ব্যাটিং ব্যর্থতায় আফগানদের কাছে টাইগারদের বড় হার

topple 2
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

রবিবার (৩ জুন) রাতে সাড়ে ৮টায় দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান শেষ ৩ ওভারে ঝড় তুলে ৫২ রান যোগ করে ৮ উইকেটে ১৬৭ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরিচয় দিয়ে ১ ওভার হাতে থাকতেই ১২২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান তাদের ইনিংসের শুরুতে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায়। শাহজাদ এবং ঘানির ৬৪ রানের জুটি ভাঙে রুবেল হোসেনের বলে। তার বলে ২৬ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন উসমান ঘানি।

দলের হয়ে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান। তার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রিয়াদের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন শাহজাদ।

১৪তম ওভারে বল হাতে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে চালকের আসনে বসিয়েছিলেন মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। নিজের করা একমাত্র ওভারে রিয়াদ মাত্র ১ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন নাজিবুল্লাহ জাদরান এবং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর মূল্যবান উইকেট। তারপরও সাকিব কেন তাকে বল দেননি, তা এক বিস্ময়কর বিষয় হয়ে থাকল। যার মাশুল আজ দিয়েছে টাইগাররা।

১৭ ওভারে আফগানদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১১৫ রান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তাদের অল্প রানে বেঁধে রাখার দিকেই যাচ্ছিল টাইগার বোলাররা। কিন্তু রাহির করা ১৮তম ওভারে শিনওয়ারি ২০ রান তুলে নেন। যদিও একই ওভারের শেষ বলে ডিপ মিড উইকেটে মোসাদ্দেকের হাতে তিনি ধরা পড়েন। তার আগে অবশ্য দলের জন্য যা করার তিনি করে যান।

১৮ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে রাহির বলে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েছেন শিনওয়ারি।

১৯তম ওভারে রাহি দেন ১৩ রান। তাতে ভালো স্কোরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে আফগানিস্তান। রাজুর তার করা শেষ ওভারে ২ উইকেট পেলেও রান দেন ৩ ছক্কায় ১৮। আফগান ব্যাটসম্যান শফিকুল্লাহ ৮ বলে ৩ ছক্কায় করেন ২৪। আর তাতে ১৬৭ রানের বড় স্কোর পায় আফগানিস্তান।

বাংলাদেশ তাদের ইনিংসের শুরুতেই হারায় তামিম ইকবালকে। তাকে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ দেন মুজিব উর রহমান। দ্বিধা নিয়ে ফুল লেংথ বল খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তামিম।

চতুর্থ ওভারে বোলিং এসে আঘাত হানেন নবী। তাকে মাথার ওপর দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন সাকিব। স্টাম্পের অনেক বাইরের বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে আকাশে উঠে যাওয়া গ্লাভসে জমান শাহজাদ। তাতে ১৫ বলে ১৫ রান করে ফেরেন সাকিব।

মোহাম্মদ নবীর বলে রিভার্স হিটে শর্ট থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন লিটন। ব্যাটে খেলতে পারেননি। আম্পায়ার নবীর আবেদনে সাড়া দিয়ে এলবিডব্লিউ দেন, যদিও ইম্প্যাক্ট ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। ফলে ২০ বলে ৩০ রান করে ফিরেন লিটন।

রশিদ খানের প্রথম বলেই রিভার্স সুইপ করে ব্যাটে খেলতে পারেননি মুশফিক। ব্যাটের কানা ফাঁকি দিয়ে এলোমেলো করে দেয় তার স্টাম্প। ১৭ বলে ২০ রান করে ফিরে যান মিডল অর্ডারের এই ব্যাটিং ভরসা। তাতে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

ঠিক তার পরের বলেই এসেই শর্ট বল পেয়ে হাঁকাতে চেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। বড় দেরিতে টের পেলন বলটা গুগলি। ডিফেন্স করার চেষ্টা করেও লাভ হল না, হয়ে গেলেন এলবিডব্লিউ। ফলে তামিম ইকবালেল পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান সাব্বির।

মোসাদ্দেক হোসেন বাউন্ডারি হাকানোর জায়গায় খেলে যাচ্ছিলেন একের পর এক ডট বল। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট পান রশিদ খান। ২৩ বলে ১৩ রান করে ফিরে যান মোসাদ্দেক।

আগের বলে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চার পেয়েছিলেন হাসান। পরের বলটি বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ইয়র্কার বানিয়ে ফেলেন। তার মাশুল দেন বোল্ড হয়ে।

এক ওভারে শাপুর নেন তিন উইকেট। আবুল হাসানের পর ও রিয়াদকে ফেরান তিনি। ২৫ বলে ৩০ রান করে উসমান গনির হাতে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ। রুবেল হোসেনকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। স্টাম্প ছেড়ে তার ওপর চড়াও হতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান রুবেল। তিনি এই ম্যাচে গোল্ডেন ডাক পাওয়া তৃতীয় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান।

রাহি আউট হন করিম জানাতের বলে রশিদ খানের দারুণ ক্যাচে। তাতে ১২২ রানে থামে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ে তারা ১-০ তে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে।

৩ ওভারে মাত্র ১৩ রাণ দিয়ে ৩ উইকেট পেয়ে ম্যাচ সেরা রশিদ খান।

ad