সেমিতে যাওয়ার লড়াইয়ে নামছে সুইডেন-ইংল্যান্ড

world cup
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: রাশিয়ায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে সুইডেন-ইংল্যান্ড ও রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া।

শনিবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় সামারায় মুখোমুখি হবে সুইডেন-ইংল্যান্ড এবং দিবাগত রাত ১২টায় সোচিতে মুখোমুখি হবে রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া। মাছরাঙা, নাগরিক টিভি, বিটিভি ও সনি সিক্স ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

তারকাখ্যাতি ও শক্তির বিচারে সুইডেনের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবেন হ্যারি কেইনরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে ইংলিশরা দুর্দান্ত খেলেছে। নিজেদের গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে ওঠা ইংল্যান্ড সুন্দর ফুটবলে সবার মন ভরিয়েছে। অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপরই এ ম্যাচের স্পটলাইট থাকবে। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে তিনিই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার।

সুইডিশদের বিপক্ষে ম্যাচেও থ্রি লায়নরা জিতবে বলে বিশ্বাস ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের। তিনি বলেন, পেনাল্টি শুটআউটে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছি। আশা করি, শেষ চারে ওঠার পথেও ইংলিশদের বড় সাফল্য উপহার দিতে পারবো।

তবে সুইডেনকে হিসাব থেকে বাদ দিলে ভুল হবে। জার্মানির গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছিল সুইডেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে শেষ আটে এসেছে সুইডিশরা। ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সুইডেন নিজেদের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়েই লড়বে আজ।

সুইডিশদের নিয়ে যে ইংল্যান্ড সতর্ক আছে তা জানিয়ে ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস বলেছেন, আপনি যদি বলেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল সহজ, তাহলে ভুল করবেন। কখনও কখনও এমন দলই আপনাকে আঁস্তাকুড়ে ছিটকে ফেলবে। তারাও ভালো দল।

সুইডেন অবশ্য ইংল্যান্ডের চেনা প্রতিপক্ষ। সেই ১৯২৩ সাল থেকে দল দুটির মধ্যে ফুটবলীয় লড়াই চলে আসছে। এ পর্যন্ত ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। তার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৮টিতে। সুইডেন ৭টিতে। আর ৯টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। তবে এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হলো তাদের।

২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে দেখা হয়েছিল সুইডেন ও ইংল্যান্ডের সেবার ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ড্র করেছিল সুইডিশরা। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্বে দেখা হয়েছিল দল দুটির। সেবারও পিছিয়ে পড়ে ২-২ গোলে ড্র করেছিল সুইডেন। এবার অবশ্য ড্র করার সুযোগ নেই। জিততেই হবে একটি দলকে। আর হার মানতেই হবে একটিকে। এখন দেখার বিষয় দিনশেষে বিজয়ী দলের তালিকায় নাম লেখায় কারা।

অন্যদিকে সুইডেন সেমিফাইনাল খেলার অপেক্ষায় আছে ২৪ বছরের। সবশেষ তারা ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলেছিল। সেবার অবশ্য তৃতীয় হয়েছিল তারা।

সুইডিশ গোলকিপার ইয়োনসন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এখন আমরা সম্মিলিত শক্তির একটি দলে পরিণত হতে পেরেছি। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে খেলি। সম্মিলিত বোঝাপড়ার মাধ্যমে। জাতান (ইব্রাহিমোভিচ) ছিল একক নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরশীল, এ কারণে খেলাটাও তাকে কেন্দ্র করে হতো। এখন পুরো দল একসঙ্গে খেলতে পারছি।

এদিকে, আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বকাপ জেতার জন্য রাশিয়ায় আসা ক্রোয়েশিয়া আজ স্বাগতিকদের হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করতে মরিয়া। লুকা মদ্রিচ থেকে শুরু করে ইভান রাকিটিচ, মারিও মানজুকিচদের ভাবনা একই সূত্রে গাঁথা। মদ্রিচের দুর্দান্ত ফর্ম আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ক্রোয়েটদের।

ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পেরিসিচ বলেছেন, মদ্রিচ আমাদের অধিনায়ক। নেতা। আমরা সবসময় তার পাশে আছি। সব দলেই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকে। কিন্তু সব ছাপিয়ে আমরা দল হিসেবেই খেলার চেষ্টা করছি। কারণ একমাত্র দলগত খেলাই আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

১৯৭০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে রুশরা। পুরো দেশ রয়েছে দলের সঙ্গে।

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নামার আগে কোচ চেরচেশভ বলেছেন, স্পেনের ম্যাচের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। যখন দেশের প্রেসিডেন্ট আপনাকে ডাকে, তখন বুঝতে হবে, আপনি ভালো কিছুই করছেন। তার কয়েকটা কথাই আমাদের বেশি তাতিয়ে দিয়েছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রাশিয়াকে কেউ হিসাবেই রাখেনি। রাশিয়া কিভাবে কোয়ার্টারে উঠল? এই প্রশ্নের জবাবে রুশ কোচ বলেন, আমরা রাশিয়ানরা সবসময় বাড়াবাড়ি রকমের কিছু ভাবি। বড় স্বপ্ন দেখি। এক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানের আগেও ছিল। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও থাকবে। তবে আমরা অলীক স্বপ্ন দেখছি না। যেটা করে দেখানোর কথা ভাবছি, সেটা করতেই মাঠে নামবো।

এই দুটি প্রতিপক্ষ খুব বেশি মুখোমুখি হয়নি। ২০০৮ ইউরোর বাছাইপর্বে দেখা হয়েছিল তাদের। সেবার ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৫ সালে তারা একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। রাশিয়া প্রথমার্ধে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ হেরেছে।

আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে ষষ্ঠ কোনো আয়োজক দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে নাম লেখাবে রাশিয়া। এর আগে ইতালি (১৯৯০), ফ্রান্স (১৯৯৮), দক্ষিণ কোরিয়া (২০০২), জার্মানি (২০০৬) ও ব্রাজিল (২০১৪) আয়োজক হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছিল। জিতলে তাদের কাতারে প্রবেশ করবে স্বাগতিক রাশিয়া। আর হেরে গেলে মেক্সিকোর ভাগ্যবরণ করবে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আয়োজক মেক্সিকো পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল।

ad