জার্মানির শক্তি ও দুর্বলতা যেখানে

germany
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবারও বিশ্বকাপে হট ফেবারিট হিসেবেই খেলতে যাচ্ছে। ব্রাজিলের পর এবার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তাদের। জোয়াকিম লোর এই দলের বেশিরভাগ সদস্যই গত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। মূলত এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে এই দলটির কিছু দুর্বলতাও আছে।

জার্মানির শক্তি যেখানে:

গতবারের বিশ্বকাপ খেলা বেশিরভাগ তারকাকেই নিয়ে এবার রাশিয়া যাচ্ছে জার্মানি। তাছাড়া এবার তাদের ২৭ সদস্যের দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ৭-৮ বছর ধরে খেলছে একসাথে। মূলত এটাই তাদের শক্তির মূল উৎস। দীর্ঘদিন একসাথে খেলায় তাদের মধ্যে বোঝাপড়াও বেশ ভালো। তাই এটাই তাদের প্লাস পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াবে।

জার্মানির এই দলটির মিডফিল্ড বেশ পোক্ত। মিডফিল্ডে মেসুত ওজিল, টনি ক্রুস ও রিউসের উপস্থিতি যেকোনো দলের জন্য অশনি সংকেত। তাছাড়া এই তিন তারকা বর্তমানে দারুণ ফর্মে আছেন। তাদের সহযোগিতা করার দায়িত্বে থাকবেন রিউস ও স্যামি খেদিরা।

এবার জার্মানির রাইটব্যাকে খেলবেন জশুয়া কিমিচ। সে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক। এবার বায়ার্নের সবচেয়ে উজ্বল তারকা ছিলেন তিনি। তাছাড়া ডিফেন্সে ম্যাট হামেলস তো আছেনই। এই দুই তারকা ক্লাবে একই দলের হয়ে খেলায় তাদের বোঝাপড়াটা বেশ দারুণ।

জার্মানির প্রধান গোলকিপার নয়ার এখনো পুরোপুরি ফিট না হলেও তাদের কোনো চিন্তা নেই এবার। দ্বিতীয় গোলকিপার টার স্টেগান তো এখন জীবনের সেরা ফর্মে। তাকে বোকা বানানো যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই কঠিন।

তবে জার্মানির জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও কোচ। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানির কোচের পদে আছেন জোয়াকিম লো। খেলোয়াড়দের সাথে তার সম্পর্কও ভালো। একই কোচের অধীনে দীর্ঘদিন খেলা আর অভিজ্ঞতাই অন্য দলের থেকে তাদের এগিয়ে রাখবে। যেহেতু তারা অভিজ্ঞ বড় ম্যাচের চাপ নিতেও তাদের কোনো সমস্যা হবে না।

জার্মানির দুর্বলতা যেখানে:

বরাবরের মতো এবারও কোনো তারকা খেলোয়াড় ছাড়াই খেলতে যাবে জার্মানি। তাছাড়া এবার ফর্মে নেই তাদের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মারিও গোমেজ ও টমাস মুলার। দলের অন্য দুই স্ট্রাইকার টিমো ওয়ের্নার ও সান্দ্রো ওয়েগনার বেশ তরুণ। এটাই সবচেয়ে বেশি ভোগাবে এই দলটিকে। তবে আরেক তরুণ লেরয় সানে বেশ ভালো ফর্মে আছেন।

জার্মানির জন্য আরেকটি ভোগান্তির বিষয় হচ্ছে দুর্বল লেফটব্যাক। এবার খুব সম্ভবত লেফটব্যাকে দেখা যাবে জোনাস হেক্টরকে। তবে এই তারকার পারফরমেন্স খুব একটা ভালো নয়। আরেক লেফটব্যাক প্লাটেনহার্ডেটের অবস্থাও ভালো না। তাই এই পজিশনটি নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হবে তাদের। এছাড়া জেরোম বোয়েটাংয়ের ইনজুরির কারণে এবার তাদের সেন্টার ডিফেন্সও বেশ দুর্বল।

জার্মানির ২৭ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: বেনার্দ লেনো (লেভারকুসেন), ম্যানুয়েল নয়্যার (বায়ার্ন), মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন (বার্সেলোনা) ও কেভিন ট্র্যাপ (পিএসজি)।

ডিফেন্ডার: জেরোম বোয়াটেং (বায়ার্ন), ম্যাথিয়াস জিন্টার (মুনশেনগ্লাডবাখ), জোনাস হেক্টর (কোলন), ম্যাট হামেলস (বায়ার্ন), জশুয়া কিমিখ (বায়ার্ন), মারভিন প্লাটেনহার্ডট (হার্থা বার্লিন), আন্তোনিয়ো রুডিগার (চেলসি), নিকলাস সুল (বায়ার্ন), জোনাথন বাহ (লেভারকুসেন)।

মিডফিল্ডার: জুলিয়ান ব্রান্দ (লেভারকুসেন), জুলিয়ান ড্রাক্সলার (পিএসজি), লিওন গোর্তেকা (শালকে), ইকাই গুন্দোগান (ম্যানচেস্টার সিটি), সামি খেদিরা (জুভেন্টাস), টনি ক্রুস (রিয়াল মাদ্রিদ), মেসুত ওজিল (আর্সেনাল), সেবাস্তিয়ান রুদি (বায়ার্ন) ও মার্কো রিউস (ডর্টমুন্ড)।

স্ট্রাইকার: মারিও গোমেজ (স্টুটগার্ট), থমাস মুলার (বায়ার্ন), সান্দ্রো ওয়েগনার (বায়ার্ন), টিমো ওয়ের্নার (লাইপজিগ) ও লেরয় সানে (ম্যানচেস্টার সিটি)।

ad