লিটন দাস আপনাকে ধন্যবাদ

liton das
ad

রিয়াজুল ইসলাম শুভ: অ্যান্টিগা টেস্টে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়ে টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যৌথভাবে টেস্ট ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ায়  স্বাভাবিকভাবেই এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পারফর্মেন্স। 

ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সাদা পোশাকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বাউন্স বল খেলতে না পারা নিয়ে আলোচনা আর বিশ্লেষণ। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৮ বছর পর এমন লজ্জার ব্যাটিং প্রদর্শনী নিয়ে চলছে ময়নাতদন্ত। রোচ-কামিস-হোল্ডারদের বাউন্স সামলাতে না পারায় তাদের সামর্থ্য নিয়েও চলছে কাটাছেড়া।

আবার অতি উৎসাহী কেউ তো টেস্ট মর্যাদা থাকা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন! তারা ভুলে গেছেন ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে আমরা নিকট অতীতে হারিয়েছি। খারাপ সময়ে তারা পাশে না থেকে শুরু করেন অগ্রহণযোগ্য ভাষায় সমালোচনা।

টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ১০ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন বাজে ব্যাটিং করবে তা মেনে নেয়া অবশ্যই কষ্টের। ক্রিকেটীয় বিচারে পারফর্মেন্স নিয়ে সমালোচনা করার ক্ষেত্র অবশ্যই বিদ্যমান। তার মানে এই নয় যে সব শেষ হয়ে গেছে এই এক ইনিংসে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে।

বাংলাদেশ ৪৩ রানে অল আউটের লজ্জায় পড়লেও স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন, ১৯৫৫ সালে নিউজিল্যান্ডের করা সর্বনিম্ন ২৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইনিংসটি ভাঙেনি শুধুমাত্র একজন ব্যাটসম্যানের জন্য। তিনি হলেন এই ম্যাচে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ঢোকা লিটন দাস। ৫৩ বলে ২ চারের মারে ২৫ রান করা লিটনই একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই অংকের কোঠায় ব্যক্তিগত রানকে নিতে পেরেছেন।

টেস্টে একজন ব্যাটসম্যানের ২৫ রানের ইনিংস সাদা চোখে দেখলে আহামরি কোনো ইনিংস মনে নাই হতে পারে। তবে ৪৩ রানে অলআউট হওয়া দলের একজন ব্যাটসম্যানের এই ইনিংসটি একটিমাত্র কারণেই মহামূল্যবান হয়ে উঠেছে।

ভেবে দেখুন, নিউজিল্যান্ডের ২৬ রানের রেকর্ড কিন্তু আজই ভেঙে যেতো, যদি লিটন আজ ২৫ রানের ইনিংস না খেলতেন। ৪৩ থেকে লিটনের করা ২৫ রান বাদ দিলে থাকে ১৮ রান অর্থাৎ এই রানেই অলঅউট হয়ে বাংলাদেশকে টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার নিকৃষ্ট এক লজ্জার রেকর্ড বয়ে বেড়াতে হতো! তাই বলতেই হচ্ছে, লিটন দাস আপনাকে ধন্যবাদ।

ad