রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের হালচাল

world cup group a
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপ। এই আসরের ট্রফিটি সবার কাছেই এক অমূল্য রতন। আর মাত্র ১০ দিন পর রাশিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। পছন্দের দলগুলো গ্রুপ পর্বে কেমন করবে কিংবা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো কেমন করবে এ নিয়ে ভাবনার শেষ নেই।

৩২ দল খেলবে ৮ গ্রুপে ভাগ হয়ে । গ্রুপ ‘এ’ তে স্বাগতিক রাশিয়ার সঙ্গে আছে মিশর, সৌদি আরব ও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। দেখে নেয়া যাক ‘এ’ গ্রুপের চালচিত্র।

এই গ্রুপের দলগুলোর মধ্যে নামে ভারে কিছুটা এগিয়ে উরুগুয়ে। বাকি তিন দলের শক্তিমত্তা প্রায় সমান। তাই ফেভারিট তকমা হায়ে নেই কারো। ১৪ জুন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ।

উরুগুয়ে (ফিফা র‍্যাংকিং- ১৭)

ফুটবল খেলার প্রচলনের সময় থেকেই দাপট দেখানো শুরু উরুগুয়ের। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়নও তারা। জিতেছে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপও ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে।  মোট ১২টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়েও দারুণ খেলছে তারা।

বার্সেলোনা তারকা লুইস সুয়ারেজ নিঃসন্দেহে দলের সেরা তারকা। এছাড়াও পিএসজি তারকা এডিসন কাভানিও কম যান না। এ দুই তারকা জ্বলে উঠলে অনেক দূর যেতে পারে লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে। দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগও বেশ শক্তিশালী। আছেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের দিয়াগো গডিনের মতো ডিফেন্ডার।

রাশিয়া (ফিফা র‍্যাংকিং- ৬৬)

‘এ’ গ্রুপে উরুগুয়ের পর স্বাগতিক রাশিয়ার বিশ্বকাপ ঐতিহ্যটা সমৃদ্ধ। তবে খুব একটা যে টইটুম্বুর, তাও নয়। ১১টি বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। ১৯৬৬ সালে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়ন নামে শেষ চারে উঠতে পারাই হয়ে আছে সেরা সাফল্য। সেবার রাশানদের অতোদূর টেনে নেওয়ার কারিগর ছিলেন কিংবদন্তী গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিন।

ইয়াসিনের পথ ধরে এবারও একজন গোলরক্ষকই তাদের তুরুপের তাস। স্বাগতিকরা তাকিয়ে থাকবে সিএসকেএ মস্কোর গোলরক্ষক ইগোর আকিনফেভের দিকে। দলের অধিনায়ক ও অভিজ্ঞও এই খেলোয়াড়। এছাড়াও তার ক্লাব সতীর্থ অ্যালেক্সান্ডার গোলোভিনও বদলে দিতে পারেন পাশা। আর স্বাগতিক হওয়ার কারণে বাড়তি সুবিধা তো তারা পাচ্ছেই। ঘরের চেনা মাঠে থাকবে ভরপুর গ্যালারির সমর্থন। রাশিয়া বিপদজনক হতে পারে যেকোন প্রতিপক্ষের জন্য।

মিশর (ফিফা র‍্যাংকিং- ৪৬)

আফ্রিকা থেকে মিশরই সবার প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল। তাও সেটা ১৯৩৪ সালে। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ঠাঁই হয়েছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে। আরেকটা লম্বা ঘুম দিয়ে মিশরের ফুটবল ইতিহাসে যোগ হয়েছে নতুন পালক। ৩৮ বছর পর মিশরকে বিশ্বকাপে এবার নিয়ে এসেছেন লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ। ‘এ’ গ্রুপের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকাও বলা যায় তাকে। কিন্তু দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফুটবলার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পাওয়া চোটে আছেন মাঠের বাইরে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে বিশ্বকাপের মূলপর্বে পাওয়ার আশা মিশর দলের চিকিৎসকের।

সালাহ সেরে উঠলে এই গ্রুপে মিশরকে নিয়ে বাজি ধরতে চাইবেন যে কেউ।

সৌদি আরব (ফিফা র‍্যাংকিং- ৬৭)

এই গ্রুপে নামে ভারে সবচেয়ে দুর্বল দল সৌদি আরব। তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসও তেমন ঝলমলে নয়। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার পর টানা চার আসরে ছিল এশিয়ার দেশ সৌদি আরব। খেলতে পারেনি ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে। এক যুগ পর বিশ্বকাপে ফেরা সৌদি অঘটন ঘটিয়ে পালটে দিতে পারে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার সমীকরণ।

তাদের সেরা খেলোয়াড় আবু নাসেরের স্ট্রাইকার মোহাম্মদ আল সাহলাউই দুর্দান্ত খেলেছেন বাছাই পর্বে। দিয়েছেন ১৬ গোল। পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডস্কি এবং আরব আমিরাতের আহমেদ খলিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাছাই পর্বের সেরা গোল দাতাও তিনি। বিশ্বকাপেও তার পা জোড়ার দিকে তাকিয়ে সৌদির মানুষ। এছাড়া আল ইত্তিহাদ তারকা ফাহাদ আল মুয়ালেদও দেখাতে পারেন ঝলক।

ad