বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি যে তারকারা

stars-not-picked-for-wc
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: একজন খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে বিশ্বকাপ খেলা, বিশ্বকাপ জেতা। ক্লাব ফুটবলে সে যতই নাম কামাক না কেন দেশের মানুষ কিন্তু তাকে মনে রাখবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সে কি করেছে তা দিয়ে। আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশকে কিছু এনে দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ বিশ্বকাপ। তবে এই বিশ্বকাপের দলের জায়গা পাওয়াটা খুব কঠিন। ক্লাবের হয়ে অসাধারণ পারফরমেন্স করেও অনেকে জায়গা পাচ্ছেন না জাতীয় দলে। এই ধরুণ এবার যেমন ক্লাবের হয়ে বেশ উজ্জ্বল থাকা মাউরো ইকার্দি ও লেরয় সানের জায়গা হয়নি বিশ্বকাপে।

শুধু ইকার্দি ও সানে নয় এমন বেশ কয়েকজন তারকা আছেন এবার যারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেননি। দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু খেলোয়াড়কে যারা ক্লাব মাতালেও জায়গা পাননি বিশ্বকাপের দলে।

মাউরো ইকার্দি: আর্জেন্টিনা মানেই একঝাক স্ট্রাইকার। তাদের দলে মিডফিল্ডারের অভাব থাকলেও স্ট্রাইকারের কোনো অভাব কখনোই হয়নি। এবারও নেই। আর এই একঝাক স্ট্রাইকারের একজন ছিলেন ইকার্দি। মৌসুমে এবার ক্লাবের হয়ে ৩৮ ম্যাচে ৩০ গোল করেও মন জয় করতে পারেননি জাতীয় দলের কোচ সাম্পাওলির।

লেরয় সানে: এবারের ইংলিশ লীগের সেরা তারকাদের একজন জার্মান মিডফিল্ডার লেরয় সানে। মিডফিল্ডার হলেও স্ট্রাইকারের ভুমিকাটাও সমান তালে পালন করতে পারেন তিনি। ম্যানচেষ্টার সিটির হয়ে এবার ৫২ ম্যাচে ১৪ গোল ও ১৮ গোলে অবদান রেখেছেন। এরপরও বিশ্বকাপের দলে জায়গা হয়নি তার।

আলভারো মোরাতা: স্পেনের এই তারকা এখন খেলছেন চেলসিতে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা চেলসির হয়ে ২৮ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। তার পারফরমেন্সও যথেষ্ট ভালো। তবে কোচের মন ভরাতে পারেননি তিনি।

ওয়েইন রুনি: ইংল্যান্ডের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন তিনি। এখন খেলছেন এভারটনের হয়ে। গত বিশ্বকাপে খেলা এই তারকা এবার জায়গা পাননি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। একার ইংলিশ লীগে তিনি করেছেন মোট ১১ গোল।

রাদজা নাইঙ্গোলান: বর্তমান সময়ের সেরা মিডফিল্ডারদের একটি তালিকা করা হলে তাতে সহজেই ঢুকে যাবেন রাদজা। এ মৌসুমে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার দুর্দান্ত পারফম্যান্সের অন্যতম কারিগরও ছিলেন এ বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। তবে বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজ এতেও খুশি নন। তার আরও বেশি কিছু দরকার ছিল।

ডেভিড লুইজ: মাত্র তিন বছর আগে সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে গোনা হতো লুইজকে। বর্তমানেও বেশ ভালোই ফর্মে আছেন তিনি। তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা হয়নি। কোচ তিতে তার চাইতে মারকুইনহোসকেই বেশি ভালো মনে করেছেন।

আলেকজান্ডার লাকোজেত্তি: ফ্রান্সের সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার তিনি। এবারের মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে খেলেছেনও দুর্দান্ত। ৪৩ ম্যাচে এই তারকা করেছেন ১৯ গোল। তবে দুঃখজনকভাবে ফ্রান্স দলে জায়গা হয়নি তার।

জো হার্ট: ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের গোলরক্ষক গত বিশ্বকাপে ছিলেন দলের প্রথম পছন্দ। কিন্তু এরপরই ফর্ম হারাতে থাকেন তিনি। এ বছর মোটে আটটি ম্যাচ খেলেছেন হার্ট। আর তাই ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট দলে নেননি ইংল্যান্ডের একসময়ের নিয়মিত এই সেনানীকে।

মারিও গোৎজে: গতবার শেষ সময়ে তার গোলেই বিশ্বকাপ জিতেছিল জার্মানি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস চার বছর পরের বিশ্বকাপে তিনিই নেই। কোচ জোয়াকিমকে পালফরমেন্সে এবার খুশি রাখতে পারেননি তিনি।

অ্যান্থনি মার্শিয়াল: তার দলে জায়গা না হওয়াটা একটা চমক। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি মার্শিয়াল গত ইউরোতেও ফ্রান্স দলে ছিলেন। এরপর নিয়মিত ফ্রান্সের হয়ে বাছাইপর্বের ম্যাচও খেলেছেন। তবে কেন জেন দেশম তাকে বিশ্বকাপ দলে রাখেননি।

এছাড়াও এবার বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি ফ্রান্সের করিম বেনজেমা, অদ্রিয়ের রাবিওট, স্পেনের ফার্নান্দো তোরেস, মার্কাস আলানসো, ব্রাজিলের ফ্যাবিনহো, অস্কার, আর্জেন্টিনার ইজিকুয়েল লাভেজ্জির মতো তারকাদের।

ad