ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে যে ১০ জন

messi neymar modric ronaldo
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে গনণা করা হয় ব্যালন ডি’অরকে। ১৯৫৬ সালে প্রচলন হয়েছিল এই পুরস্কারের। প্রতি বছর বর্ষসেরা ফুটবলারকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। প্রত্যেকবারের মতো এবারও ব্যালন ডি’অর দেয়া হবে বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে। তবে বিশ্বকাপের বছর বলে এবারের ব্যালন ডি’অরটা একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা গত ১০ বছর যাবত হচ্ছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মধ্যে। এই দুই তারকাই ১০ বছরে ৫ বার করে পেয়েছেন এই পুরস্কার। এবারও এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে যথারীতি আছেন এই দুই তারকা। তবে এবার তাদের সাম্রাজ্যে হানা দিয়েছেন লুকা মদ্রিচ, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আতোয়ান গ্রিজম্যান।

ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তালিকা প্রকাশ না করলেও পারফরমেন্সের বিচারে এগিয়ে আছে ১০ জন। দেখে নেওয়া যাক এ বছর কারা এগিয়ে আছে।

১০. নেইমার জুনিয়র: মৌসুম শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল এবার মেসি-রোনালদোকে টেক্কা দিবেন নেইমার। কিন্তু ইনজুরির কারণে তিনি তা পারেননি। টানা আড়াই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। তবুও অবশ্য ক্লাবের হয়ে ৩১ ম্যাচ থেকে করে ফেলেছেন ২৯ গোল। তার গোলে অবদান ১৬টি। বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে ফর্ম না থাকা সত্বেও করেছেন দুই গোল।

৯. এডিনসন কাভানি: পিএসজির এই স্ট্রাইকার গতবারও ছিলেন সেরা দশে। তবে সেরা তিনে তিনি জায়গা পাননি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকা ক্লাবের হয়ে ৫১ ম্যাচ থেকে করেছেন ৪০ গোল। গোলে অবদান ৭টি। বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল। তার দল বাদ পড়েছে সুপার এইট থেকে। তবে ইনজুরিতে পড়ায় ওই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি তিনি।

৮. এডেন হ্যাজার্ড: চেলসির হয়ে এবারের মৌসুমটা ভালো যায়নি হ্যাজার্ডের। ৪৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৭ গোল। তবে বিশ্বকাপে তার পারফরমেন্স দারুণ। বেলজিয়ামকে তৃতীয় করাতে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।  সাত ম্যাচে চার গোল করা এই তারকাও থাকবেন ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে।

৭. কেভিন ডি ব্রুইনি: স্বপ্নের একটি মৌসুম যাচ্ছে ব্রুইনির।  ক্লাবের হয়ে এবারের মৌসুমে মোট ৫৩ ম্যাচ খেলা ব্রুইনি গোল করেছেন ১৩টি। তার গোলে অবদান আছে ২০টি। বিশ্বকাপে তার দল হয়েছে তৃতীয়।  সেখানে তার অবদান ছিল যথেষ্ট। তবে বিশ্বকাপে একটিই গোল করতে পেরেছেন তিনি।

৬. হ্যারি কেইন: টটেনহ্যামের এই তারকা মৌসুম শুরুর দিকে ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রবল দাবিদার ছিলেন। তবে মৌসুমের মাঝখানে ইনজুরির কারণে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে না পারায় বেশ পিছিয়ে যান তিনি। এই তারকা ক্লাবের এবার ৫০ ম্যাচ থেকে ৪২ গোল করেছেন। এছাড়া পাঁচটি গোলে অবদান আছে তার। বিশ্বকাপে ছয় গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। ইংল্যান্ডকে সেমিতে তোলায় তার অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি।

৫. আতোয়ান গ্রিজম্যান: ২০১৬ সালে ব্যালন ডি’অরের প্রবল দাবিদার ছিলেন তিনি। তবে ইউরোর ফাইনালে হারায় তাকেও পুরস্কারটি হারাতে হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছে। এবার ক্লাবের হয়ে কোনো শিরোপা জিততে না পারলেও জিতেছেন বিশ্বকাপ। তাই তাকেও সেরা দশে জায়গা দিয়েছে বিশ্লেষকরা। ক্লাবের হয়ে তার মোট গোল ২৩টি। বিশ্বকাপে করেছেন৩ গোল। মোট গোলে অবদান ৮টি।

৪. কিলিয়ান এমবাপ্পে: ১৯ বছর বয়সী বিশ্বকাপ জেতা এই তরুণ এবার পারফরমেন্সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগেও কেউ ভাবেনি ব্যালন ডি’অরের ছোট তালিকায় তার নাম আসবে। তবে বিশ্বকাপের পর এখন এই পুরস্কারের প্রবল দাবিদার তিনি। এবারের মৌসুমে প্যারিসের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ২১ গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে তার গোল চারটি। জিতেছেন মোট তিনটি শিরোপা।

৩. লুকা মদ্রিচ: রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার এবার বিশ্বকাপে দারুণ পারফরমেন্সের জন্য জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন বল।  এবারের মৌসুমে ৭ গোল করা মদ্রিচ বিশ্বকাপের রানারআপ হওয়ার পাশাপাশি জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপাও। তাছাড়া এই তরকার রয়েছে ১২ গোলে অবদান। সব মিলিয়ে ব্যালন ডি’অরের প্রবল দাবিদার তিনি।

২. লিওনেল মেসি: ব্যালন ডি’অর জয়ে আর্জেন্টাইন এই তারকা থাকবেন না এটা অসম্ভব। গত কয়েক বছর ধরেই পুরস্কারটা ভাগ হয় তার আর রোনালদোর মধ্যে। তবে এবার পারফরমেন্স বিচারে এখন রোনালদোর চেয়ে একটু পিছিয়ে আছেন তিনি। ক্লাবের হয়ে ৫৬ ম্যাচ খেলা এই তারকা করেছেন ৪৯ গোল। এই তারকার আছে ১৮টি গোলে অবদান। বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচ থেকে একটি গোল ও দুইটি গোল অবদান রাখতে পেরেছেন তিনি।

১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেননি রোনালদো। এরপর ছিলেন না ফর্মে। তবে শেষদিকে দারুণ পারফর্ম করে এবারও ব্যালন ডি’অরের জোর দাবিদার তিনি। ৪৫ ম্যাচ থেকে তার গোল ৪৪টি। অবদান আছে ৮ গোলে। বিশ্বকাপে এক হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ৪ গোল।  তার দল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এখনও তিনিই এগিয়ে।

ad