‘আমরা ফাইনাল খেলতে চেয়েছিলাম’

Coutinho.
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে হেক্সা জয়ের মিশন শেষ হয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য এটা বেশ হতাশাজনক একটি ঘটনা।

ব্রাজিলের পরাজয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলছে বিশ্লেষণ। একইসঙ্গে চলছে নানা রকমের মন্তব্য আর সমালোচনা। সেলেসাওদের শিবিরেও স্পষ্টই রয়েছে হতাশার ছাপ। তাদের কয়েকজনের দেয়া মন্তব্য থেকেই তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কুতিনহো বলেন, আমরা ফাইনাল খেলতে চেয়েছিলাম। নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিয়েছি। প্রত্যেকেই নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু হয়নি। আমি জানি এখন চারিদিক থেকে সমালোচনার ঝড় বইবে। এটাই ফুটবল। জীবন চলতেই থাকবে, আপনি হারবেন বা জিতবেন। আপনাকে মেনে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দুঃখিত কারণ আমরা খুব করে জিততে চেয়েছিলাম। ব্রাজিলের সব মানুষের জন্য জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা পারিনি।

পাউলিনহো বলেন, আমার কাছে দুটি দলই (জার্মানি, বেলজিয়াম) কঠিন প্রতিপক্ষ। ২০১৪ সালের ম্যাচ সহজ ছিল না। কিন্তু এবার বেশ কঠিন ছিল। যেভাবে আমরা বিদায় নিলাম, সত্যিই দুঃখজনক। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত লড়াই করেছি। ম্যাচে আমাদেরই আধিপত্য ছিল। কিন্তু আমরা হেরেছি।

নিজে গোল না পাওয়ায় বেশ হতাশ পাউলিনহো বলেন, এটা বেশ হতাশার। আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। এমন বড় টুর্নামেন্টের জন্য অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। সবাই জানে, এটা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই স্বপ্ন।

এমন পরাজয়ের পর ৩৩ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাক মিরান্ডা এখনই অবসরে যাচ্ছেন না তা পরিষ্কার জানিয়ে বলেছেন, এই বিষয়ে কথা বলা কঠিন। কারণ এখানকার সব খেলোয়াড়ই একটি প্রজন্মের অংশ। আমি বিদায় বলছি না। কিন্তু আমি এও নিশ্চিত করছি না যে পরের বিশ্বকাপে আমি থাকবো।

এদিকে সেলেসাওদের পরাজয়কে ভাগ্যের লিখন হিসেবে দেখছেন না কোচ তিতে। তিনি বলেন, ফুটবলে অনেকসময় অনেক কিছুই হয়। তবে আমি ভাগ্যের ব্যাপারে কথা বলতে আগ্রহী নই। যেখানে আমাদের সুযোগ আছে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়ার সেখানে আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না।

বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কুর্তোয়ার ভূয়সী প্রশংসা করে তিতে বলেন। কুর্তোয়া মোটেও ভাগ্যবান ছিল না। সে দুর্দান্ত ছিল। একবার বলটা বারে লেগে ফিরেছে, এতে তো তার হাত নেই। বেলজিয়াম শক্ত দল ছিল, তারাই প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক মূল পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছিল। এটা ছিল চমৎকার কৌশলগত মানসম্পন্ন দুটি দলের মধ্যে দারুণ একটা ম্যাচ।

তিনি আরও বলেন, ফুটবলে এমন হয়, দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। আজও তেমনই হলো। এটা হয়তো বেলজিয়ানদের মনে কষ্ট দেবে। কিন্তু আমি তাদের খাটো করতে বলিনি। তারা দুর্দান্ত এক দল। তবে আমাদের সুযোগ ছিল। এই হার মেনে নেয়া কঠিন, অনেক বেশি কঠিন।

তিতে বলেন, আমরা নিজেদের মাঠে সেমি-ফাইনালে হেরেছিলাম। রাশিয়ায় কোয়ার্টার-ফাইনালে হারলাম। কিন্তু আমরা সেলেসাওদের কাছে বরাবরের মতো এবারও অনেক প্রত্যাশা করেছিলাম। পরিকল্পনা সাজানোর সময় এখন। কেন না, খারাপ না খেলা সত্ত্বেও এটা ভয়ঙ্কর ফল।

ম্যাচ সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ব্রাজিলের কোচ বলেন, আমি মনে করি এটা একটা দারুণ ম্যাচ ছিল। আমরা অনেক বল পজিশন, অনেক সুযোগ এ ম্যাচে পেয়েছিলাম কিন্তু সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বেলজিয়াম আমাদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিল। তাদের শীর্ষ মানের খেলোয়াড় আছে এবং তারা ফিনিশিংটা ভালোভাবে করল।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কথা বলতে রাজি নন তিতে। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এখনই আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলবো না। আমি এখনও ম্যাচটা নিয়ে ভাবছি, তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে বলার এটা সঠিক সময় নয়। সময়ই বলে দেবে। দুই সপ্তাহ পর যখন সবকিছু স্থির হবে, তখন ঠাণ্ডা মাথায় এ নিয়ে আলোচনা করাটাই উত্তম।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তী ফুটবলার রোনালদো বলেছেন, জাতীয় দলের জন্য এটা খুবই খারাপ ফল। আমি বিশ্বাস করি তিতে অবশ্যই থেকে যাবেন। তিনি চমৎকার কাজ করছেন। তাকে এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর কোনো কথাই বলেননি নেইমার। ‘নেইমার’ ‘নেইমার’ বলে চিৎকার করলেন ব্রাজিলের অনেক সাংবাদিক, নেইমার হাত দিয়ে চোখ ঢেকে চলে যান।

ad