মাশরাফি টেস্টে ব্যাটসম্যান নাকি বোলার হিসেবে আসতে চায়?

mash papon
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: দুইদিন আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আরও দুই বছর টেস্ট খেলার সামর্থ্য আছে বলে জানিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে টেস্টে ফিরলে তার ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে বিস্ময়কর প্রশ্ন তুলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন সে কি হিসেবে আসতে চায়, ব্যাটসম্যান না বোলার? এটা বড় প্রশ্ন।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলের ফাইনাল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি জানি না, ও টেস্টে ফিট কি না! কোথায় কোন দেশে টেস্ট খেলবে সে? দেশের বাইরে? তাহলে প্রতিদিন ওকে মিনিমাম ২০ থেকে ২৫ ওভার বোলিং করতে হবে। তবে আমাদের এ নিয়ে ধারণা নেই। যদি মনে করেন আমাদের দেশে খেলা, তাকে দিয়ে মাত্র ২ বা ৩ ওভার করাব, সেটা ভিন্ন বিষয়।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, সে যদি ফিট থাকে, যেকোনো সংস্করণেই তার খেলা উচিত। তার মতো খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে খেলাটা তার এবং ফিজিওর ওপর নির্ভর করছে। ও বলছে পারবে। তাহলে তো আমাদের কিছু বলার নেই। ফিজিও যদি অনুমতি দেয় আর ও যদি বলে পারবে তাহলে অবশ্যই স্বাগত জানাব।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমাদের ধারণা, সে যদি ওয়ানডে খেলতে পারে টি-২০ ও খেলা উচিত। ১০ ওভার যদি করতে পারে, ৪ ওভারও তার করা উচিত। এ কারণে তাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তখন সে আগ্রহ দেখায়নি। আমরা ধরে নিচ্ছি তার আগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল বিসিএলের খেলার ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, বয়স ৩৫ এর কাছে গেলেও যে ফিটনেস আছে তাতে আরও দুই বছর টেস্ট খেলার সামর্থ্য আছে আমার। বিশেষ করে ফিটনেস যে অবস্থায় আছে তাতে পারবো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, পারফর্ম করে তো খেলতে হবে। এর জন্য তো আমার একটা উপায় বের করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু নতুন বলে বোলিং করলে হবে না। ওয়ানডের মতো টেস্টে আক্রমণ করে উইকেট নেওয়া যায় না। এখানে উইকেট বের করতে আপনাকে উপায় বের করতে হবে। আর নতুন বলের পর পুরান বলে আরও লম্বা সময় খেলা হয়। সেই সময়ে বোলিং করার উপায় বের করতে হবে। তার জন্য পথ বের না করে কিছু বলা কঠিন।

টেস্টে ফেরার জন্য কি করণীয় সেই প্রসঙ্গে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, টেস্টে পুরোনো বলে অনেকটা সময় বোলিং করে যেতে হবে, ওখানে তো একটু কাজটাজ করার ব্যাপার আছে। এখানে একটা ম্যাচে যদি ২৫-৩০ ওভার বোলিং করি, তাহলে আমার চার-পাঁচ সপ্তাহের বোলিংয়ের কাজটা হয়ে যায়। আমি ওই মানসিকতা থেকেই খেলি। লম্বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে তখন আমি বুঝতে পারব কি পথ বের হবে।

এদিকে, ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত নয় জানিয়ে পাপন বলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিশ্চিত ভালো করবে, এটা বলা কঠিন। এখন বাংলাদেশ ভালো খেলছে। কিন্তু বাংলাদেশের চেয়ে অনেক দলই ভালো খেলছে। জিততে হলে দুটি জিনিস দরকার- ভালো খেলোয়াড় আর ভালো দল। ভালো খেলোয়াড় আছে কিন্তু আমাদের পুরো দল এখনো প্রস্তুত নয়। সেদিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছি অনেক দল থেকে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বেশির ভাগ সাফল্য দেশে বা উপমহাদেশে। উপমহাদেশের বাইরে খুব বেশি সাফল্য পাইনি। যেহেতু বিশ্বকাপটা উপমহাদেশের বাইরে, কি করা উচিত আমরা জানি, চেষ্টা করবো। তবে সাফল্য নির্ভর করছে আমাদের ছেলেরা কেমন করছে আর প্রতিপক্ষ কেমন করছে সেটির ওপর। এটা একদিনের খেলা। যেদিন যে ভালো খেলবে সে জিতবে। তবে বাংলাদেশের উন্নতির অনেক জায়গা আছে।

ad