের অনুমোদন দিয়েছে, যেটি হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দিতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল এ ব্যবস্থা চালু করেছে।

বর্তমানে গুগলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা রীতিমতো মানুষের জীবনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় প্রায় নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারছে।

যে কোনো ঠিকানার খোঁজ দেয়া থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো খবর- সবই এখন জানিয়ে দেয় গুগল। আর এখন একজন ব্যক্তির মৃত্যু কবে হতে পারে, তারও উত্তর মিলবে গুগলে!

ইউসি সানফ্রান্সিসকো, স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক আর গবেষকরা মিলে একটি বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন।

অপরদিকে, বর্তমানে গুগলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা রীতিমতো মানুষের জীবনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় প্রায় নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারছে। এ বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমেই গুগল জানাবে কবে আপনি মারা যাবেন। তবে বিষয়টি খুব সোজা নয়।

কারণ, এই মডেলটি শুধু তখনই কাজ করবে, যখন কোনো রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ তথ্য তার কাছে থাকবে। এটি মূলত হাসপাতালের ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডস থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।

গবেষকদের দাবি, ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এই মডেলটি সঠিক উত্তর দিতে পেরেছে। কোনো ব্যক্তিকে কতদিন হাসপাতালে রাখতে হবে? এ প্রশ্নের উত্তরেও ৮৭ শতাংশ নির্ভুল উত্তর দেয় গুগলের প্রযুক্তিটি। শুধু তাই নয়, কোনো ব্যক্তির পুনরায় হাসপাতালে ভর্তির ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রেও ৭৭ শতাংশ নির্ভুল এটি।

ad