সাকিব-রিয়াদ বীরত্বে আরেকটি কার্ডিফ রূপকথা

bangladesh win
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: সাকিব-মাহামুদুল্লাহ বীরত্বে আরেকটি কার্ডিফ রূপকথার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টাইগারদের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর সাকিব আল হাসান এবং মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ১২ বছর পর বাংলাদেশ তাদের প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে একই গৌরবগাথা লিখল। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে শেষ চারের সম্ভাবনাটাও বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বিদায় নিল নিউজিল্যান্ড। মোট ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। রবিবার ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়া হারলে বা ওই ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি ইভেন্টের সেমি-ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। অবশ্য অস্ট্রেলিয়া জিতলেই বিদায় নিতে হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে।

২৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৭.২ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ ১০২ রানে এবং মোসাদ্দেক ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ইনিংসের শুরুতেই তামিম ইকবালের উইকেট হারায় বাংলাদেশ দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই। টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। তাতে পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। তিনে নামা সাব্বির টিম সাউদির ইনসুইং বলে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন ৮ রান করে।

আম্পায়ারের বিতর্কিত এলবিডব্লিউ দিয়ে দেয়ায় সৌম্যর ফেরায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তখন ৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৪/৩। মুশফিক জীবন পান স্লিপে টেলর তার ক্যাচ ফেলে দিলে। কিন্তু মুশফিক তার পাওয়া জীবন কাজে লাগাতে পারেননি। ৪ রানে জীবন পাওয়া মুশফিকুর রহিম ১৪ রান করে অ্যাডাম মিলনের ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার গতির বলে বোল্ড হলে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকেই সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ২২৪ রানের এক অবিশ্বাস্য জুটি! সাকিব ১১৪ রান করে জয় থেকে ৯ রান দূরে বাংলাদেশকে রেখে আউট হন। তবে মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত সেঞ্চুরি (১০২*) করে দলকে জিতিয়েই ফিরেছেন।

এর আগে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে মাশরাফি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও মুস্তাফিজ স্বরূপে ছিলেন না। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৬ রান জমা করে শুরুটা ভালোভাবেই নিউজিল্যান্ড। এরপর দুই প্রান্ত থেকে তাসকিন এবং রুবেলকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি।

আক্রমণে এসেই অষ্টম ওভারে আঘাত হানেন তাসকিন। সাজঘরে ফিরিয়েছেন ১৬ রান করা লুক রনকিকে। অফস্টাম্পের বাইরে শর্টবল করেছিলেন তাসকিন। রনকি হুক করতে যেয়ে টাইমিংয়ে গড়মিল করেন। গতির কারণেই ঠিকমতো ব্যাটে নিতে পারেননি। মিডঅনে ধরা পড়েন মুস্তাফিজের হাতে।

তৃতীয় উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ভালোই ভুগিয়েছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলর। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজা আর সাকিব আল হাসানের আঁটসাঁট বোলিংয়ে রানের জন্য হাঁসফাঁস করছিলেন রস টেইলর ও কেন উইলিয়ামসন। রানের চাকা সচল রাখতে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে ঝুঁকি নিচ্ছিলেন তারা।

তারই মাশুল দিয়ে ফিরেন উইলিয়ামসন। ৬৯ বলে ৫টি চারে ৫৭ রান করে রান আউট হন মোসাদ্দেকের থ্রো ধরে সাকিব স্টাম্প ভেঙে দিলে। অনেক এগিয়ে যাওয়া উইলিয়ামসনের ফেরার কোনো সুযোগই ছিল না। টেলর অবশ্য আরও বেশ কিছুক্ষণ ভুগিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারদের। ৩৯তম ওভারে অবশেষে টেলরকে সাজঘরমুখী করেছেন তাসকিন। ৬৩ রান করে ফিরে গেছেন নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

ম্যাচের ৪১তম ওভারে মোসাদ্দেকের জোড়া আঘাতের স্বীকার হয় কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। দলে ফেরা তরুণ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার সেই ওভারে দেন ৫ রান। পরের ওভারে প্রথম বলেই বিদায় করেন নিল ব্রুমকে। এগিয়ে এসে চড়াও হতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন ব্রুম। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজেই হাতে জমান তামিম ইকবাল। ৪০ বলে তিনটি চারে ডানহতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফিরেন ৩৬ রান করে।

এক বল বিরতিতে আবার মোসাদ্দেকের আঘাত। এলবিডব্লিউ হয়ে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান কোরি অ্যান্ডারসন। আউট হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তাকে থামিয়ে রিভিউ নেওয়ার পরামর্শ দেন নন স্ট্রাইকার জিমি নিশাম। রিভিউয়ে অবশ্য পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

আগের ওভারে জোড়া উইকেট নেয়া মোসাদ্দেক হোসেনকে নিজের উইকেট এক রকম উপহারই দিয়ে এসেছেন জিমি নিশাম। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অনেক এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি। বাকিটুকু সহজেই সেরেছেন তৎপর উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম তাকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে। ২৪ বলে তিনটি চারে ২৩ রান করে ফিরেন নিশাম।

৪৯তম ওভারে মিলনেকে দারুণ এক বলে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। তাতে দলীয় ২৫২ রানে ৮ উইকেট হারায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। সবমিলিয়ে শেষ ১০ ওভারে নিউজিল্যান্ড মাত্র ৬২ রান যোগ করে ৪ উইকেট হারিয়ে। স্লগ ওভারে মোসাদ্দেক, রুবেল, তাসকিন, মুস্তাফিজ এবং মাশরাফির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৬৫ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।

ad