আর্জেন্টিনার শক্তি কোথায় দুর্বলতা কোথায়?

Argentina
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: গতবার জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। এবারও প্রায় একই দল নিয়েই খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই এবারও তাদের ফেবারিট ভাবা হচ্ছে। যদিও বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরুতে দলটিকে বেশ ভোগান্তির মধ্যেই পড়তে হয়েছে। তবে এই দলটির সুবিধা হচ্ছে  তাদের একজন মেসি আছে যে কিনা পাল্টে দিতে পারেন পুরো চিত্র। তাছাড়া অ্যাগুয়েরো ও দিবালার উপস্থিতিও দলটির জন্য বোনাস।

তবে তাদের কিছু দুর্বলতাও আছে। গতবার ডিফেন্স সামলানো জাবালেতা নেই এবার। তাছাড়া মাসচেরানোর ফর্মও ভালো যাচ্ছে না। তারপরও দলটি ফেবারিট হিসেবেই এবার খেলতে যাবে।

আর্জেন্টিনার শক্তি যেখানে:

শুরুতেই বলেছিলাম আর্জেন্টিনার একজন মেসি আছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকাই কোচ হোর্হে সাম্পাওলির প্রধান শক্তি। স্বাভাবিকভাবেই এই তারকাকে রুখতে বিপক্ষ দলের একাধিক খেলোয়াড় ব্যস্ত থাকে। এটাই হচ্ছে তাদের বোনাস পয়েন্ট। এই সুযোগে গোল করতে পারেন অন্য খেলোয়াড়েরা।

দলটির মাঝমাঠের দায়িত্বে থাকেন মূলত ডি মারিয়া। এই তারকার ফর্ম এবার অসাধারণ। তাছাড়া দিবালা ও হিগুয়েইনও আছেন দারুণ ফর্মে। এই চার তারকাই খেলেছেন ২ থেকে তিনটি করে বিশ্বকাপ। তাই তাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারটা বেশ পোক্ত। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতাই অনেক কিছু বদলে দেয়।

এবার আর্জেন্টিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে পাভন। এই তারকার এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। তাকে আর্জেন্টিনা গোপন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। পাভন এবার লীগে বেশ উজ্জ্বল। আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই শীত প্রধান দেশগুলোতে খেলে। তাই তাদের সেখানে মানিয়ে নিতে কোনো কষ্ট হবে না।

দলটির দুর্বলতা:

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যতই শক্ত তাদের মিডফিল্ড ততই দুর্বল। যদিও ধারণা করা হচ্ছে মেসিকে মিডফিল্ডেই খেলানো হবে। তবে তাদের প্রধান সমস্যাটা হচ্ছে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে। এখানে সাধারণত খেলে থাকেন লুকাস বিগলিয়া ও মাসচেরানো। মাসচেরানো বর্তমানে তার আগের ফর্মে নেই। তিনি নিয়মিত দলে থাকেন কিনা সেটাই নিশ্চিত না। তার বদলি ম্যাক্সি মোজার অবস্থাও ভালো না।

তাছাড়া আরেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লুকাস বিগলিয়া মাত্র ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছেন। সে ফর্মে থাকলেও পুরো ফিটনেস বিশ্বকাপের আগে পাবেন কিনা প্রশ্ন আছে।

গতবার সবচেয়ে ভালো ডিফেন্স ছিল আর্জেন্টিনার। তবে এবার সব উলট পালট হয়ে গেছে। এবার আর্জেন্টিনার প্রধান দুর্বলতা হচ্ছে রাইটব্যাক। এই পজিশনে খেলা তাগলিয়াফো একদমই নতুন। মার্কাস রহো তো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। তাই এটা সাম্পাওলির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের বিষয়।

লেফটব্যাকে মার্কাদোকে দিয়ে কোনো ভরসা নেই। তার দলে থাকাটাও এটা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তবে এখানে খেলা অপর তারকা আনসালাদি মোটামুটি ফর্মেই আছেন। তবে তার অভিজ্ঞতাটা একটু কম। আর্জেন্টিনার আরেক দুর্বলতা হলো তাদের গোলকিপার। এবার ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন রোমেরো। তার জায়গায় এখন খেলবেন কাবাল্লেরো। সে উপযুক্ত তবে রোমেরোর মতো না।

এবার ডি গ্রুপে আলবিসেলেন্তসদের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, ক্রোয়োশিয়া ও নাইজেরিয়া।

গোলকিপার: নাহুয়েল গুজম্যান, উইলি কাবাল্লেরো ও ফ্রাঙ্কো আরমানি।

ডিফেন্ডার: গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো, ক্রিশ্চিয়ান আনসালদি, নিকোলাস ওতামেন্দি, ফেদ্রেরিকো ফাজিও, মার্কস রোহো, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মার্কস আকুইনা ও এদুয়ার্দো সালভিও।

মিডফিল্ডার: হাভিয়ের মাসচেরানো, লুকাস বিগলিয়া, এভার বানেগা, জিওভানি লো সেলসো, ম্যানুয়েল লানজিনি, এঞ্জেল ডি মারিয়া ও ম্যাক্সি মেজা।

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, পাওলো দিবালা, সার্জিও আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েন ও ক্রিস্টিয়ান পাভন।

ad