যাযাবর জীবনেও প্রযুক্তির ছোঁয়া

Nomad, technology, touches,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: মেঘনায় বিলীন হয়েছে বসতভিটা। শেষ আশ্রয়স্থলটুকু হারিয়ে পরবাস যাপন করছেন ৩০টি পরিবার। বাধ্য হয়ে বেঁছে নিয়েছেন যাযাবর জীবন। তবে তাদের এই যাযাবর জীবনেও লেগেছে দিন বদলের হাওয়া। খুপরি ঘরে কুপি বাতির বদলে সোলার প্যানেলের সাহায্যে জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি।

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার হেলিপ্যাডে বসবাসকারী যাযাবর পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে প্রযুক্তির এই ছোঁয়া। জীবন জীবিকার তাগিদে ১৮টি পরিবার দেশের নদী ভাঙন কবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। এসব পরিবারে পুরুষ, মহিলা ও শিশু মিলিয়ে ছোট বড় প্রায় ৭৭ জন সদস্য গাদাগাদি করে রয়েছেন।

সোলার প্যানেলের সাহায্যে জ্বলা এই বাতির বদৌলতে যাযাবরদের ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার জীবনে লেগেছে আলোকছটা। শুধু বাতির আলোই নয়, যাযাবর পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে না গেলেও তাদের হাতে রয়েছে আধুনিক ডিজিটাল উপকরণ ট্যাব, স্মার্ট মোবাইল ফোন। এসব উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বস্ব হারানো যাযাবরদের জীবনও এখন প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত।

বাঁশের কঞ্চি, বাতা ভাঁজিয়ে তার ওপর পলিথিন মুড়িয়ে ২২টি খুপরিঘর তৈরি করেছেন তারা। সেখানে কয়েকজন মহিলা, ছোট শিশু আর পুরুষ সদস্যদের অলস সময় কাটাতে দেখাগেছে। ওই পরিবারের অধিকাংশ মহিলা উপার্জন করতে গেছেন প্রত্যন্ত পাড়া গাঁয়ে। পাশাপাশি খুপরি ঘরের সামনেই বসানো রয়েছে চারটি সোলার প্যানেল।

Nomad, technology, touches

ওই পল্লীর দলনেতা আব্দুল মালেক (৬০) জানালেন, এখানে ছেলেরা এলাকাভিত্তিক সাধ্যমত কাজ করে। মেয়েরা বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সাহায্য তুলে কোন মতে বেঁচে থাকে। পুঁজি না থাকায় কোন ব্যবসাও করা সম্ভব হয় না। এই দলের অধিকাংশ বাসিন্দারা জামালপুর, গাইবান্ধা আর চাঁদপুর জেলার। কেরোসিন বাতি খুপরি ঘরে জ্বালানো ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয় সাপেক্ষ। তাই সকলে মিলে চাঁদা তুলে চারটি সোলার প্যানেল কিনে নিয়েছি।

জামালপুরের হাসমত আলী (৪৮) বলেন, যাযাবর হওয়ায় বেঁচে থাকার নূন্যতম চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এক বিছানায় ঘুমাতে হচ্ছে। জীবনের তাগিদে আজ এখানে তো কাল অন্য কোথাও যাযাবর হয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। তবু জীবনের চাহিদা মেটাতে মোবাইল ফোন, সন্তানের শখ মেটাতে ট্যাব আর কুপির বাতির বদলে সোলার বাতির আলোতে জীবনের শান্তনা খুঁজে বেড়াই!

পল্লীর একাধিক বাসিন্দা জানান, তাদের জীবনে টানাপোড়েন থাকলেও সন্তানদের মাঝে প্রভাব ফেলেছে সভ্যতা। তাদের আবদার মেটাতে সংসারের খরচ বাঁচিয়ে এক হাজার টাকা করে পুরাতন ট্যাব কিনে দিচ্ছেন অনেকেই। এতে সন্তানরা খুশি। তবে তাদের পড়ালেখা শেখাতে পারলে ভালো হতো। ছোট ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে চায়। স্থায়ী আবাসন না থাকায় তাদের সে ইচ্ছাও পূরণ করা সম্ভব হয় না।

তারা আরও জানান, স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আমরা কোন সরকারি সাহায্য সহযোগীতা পাই না। সোলার বাতির আলোতে অন্ধকার দূর হলেও কষ্ট দূর হচ্ছে না কোনভাবেই।

ad