ফ্রান্স এগিয়ে নাকি বেলজিয়াম?

france vs belgium
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের ম্যাচে যারা জয়ী হবে তাদের হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ। তাই আজকের ম্যাচকে বলা হচ্ছে ফাইনালের আগে ‘ফাইনাল’। তাই স্বাভাবিকভাবেই আজকের ম্যাচের দিকে নজর থাকবে সবার।

ম্যাচ শুরুর আগেই জল্পনা শুরু হয়ে গেছে এই ম্যাচে কারা ফেবারিট, কে জয়ী হতে পারে। তবে এবারের বিশ্বকাপে কারা জয়ী হবে সেটা বলা কঠিন। কারণ এবার অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলো হারিয়ে দিচ্ছে শক্তিশালী দলগুলোকে। তবে খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স বিচার করলে কারা আজকে ফেবারিট তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে।

তাহলে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপে এই দুই দলের খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স।

গোলকিপার: হুগো লরিস-থিবো কর্তোয়া

এবারের বিশ্বকাপে এই দুই গোলরক্ষকেই দুর্দান্ত খেলছেন। কর্তোয়া পাঁচ ম্যাচে মোট গোল খেয়েছেন পাঁচটি। তিনি সেভ করেছেন ১৮টি। অন্যদিকে, লরিস পাঁচ ম্যাচে গোল খেয়েছেন মাত্র চারটি। তবে এর কারণ ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা। এই তারকার কাছে তারা বল আনতেই দেননি। লরিস মোট সেভ করেছেন ৯টি।

সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার: স্যামুয়েল উমতিতি-রাফায়েল ভারানে বনাম ভিনসেন্ট কোম্পানি-টবি আল্ডারওয়াইল্ড

ফ্রান্সের সেন্ট্রাল ডিফেন্স যে এবার বেশ শক্তিশালী তা বোঝা যাচ্ছে তাদের কম গোল খাওয়া দেখেই। এখানে নিজেদের দায়িত্বটা সঠিকভাবেই পালন করছেন উমতিতি ও ভারানে।  এই দুই তারকা ম্যাচপ্রতি গড়ে দৌড়েছেন সাড়ে আট কিলোমিটার করে। তারা প্রতিপক্ষ থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন ৩৯ বার। তবে এই দুইজন কর্নারে বেশ দুর্বল।

কোম্পানি আর আল্ডারওয়াইল্ড গড়ে দৌড়েছেন আট কিলোমিটার করে। তারা বল কেড়ে নিয়েছেন মোট ৩২ বার। এই দু’জনের পাসিং অ্যাকুরেসি ৮১ শতাংশ।

লেফটব্যাক-রাইটব্যাক: লুকাস হার্নান্দেজ-বেঞ্জামিন পাভার্ড বনাম জন ভেত্রোগান-থমাস মুনিয়ের

এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন ফ্রান্সের রাইটব্যাক পাভার্ড। এই তারকা ডিফেন্স সামলাতে যেমন পারদর্শী তেমনি আক্রমণ করতেও। তার পাসিং অ্যাকুরেসি ৮২ শতাংশ। লেফটব্যাক হার্নান্দেজ ডিফেন্স সামলাতেই আগ্রহী বেশি। তাকে উপরে উঠে আসতে কম দেখা যায়। তার পাসিং অ্যাকুরেসি ৮১ শতাংশ।

বেলজিয়ামের লেফটব্যাক ভেত্রোগান হেডে গোল দিতে বেশ পারদর্শী। বিশালাকার এই ডিফেন্ডার কর্নার হলেই উঠে আসেন প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে। তার পাসিং অ্যাকুরেসি ৭৯ শতাংশ।  রাইটব্যাক মুনিয়েরকে ডিফেন্সের চেয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগেই বেশি দেখা যায়। তার বল পাসিং ক্ষমতা বেশ। কোনো ভুল ছাড়াই দিয়েছেন ৮৫ শতাংশ পাস।

মিডফিল্ড: এনগোলো কান্তে-পল পগবা বনাম মারুয়ানে ফেলানি-নাসের চাদলি

পাঁচ ম্যাচে ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার কান্তে দৌড়েছেন ৫১ কিলোমিটারের বেশি! প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন ৫২ বার। ৯০ শতাংশ সময় তাঁর পাস খুঁজেও পেয়েছে সতীর্থকে। পগবার গোল বা গোলে সহায়তা নেই। তবে এবার ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার দেখা দিয়েছেন ‘অলরাউন্ডার’ হিসেবে। ৯৩ শতাংশ সফল পাস তার।

মাত্র দুই ম্যাচে শুরুর একাদশে নামা ফেলাইনি স্বাভাবিকভাবেই সব পরিসংখ্যানে পিছিয়ে। তবে ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির এই মিডফিল্ডার হেডে অনেক শক্তিশালী, জাপানের বিপক্ষে একটা গোলও আছে তার। তার ৮৫ শতাংশ পাস খুঁজে পেয়েছে ঠিকানা। চার ম্যাচ খেলেছেন, তার প্রথম তিনটিতে ডি ব্রুইনা ছিলেন মিডফিল্ডে, প্রতিপক্ষ পোস্ট থেকে অনেক দূরে। তাতে বলার মতো অবদান? একটা গোলে সহায়তা। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ওপরে খেলার সুযোগ পেয়েই গোল বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের। তবে তার পাস খুব একটা নিখুঁত ছিল না। সফল হয়েছে মাত্র ৮২ শতাংশ।

স্ট্রাইকার: আতোয়ান গ্রিজম্যান-অলিভার জিরুড-কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম এডেন হাজার্ড-রোমেলু লুকাকু-অ্যাক্সেল উইটসেল

বেলজিয়ামের ‘নাম্বার টেন’ আক্রমণে সুতাটা ধরে রাখবেন, আর ফ্রান্সের ‘নাম্বার টেন’ হয়তো তুলবেন গতির ঝড়। এমবাপ্পের ৩ গোল বলবে তাঁর স্কোরিং দক্ষতার কথা। ওদিকে হ্যাজার্ডের দুই গোল করা আর আরও দুটি করানো বলবে তার ফর্মের কথা। হ্যাজার্ড গোলে শট নিয়েছেন ৭টি আর এমবাপ্পে ৬টি।

জিরুড এবার ফ্রান্সের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন। পাঁচ ম্যাচে এই তারকা কোনো গোল না পেলেও একটি গোলে অবদান রেখেছেন। তবে তার পাসিংটা ছিল নিখুঁত। তার দেয়া ৮৬ শতাংশ বল খুঁজে পেয়েছে সতীর্থদের। বেলজিয়াম মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দুই ম্যাচে খেলিয়েছে উইটসেলকে। তবে তার গোল বা গোলে কোনো অবদান সেই। পাসিং অ্যাকুরেসি ৮০ শতাংশ।

লুকাকু বেলজিয়ামের মূল স্ট্রাইকার, গ্রিজমান খেলেন মূল স্ট্রাইকারের পেছনে। তবে গোলের প্রশ্নে বেলজিয়ামের জন্য লুকাকু যা, ফ্রান্সের জন্য গ্রিজমানও তাই। লুকাকুর ৪ গোল, গ্রিজম্যানের গোল ৩টি। তবে আক্রমণ গড়ে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গ্রিজম্যান এগিয়ে। তাঁর সফল পাস যেখানে ১২৭টি, লুকাকুর তা মাত্র ৪৮টি।

এসব দিক বিবেচনায় মনে হতে পারে ফ্রান্সই ফেবারিট। তবে ভুলে গেলে হবে না যে ২২ মাস ধরে টানা ২৩ ম্যাচে অপরাজিত আছে বেলজিয়াম। তাছাড়া এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইতেও এগিয়ে বেলজিয়াম।

ad