পাপনকে বিসিবির গঠনতন্ত্র নিয়ে চিঠি দিলেন সাবের

Papon, BCB, constitution, letter, Saber
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে ২০১২ সালে সংশোধিত বিসিবির গঠনতন্ত্র এবং সে অনুযায়ী করা কাউন্সিলর তালিকাকে অবৈধ উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ক্লাব বারিধারা ড্যাজলারসের প্যাডে সাবের হোসেন চৌধুরী এ চিঠি প্রেরণ করেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী চিঠিতে উল্লেখ্য করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী তিনি কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সভায় যোগদানের যে চিঠি তাকে বা অন্যদের দেওয়া হয়েছে, তা-ও যথাযথ নয়। কারণ, যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এসব কাউন্সিলর ঠিক করা হয়েছে এবং তার ওপর ভিত্তি করে ২০১৩ সালে বিসিবির নির্বাচন হয়েছে, সেটি অবৈধ।

চিঠিতে বোর্ড সভাপতিকে সাবের হোসেন চৌধুরী অনুরোধ করেন, বর্তমান কাউন্সিলরদের নিয়ে যেন বিসিবি বার্ষিক সভা ও বিশেষ সভা আয়োজন না করে। কারণ, সেটি হবে আদালতের রায়ের পরিষ্কার অবমাননা। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই কাউন্সিলর তালিকা অনুযায়ী বিসিবির বার্ষিক সাধারণ সভা ও বিশেষ সভা আয়োজন না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আগামী ২ অক্টোবর বার্ষিক সাধারণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বানকে আদালতের রায়ের পরিপন্থী উল্লেখ করে তা বন্ধে আইনী নোটিশ পাঠান মামলার বাদী এবং বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হোসেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, এ নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবিকে বার্ষিক ও বিশেষ সভা আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে বর্তমান বোর্ড সভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদকে তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে। আইনি নোটিশ পাওয়ার পর কি ব্যবস্থা নেয়া হলো – সেটি আগামী তিনদিনের মধ্যে না জানালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিসিবির গঠনতন্ত্র-সংক্রান্ত এক মামলায় গত ২৬ জুলাই দেওয়া আপিল বিভাগের রায় নিজেদের পক্ষে দাবি করে ২ অক্টোবর বার্ষিক সাধারণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করে ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু মামলার বাদী স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের দাবি, রায় অনুযায়ী বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পরিষদের কোনো বৈধতা নেই। সেজন্য তিনি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক জানান, ২০১২ সালে বিসিবির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী নির্বাচিত বিসিবির বর্তমান কমিটির কোনো বৈধতা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্র অবৈধ তাই ওই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত বর্তমান কমিটিও অবৈধ। তাই আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বলেছি-বিসিবি যেন কোনও কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে। সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলা হয়েছে। নয়তো এ বিষয়ে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

কিন্তু কাল নোটিশ হাতে পাওয়ার পর বিসিবির পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ বলার আইনগত কোনো অধিকার কারোর নেই বলে আমি মনে করি। এটা বলতে পারেন শুধু আদালত। আদালত বোর্ডকে অবৈধ বলেননি। তারপরও আমরা আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে দেখব এর জবাব দেয়ার দরকার আছে কি না।

জানাগেছে, বিসিবি আইনি নোটিশের জবাব না দেয়ার অবস্থান বুঝতে পারায় আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মামলার বাদী এবং বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হোসেন।

বিসিবির ইজিএম ও এজিএম (বিশেষ সাধারণ সভা, বার্ষিক সাধারণ সভা) আয়োজন করতে একটি কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। ২ অক্টোবর সভা করার সিদ্ধান্ত নেন কমিটি। আগামী নির্বাচনের দিনক্ষণও সেখানে ঠিক হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান কমিটির সঙ্গে মতের অমিল আছে এমন অনেক কাউন্সিলরই সভায় যোগ না দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।

ad