অপুষ্টিতে বারবার জ্ঞান হারানো সেই শামসুন্নাহারের ৪ গোল

Jagoran- shamshunnahar
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৫ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের মেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। অথচ মাত্র দুই বছর আগেও অপুষ্টিজনিত কারণে খেলার সময় বারবার তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়তেন। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তার ফুটবল ক্যারিয়ার।

কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং ফুটবল কন্যাদের সার্বিক সহায়তা করায় ফুটবল কন্যাদের ‘মা’ নামে খ্যাতি লাভ করা মালা রানী সরকার কলসিন্দুরের মেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রের সম্পর্কে দৈনিক জাগরণকে জানিয়েছেন অজানা কাহিনী।

তিনি বলেন, খাবারের অভাবে অপুষ্টিজনিত কারণে ২০১৬ সালে খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে হয়ে পড়ে। প্রায়ই খেলার সময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতো। কম করে হলেও ১০ থেকে ১২ বার অজ্ঞান অবস্থায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

jagoran- Malnutrition, senceless, Shamsunnahar, 4 goals,

অধ্যাপক মালা রানী সরকার জানান, জন্মের পরেই মা মারা যায় শামসুন্নাহারের। চার বোন এক ভাইয়ের সংসার চালান বাবা নেকবর উদ্দিন। তিনি কৃষি কাজ করেন। অভাবের সংসারে খাবারের কারণে শামসুন্নাহার অপুষ্টিজনিত কারণে রোগে ভুগছিল। যে কারণে ডাক্তার তাকে ফুটবল খেলার জন্য আনফিট ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রায় আট মাস স্থানীয় একটি হোটেলে শামসুন্নাহারের দৈনিক খাবার ব্যবস্থা করে দেই ও আমার নিজস্ব অর্থায়নে ডাক্তার ওয়ায়েজ উদ্দিন সাহেবকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। সুস্থ হয়েই অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলার সুযোগ পেয়ে দেশের জন্য সে জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখে।

অধ্যাপক মালা রানী সরকার আরও বলেন, আমি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। প্রত্যেক নারী যেন তার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে মালা রানী সরকার বলেন, মারিয়া মান্দার নেতৃত্বে মাহমুদা, মার্জিয়া, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), সাজেদা, শামসুন্নাহার (জুনিয়র), নাজমা ও তহুরা সবাই খুব ভালো ফুটবল খেলে। গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশের মেয়েরাই চ্যাম্পিয়ন হবে।

ad