প্লে অফে হায়দরাবাদ, দারুণ খেলেও ম্যাচ সেরা নন সাকিব

shakin into orenge army
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দারুণ পারফর্মেন্সে লো স্কোরিং ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৫ রানে হারিয়ে এবারের আইপিএলে প্রথম দল হিসেবে প্লে অফ রাউন্ড নিশ্চিত করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তারপরেও সাকিব আজ ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হননি।

দলের চরম বিপদের সময় ব্যাট হাতে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে, ব্যাট হাতে মহামূল্যবান ৩৫ রান করে এবং বল হাতে কোহলি আর পার্থিবের উইকেট পাওয়ার পরেও উইলিয়ামসনের ৫৬ রানের ইনিংসকে বিবেচনায় নিয়ে তাকেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

আরও বিস্ময়কর ঘটনা হচ্ছে হেরে যাওয়া বেঙ্গালুরুর সিরাজকে দেয়া হয়েছে স্টাইলিশ প্লেয়ার অফ দ্যা ডে’র পুরস্কার! সেখানে আজকের ম্যাচের মধ্যমণি সাকিবের কিছুই জুটল না।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ইডেনের মাঠে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং এই তিন ডিপার্টমেন্টে জ্বলে ওঠার পরেও ম্যাচ সেরা হননি সাকিব। তাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছিল ব্যাপক সমালোচনা।

ওই ম্যাচে সাকিব ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট পান এবং একটি ক্যাচ ধরেন ফিল্ডিং করার সময়। একইসঙ্গে ব্যাট হাতে করেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২১ বলে ২ চার ও ১ ছক্কার মারে ২৭ রান। তারপরেও আশ্চর্যজনকভাবে ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট পাওয়া স্ট্যানলেকের হাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে, যার ব্যাট হাতে কোনো ভূমিকাই ওইদিন ছিল না।

সোমবার (৭ মে) রাতে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। জবাবে অরেঞ্জ আর্মিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৬ উইকেটে ১৪১ রানেই থামতে বাধ্য হয় বেঙ্গালুরু।

আগে ব্যাট করা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ইনিংসের শুরুতেই বিপদে পড়ে হায়দরাবাদ। মাত্র ৪৮ রানের মধ্যে হেলস, ধাওয়ান ও মানিশ পান্ডেকে হারিয়ে চাপে পড়ে সাকিবের দল।

এরপর চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। উইলিয়ামসন তুলে নেন তার ফিফটি।

তারপর আবারও ব্যাটিং ধসের সম্মুখীন হয় অরেঞ্জ আর্মিরা। শেষ ২৫ বলে মাত্র ২৪ রান যোগ করে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানেই থাবে হায়দরাবাদের ইনিংস। উইলিয়ামসন ৩৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ এবং সাকিব ৩১ বলে ৫ চারের মারে ৩৫ রান করেন।

কিন্তু দলের ছয়জন ব্যাটসম্যান দুই অংকের কোঠায় রান করতে ব্যর্থ হয়। তাই সাকিবদের বল হাতে এমনিতেই বিশেষ কিছু করে দেখাতেই হতো।

বেঙ্গালুরুর দলীয় ২৪ রানে পার্থিব প্যাটেলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে দলের হয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু আনেন সাকিব। এরপর একের পর এক ক্যাচ মিস, বাজে ফিল্ডিং আর কোহলির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে হারতেই বসেছিল হায়দরাবাদ। ভোহরাকে দলীয় ৬০ রানে সন্দীপ শর্মার বলে বোল্ড হন।

২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ফেলা সাকিব তৃতীয় ওভারেও মার খাচ্ছিলেন কোহলির কাছে। কিন্তু আহত বাঘ যেন পণ করেছিল উইকেট নিয়েই ছাড়বে। সাকিবের করা তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে কোহলি শর্ট থার্ডম্যানে ইউসুফ পাঠানের এক হাতের অসাধারণ ক্যাচে আউট হয়ে ফেরেন ৩৯ রান করে। তখনই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে সাকিবরা।

এরপর দ্রুত ডি ভিলিয়ার্স এবং মইন আলীকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বেঙ্গালুরু। তাদের দুইজনের উইকেট নেন রশিদ খান এবং কাউল। পড়ে মান্দিপ সিং আর গ্র্যান্ডহোম চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ডেথ ওভারে অরেঞ্জ আর্মিদের অসাধারণ বোলিংয়ের ফলে তারা আর সুবিধা করতে পারেনি। ফলে ৫ রানের নাটকীয় জয় পায় হায়দরাবাদ।

ad