ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে বৃষ্টিপাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ; দাবী গবেষকদের

ad
ছবিঃ দক্ষিণ আল্পস কৃতজ্ঞতাঃ সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়
ছবিঃ দক্ষিণ আল্পস কৃতজ্ঞতাঃ সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়

জাগরণ ডেস্কঃ ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে বৃষ্টির পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে দাবী করেছেন একদল গবেষক। নতুন একটি গবেষণায় এমনটি দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নিউজিল্যান্ডের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়, ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির GFZ Potsdam এর একদল গবেষক সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ আল্পসে জিওথার্মাল ফ্লুইড ও খনিজ অভ্যন্তরের শিরা উপশিরার উৎসের সন্ধান পেয়েছেন। উল্লেখ্য, এই দক্ষিণ আল্পসের আল্পাইন ফল্টলাইনটি প্রশান্ত ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটদ্বয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

বিভিন্ন রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা দেখতে পেয়েছেন, পৃথিবীর মূল ক্রাস্টের নিচের স্তর থেকে উৎপন্ন ফ্লুইড ও বৃষ্টির পানি থেকে উদ্ভূত ফ্লুইড আল্পাইন ফল্ট দিয়ে উপরে উঠে আসে। ফল্ট জোনের গভীরে কতটুকু ফ্লুইড প্রবাহিত হচ্ছে তা থেকে বিভিন্ন হিসেব নিকেশের পর প্রথমবারের মত গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, এই ফল্টের সীমানায় ভূমিকম্প ঘটানোর মত পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি সেখানে উপস্থিত আছে।

গবেষক দলের প্রধান সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাসাগর ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের Dr Catriona Menzies বলেন, “বড় ও মহাদেশীয় ফাটলগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটাতে পারে, কিন্ত একটি ভূমিকম্প ঘটানোর পেছনে উদ্দীপক হিসেবে কী মেকানিজম কাজ করে তা সঠিক ভাবে জানা যায় না।

“ভূ-তাত্ত্বিকরা অনেক আগে থেকেই অনুমান করে এসেছেন, গভীর ভূ-গর্ভস্থ পানি ভূমিকম্প হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, এই ফ্লুইডগুলো চাপ বৃদ্ধি করে বা অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ফল্ট জোনকে দুর্বল করে দিতে পারে।

“ভূমিকম্পের মধ্যবর্তী সময়ে ফল্টের বিবর্তন নিয়ন্ত্রণের জন্য ফ্লুইডের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসায়নিক বিক্রিয়া শিলার শক্তি ও ভেদ্যতা পরিবর্তন করে দিতে পারে। আর সেখানে যদি উচ্চ চাপে পর্যাপ্ত ফ্লুইড উপস্থিত থাকে তবে তা ফল্টজোনে ভূমিকম্পকে উষ্কে দিতে পারে।“

আল্পাইন ফল্ট হলো সান আন্দ্রিজের মতো বিপজ্জনক ফল্ট, যা প্রতি ৩০০ বছরে একবার ৮ মাত্রার চেয়ে বড় ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ে। সর্বশেষ ১৭১৭খ্রিষ্টাব্দে এমনটি ঘটেছিল যা আজ থেকে ৩০০বছর আগে। একারণে বর্তমান সময়ে এটি তীব্র বৈজ্ঞানিক নজরদারিতে আছে।

Dr Menzies আরও বলেন, “আমাদের গবেষণা বলে যে, ভূ-পৃষ্ঠের বৃষ্টিপাতের .০২ থেকে .০৫ শতাংশ পৃষ্ঠের ৬কিলোমিটার গভীরে পৌঁছায়। এই পরিমাণ পানি বিভিন্ন উত্তপ্ত শিলার সাথে রুপান্তরিক বিক্রিয়া অন্যান্য ক্রিয়ায় অংশ নেয়ার পরও অবশিষ্ট হিসেবে থেকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। অতিরিক্ত পানিটুকু তখন উপরের পর্বতের হাইড্রলিক চাপের কারণে আল্পাইন ফল্টে প্রভাব বিস্তার করে।“

Earth and Planatary Science Letters এ প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণাটি অর্থায়ন করেছে Natural Environmental Research Council(NERC), Deutsche Forchungsgemeinschaft ও GNS Science(New Zealand)

 

তথ্যসূত্রঃ

  • Earth and Planatary Science Letters
  • phys.org
ad