বাংলাদেশের স্বপ্ন ভঙ্গ; ফাইনালে ভারত

semi final , do not cross, Bangladesh
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে এসে নতুন ইতিহাস গড়লেও তাকে ছাড়িয়ে ফাইনালে যাওয়া হলো না বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় পরাজয় মেনে নিয়েই থামল তাদের স্বপ্নযাত্রা। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের করা ৭ উইকেটে ২৬৪ রান ভারত পার হয়ে গেল ৫৯ বল হাতে রেখেই।

ভারতের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান ৮৭ রানের জুটি গড়ে দলের ভিত্তি মজবুত করেন। ধাওয়ানের উইকেট মাশরাফি নিলেও পরে আর কোন বোলারই সুবিধা করতে পারেনি। রোহিত শর্মার অপরাজিত ১২৩ এবং বিরাট কোহলির অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংসের কাছে টাইগাররা আজ রীতিমত অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে।

এর আগে তামিম-মুশফিকের দারুণ ফিফটির পরও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ায় বড় রানের আশা হারিয়ে যায় বাংলাদেশের। তবে অষ্টম উইকেট জুটিতে মাশরাফি-তাসকিনের অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটির কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৬৪ রান করে টাইগাররা।

সৌম্যর বিদায়ের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে থাকেন সাব্বির। সতর্ক শুরু করেন দারুণ ফর্মে থাকা তামিম। চার হাঁকিয়ে শুরু করা সাব্বির রহমান খেলেন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমারকে হাঁকিয়েছেন দুটি করে চার। তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বরকে এগিয়ে এসে দারুণ এক চার মারেন তিনি।

এরপরেই সাব্বিরের ছন্দপতন। আগের ১৩টি বল গেল ডট, সেই চাপেই ধৈর্য হারিয়ে ভুবনেশ্বর কুমারের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের স্লোয়ার বলে চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে। আর সাব্বিরের নিজের দোষেই শেষ হয় তার ইনিংসের। দলীয় রান তখন ৩১।

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর লড়াই শুরু করেন তামিম এবং মুশফিক। তামিম শুরুতে ধীর গতিতে ব্যাটিং করলেও পরে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন। মুশফিক সাবলীলভাবে ক্রিজে এসে রান তুলে নিচ্ছেন। তারা তুলে নিয়েছেন তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১২৩ রান। ১৩তম ওভারে পান্ডিয়ার বলে তামিম বোল্ড হলেও নো বলের কল্যাণে বেঁচে যান। আর তাতেই তিনি তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি।

তামিমের ৮২ বলে খেলা ৭০ রানের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও একটি ছক্কায়। অনিয়মিত অফ স্পিনার কেদার যাদবের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি।

আগের ম্যাচে দারুণ এক শতক পাওয়া সাকিব আল হাসান আজ বেশিক্ষণ টিকেননি। তামিম ইকবালের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি জমে উঠার আগেই ফিরেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। রবীন্দ্র জাদেজার বল কাট করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের কানায় লেগে সাকিবের ক্যাচ যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফিরেন ২৩ বলে ১৫ রান করে।

তার কিছুক্ষণ পর কেদার যাদবের দ্বিতীয় শিকার ৮৫ বলে চারটি চারে ৬১ রান করা মুশফিক। ডট বলে তৈরি হওয়া চাপ কাটাতে কেদারের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিলেন লম্বা সময় ধরে ব্যাট করা মুশফিক। টাইমিং কিছুই হয়নি, ক্যাচ যায় সোজা বিরাট কোহলির হাতে।

জাসপ্রিত বুমরাহকে পুল করতে গিয়ে রানের জন্য মরিয়া মোসাদ্দেক হোসেন ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন। দলীয় রান তখন ৬ উইকেটে ২১৮ রান।

ব্যক্তিগত ৪ রানে রিয়াদ হার্দিক পান্ডিয়ার বাউন্সারে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্যর্থতায় বেঁচে যান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। বুমরাহর দ্বিতীয় শিকার হয়ে তিনি বোল্ড হয়ে যান।

এরপর আশা হারিয়ে যেতে বসা টাইগারদের পালে হাওয়া দিতে থাকে মাশরাফির ব্যাটিং। তার ২৫ বলে ৫ চারের মারে ৩০ রান এবং তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে তাসকিন ১০ রান করলে ২৬৪ পর্যন্ত স্কোর পৌঁছে যায়।

ভারতের পক্ষে ভুবনেশ্বর, বুমরাহ এবং কেদার যাদব ২টি করে উইকেট নেন।

ad