বিশ্বকাপের ‘গোপন অস্ত্র’ যারা

world cup russia
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রত্যেক বিশ্বকাপেই দলগুলো এম কিছু খেলোয়াড় নিয়ে যায় যারা এখনো খ্যাতি পায়নি। যাদের সম্পর্কে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ধারণা একটা কম। এসব খেলোয়াড়কেই বলা হয় ‘গোপন অস্ত্র’ বা ‘তুরুপের তাস’। প্রত্যেক বিশ্বকাপের মতো এবারও এমন কিছু অপরিচিত মুখ আছে যাদের গোপন অস্ত্র হিসেবেই ব্যববহার করবে দলগুলো।

দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু খেলোয়াড়কে:

pavon

ক্রিশ্চিয়ান পাভন (আর্জেন্টিনা): ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে পাভন এখনো অতটা পরিচিত নাম নয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে বেশ নামডাক তার। এর কারণ বোকা জুনিয়র্সের এই ফুটবলারের মধ্যে ‘স্পেশাল’ কিছু গুণ আছে। উইঙ্গার হিসেবে দুই প্রান্তেই সমানে খেলতে পারেন ২২ বছর বয়সী এ তরুণ। আবার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও ভয়ংকর সে। দ্রুতগতির ক্রিস্টিয়ান পাভনের রয়েছে দূরপাল্লার শট নেয়ার ক্ষমতা। ডিফেন্স চেরা পাস দিতেও পারদর্শী পাভন এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৪ ম্যাচ খেলেছেন। এই চার ম্যাচেই তার গুণে মুগ্ধ কোচ সাম্পাওলি।

ধারণা করা হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা মেসি, অ্যাগুয়েরো ও ডি মারিয়াকে রুখতেই ব্যস্ত থাকবে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে পারবে পাভন। তার দিকে কেউ বিশেষ নজর দেবে না। তার যে গতি তাতে বেশ সুবিধাই পাবে আর্জেন্টিনা।

Timo werner

টিমো ওয়ের্নার (জার্মানি): জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে তরুণ টিমো ওয়ের্নার। মাত্র ২২ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারকে মিরোস্লাভ ক্লোসার উত্তরসূরি বলা হয়। ২০১৭ সালে অভিষেক হয় এই তরুণের। ওই বছর জামানিকে করফেডারেশন কাপ জেতাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তার। টুর্নামেন্টে তিন গোল করে তিনি জিতে নেন গোল্ডেন বুটও।

স্টুটগার্ডের এই খেলোয়াড় এবারে মৌসুমে করেছেন ১৮ গোল। তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো পরিচিত মুখ হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। এই তরুণ যেমন গোল করতে পারদর্শী তেমনি গোল করাতেও। উইঙ্গার হলেও দলের প্রয়োজনে সামলাতে পারেন মিডফিল্ড। দেশের হয়ে ১২ ম্যাচে ৭ গোল করা এই তরুণই হবে জার্মানির তুরুপের তাস।

rodrigo

রদ্রিগো (স্পেন): যারা নিয়মিত ফুটবল দেখেন তারাও হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন এই রদ্রিগোটা কে? এবারের স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক তিনি। সেস্ক ফেব্রেগাসের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। ব্রাজিলে জন্ম হলেও ফুটবলের জন্য তিনি বেছে নেন স্পেনকে। এখন খেলছেন লা লিগার ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে।

এবারের মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ১৯ গোল করেছেন তিনি। স্পেনের হয়ে ২০১৪ সালে অভিষেক হলেও মাত্র ৪ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এতদিন কস্তা ও ফ্যাব্রেগাসদের জন্য দলে জায়গা হয়নি তার। তবে এবার ফ্যাব্রেগাস বাদ পড়ায় ও কস্তা ফর্মে না থাকায় বিশ্বকাপে সুযোগ হয়েছে তার।

fred

ফ্রেড (ব্রাজিল): এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে যাবে ব্রাজিল। এবার তাদের দলটা এতটাই ব্যালেন্স যে ২ মাস আগেই কোচ মূল দল গঠন করে রেখেছিল। এই দলেরই অন্যতম সদস্য ফ্রেড। মাত্র ২৫ বছর বয়সী ফ্রেড এখন খেলছেন তুরস্কের ক্লাব শাখতার দোনেস্কের হয়ে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল দলে প্রথম জায়গা পান এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এরপর ৪ বছরে শুধু সাতটি ম্যাচই খেলতে পেরেছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় দুই তারকা নেইমার ও কুতিনহো। প্রতিপক্ষের নজরটা থাকবে তাদের দিকেই। এরপর আবার সামলাতে হবে উইলিয়ান ও ফিরমিনোকে। মূলত এই সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্যই নেয়া হয়েছে অখ্যাত এই মিডফিল্ডারকে।

Nabil

নাবিল ফকির (ফ্রান্স): এবার একঝাক তরুণকে নিয়ে দল গঠন করেছে ফ্রান্স। এই তরুণদের প্রায় সবই স্টার। বিশেষ করে ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পে ও ২১ বছরের ডেম্বেলে তো রীতিমতো সেনসেশন হয়ে গেছেন। এই তরুণদের মধ্যেই একজন নাবিল ফকির। তার নাম খুব একটা পরিচিত নয় কারো কাছে। তবে এই তরুণ দলে জায়গা নিতে লাকোজেত্তির মতো তারকাকে পেছনে ফেলেছেন।

ফ্রান্সের হয়ে মাত্র ১১ ম্যাচ খেলেছেন এই উইঙ্গার। খেলেন ফ্রান্সের ক্লাব অলিম্পিক লিওনের হয়ে। মূলত দ্রুত গতি আর দূরপাল্লার শটের জন্য কোচ দেশমের নজরে পড়েন তিনি। তবে এই তরুণ উইঙ্গার হলেও অ্যাটকিং মিডফিল্ডে খেলতে সমান পারদর্শী। এবার বিশ্বকাপে দেশমের গোপন অস্ত্র হবেন তিনিই।

ad