আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার অজানা কিছু তথ্য

Andres Iniesta
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৯৯৬ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। এরপর বার্সাই হয়ে গেছে তার ঘর। ২০০২ সালে বার্সার মূল দলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচে ব্রুগের বিপক্ষে প্রথম খেলতে নামেন এই মিডফিল্ডার। এরপর একে একে চলে গেছে ১৬ বছর। বার্সার হয়ে এমন কোনো কাপ নেই যা তিনি জেতেননি। তবে দীর্ঘ ২২ বছরের এই সম্পর্ক ছিন্ন হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ইনিয়েস্তা জানান এ মৌসুম শেষেই তিনি বার্সেলোনা ছাড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্না ভেজা কন্ঠে ইনিয়েস্তা বলেন, সিদ্ধান্তটা অনেক কঠিন ছিল। প্রিয় ক্লাবকে বিদায় জানানোটা অতটা সহজ ছিল না। কিন্তু আমি জানি এখন আমার বয়স ৩৪, ভবিষ্যতে আমি হয়তো ক্লাবের জন্য আর আমার সেরাটা দিতে পারবো না।  তাই এখনই বিদায় বলার সময়।

এই সংবাদ সম্মেলনে বার্সা সভাপতিসহ সব খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। তবে এ সময় মেসি ও সুয়ারেজকে দেখা যায়নি।

২০০২ সালে অভিষেকের পর বার্সেলোনার হয়ে মোট ৬৬৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। শুধুমাত্র জাভি হার্নান্দেজ বার্সার হয়ে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। এই তারকা বার্সার হয়ে মোট ৩১টি শিরোপা জিতেছেন। বার্সা ছাড়ার আগে সেটা অবশ্য হয়ে যাবে ৩২।

বার্সার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার মোট গোল করেছেন ৬৯টি। তার গোলে অবদান রয়েছে ৬৭টি।

বার্সার হয়ে এখনো কোনো লাল কার্ড দেখেননি এই মিডফিল্ডার। হলুদ কার্ড দেখেছেন ৬৩ বার।

ইনিয়েস্তার পাসিং অ্যাকুরেসি ৮৯ ভাগ। ৪৪৭ ম্যাচে প্রথম একাদশের হয়ে খেলেছেন তিনি।

বার্সার সাথে তার চুক্তিটা আজীবনের। ইচ্ছে করলেই যে কোনো সময় বার্সায় ফিরতে পারবেন তিনি। ইনিয়েস্তাই একমাত্র খেলোয়াড় যার সাথে বার্সা আজীবনের চুক্তি করেছে।

বার্সেলোনা ছেড়ে চীনের একটি ক্লাবে যাবেন ইনিয়েস্তা। এর কারণ ইউরোপের কোনো ক্লাবে গেলে তাকে বার্সার মুখোমুখি হতে পারে। এ বিষয়টি এড়াতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে খেলাদের মধ্যে তৃতীয় তিনি। তার আগে আছে শুধু মেসি ও জাভি।

দুঃখজনকভাবে ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে তাকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ১-১ গোলে ড্র থাকা অবস্থা ৮০ মিনিটের সময় নামানো হয় তাকে। তিন মিনিট পরে তার গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করে বার্সা। ২০০৯ সালে আসে তার জীবনের সেরা গোলটি। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সে-ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে চারজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শটে গোল করে বার্সাকে ফাইনালে তোলেন তিনি।

ad