লড়াই করেও হারল হায়দরাবাদ, টিকে থাকল বেঙ্গালুরু

লড়াই করেও হারল হায়দরাবাদ, টিকে থাকল বেঙ্গালুরু
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) ফিরতি ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে হাই স্কোরিং ম্যাচে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ১৪ রানে হেরেছে সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর এই ম্যাচ জিতে এখনও টুর্নামেন্টে টিকে থাকল বেঙ্গালুরু।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাতে বেঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করা বেঙ্গালুরু ৬ উইকেটে ২১৮ রান করে। জবাবে অরেঞ্জ আর্মিরা ৩ উইকেটে ২০৪ রানেই থেমে যায়।

বেঙ্গালুরু তাদের ইনিংসের শুরুতে পার্থিব প্যাটেল এবং বিরাট কোহলিকে হারালেও ডি ভিলিয়ার্স এবং মইন আলীর তাণ্ডবে বড় স্কোরের দিকে এগোতে থাকে। তাদের দ্রুতগতির ১০৭ রানের জুটি দলকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যায়।

৩৯ বলে ১২ চার এবং ১ ছক্কার মারে ৬৯ করা ডি ভিলিয়ার্সকে তুলে নেন রশিদ খান। একই ওভারে তিনি পান ৩৪ বলে ২ চার এবং ৬ ছক্কার মারে ৬৫ রান করা মইন আলীর উইকেটও। তাতে অরেঞ্জ আর্মিরা স্বস্তি ফিরে পেতে শুরু করেছিল। যদিও তা পেতে দেননি গ্র্যান্ডহোম এবং সরফরাজ খান।

শেষদিকে তাদের ঝড়ে ২১৮ রানীর বড় স্কোর পায় বেঙ্গালুরু। গ্র্যান্ডহোম ১৭ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কার মারে ৪০ রান করে আউট হলেও ৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রানে অপরাজিত থাকেন সরফরাজ।

হায়দরাবাদের হয়ে রশিদ খান ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। সাকিব উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে অন্যান্যদের তুলনায় কম রানই দিয়েছেন বলা যায়।

থাম্পি ৪ ওভারে ৭০ রান দিয়ে গড়েছেন লজ্জার এক রেকর্ড । আয়ারল্যান্ডের পেসার ব্যারি ম্যাককার্থি টি-২০ তে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬৯ রান দিয়েছিলেন। আজ সেই রেকর্ড থাম্পি ভেঙে দিয়েছে। আইপিএলে এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ইশান্ত শর্মা। তিনি ৪ ওভারে ৬৬ রান দিয়েছিলেন চেন্নাই এর বিপক্ষে ২০১৩ সালে। আজ সে রেকর্ড ভাঙলেন বাসিল থাম্পি।

এছাড়া, সন্দীপ একটি উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন ৪০ আর কাউল ২ উইকেট পেলেও দিয়েছেন ৪৪ রান।

জবাবে হায়দরাবাদ ৮ ওভারে ৬৪ রান করে হারিয়ে বসে ধাওয়ান এবং হেলসকে। হেলস ২৪ বলে ৩৭ রান করে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ডি ভিলিয়ার্সের অতি মানবীয় ক্যাচে থামে তার ইনিংস।

এরপর কেন উইলিয়ামসন আনং মানিশ পান্ডে অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের ১৩৫ রানের জুটি বিশাল রান তাড়া করে জয়ের কাছেই দলকে নিয়ে গিয়েছিল।

শেষ ওভারে হায়দরাবাদের দরকার ছিল ২০ রান। ওই ওভারে সিরাজের প্রথম বলে উইলিয়ামসন ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৮২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে কোহলির হাতে ধরা পড়েন, যা ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। শেষের ৫ বলে মানিশ পান্ডে তেমন সুবিধা করতে না পারায় ২০৪ রানেই তাদের থামতে হয়। মানিশ ৩৮ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আই ম্যাচ হারলেও এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে রয়েছে হায়দরাবাদ। পক্ষান্তরে, বেঙ্গালুরু ১৩ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে । আজকের ম্যাচ হারলে তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতো।

ad