হাথুরুর মতোই কি একক আধিপত্য দেখাবেন রোডস?

jagoran- Hathru, single domination, Rhodes,
ad

রিয়াজুল ইসলাম শুভ: টাইগারদের কোচ হিসেবে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে থাকাকালীন ২০১৬ সালে বিসিবি ব্যাপক সমালোচিত দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি গঠন করেছিল। এই কমিটির প্রধান ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান, তার সাথে অন্য দুই সদস্য প্রধান কোচ ও ম্যানেজার আর তিন সদস্যের নির্বাচক প্যানেল।

অনেকে স্টিভ রোডস যুগ শুরুর পর আশা করেছিলেন আগের বিতর্কিত দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটির প্রক্রিয়া বিলুপ্ত করে আবার আগের নিয়মে ফিরে যাবে বিসিবি। কিন্তু আগের নিয়মই বলবৎ থাকছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) বিকালে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগে যা ছিলো তাই থাকছে। নির্বাচন পদ্ধতিতে একটা কমিটি থাকবে যার প্রধান বিসিবি পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান। তার সাথে এবারও কাজ করবেন প্রধান কোচ ও ম্যানেজার।

নির্বাচক কমিটিতে কোচের ভূমিকা কেমন থাকবে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে মনে রাখতে হবে, পিচের ধরণ, খেলার ধরণ, কি ধরণের কন্ডিশনে খেলা এসব কোচই জানাবে। তার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচকরা দল পাঠাবে। আর একাদশ সম্পূর্ণই অধিনায়কের ব্যাপার। একাদশ নির্বাচন করবে কোচ ও অধিনায়ক মিলে। এখানে আমাদের কিছু বলার থাকবে না।

যদিও অতীতের ঘটনাবলীর ফলে বোর্ড সভাপতির এমন কথায় আস্থা রাখার অবকাশ নেই। একাদশ গঠনে যে অধিনায়ক নিজের ভূমিকা রাখতে পারবেন সেই নিশ্চয়তা বর্তমান বাস্তবতায় পাওয়া দুষ্কর।

দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি গঠনের আগে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে দল গঠন নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে হাথুরুসিংহের দ্বন্দ্বের খবর মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছিল। দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি গঠনের পর হাথুরুসিংহের একাদশ নিয়ে একক আধিপত্য নিয়ে কম বিতর্কের জন্ম হয়নি।

২০১৭ সালের শুরুতে ওয়েলিংটন টেস্টে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান করার পর তৎকালীন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক ইনিংস ঘোষণা করতে না চাইলেও হাথুরুসিংহে রীতিমতো হুমকি দিয়ে বসেন তিনি নিজেই নাকি ইনিংস ঘোষণা করবেন! পরে মুশফিক একরকম বাধ্য হয়েই ইনিংস ঘোষণা করতে বাধ্য হন। ম্যাচটি বাংলাদেশ পরে ৭ উইকেটে হেরেছিল।

একই বছর এপ্রিল মাসে শ্রীলংকা সফরে থাকা বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে হাথুরুসিংহ মাহামুদুল্লাহ রিয়াদকে না রাখায় ক্ষিপ্ত মাশরাফি জানিয়ে দেন রিয়াদ ওয়ানডে দলে না থাকলে তিনি কলম্বোর ফ্লাইট ধরবেন না। পরে টিম ম্যানেজমেন্ট বাধ্য হয়ে রিয়াদকে দলের সাথে রেখে দেয়।

নাটকের এখানেই শেষ নয়, শ্রীলংকা সিরিজে হাথুরুসিংহের সঙ্গে মনমালিন্য হওয়াতেই পরিস্থিতির চাপে একরকম বাধ্য হয়েই মাশরাফি টি-২০ থেকে অবসর নিয়ে ফেলেন। মাশরাফি নিজে তা স্বীকার না করলেও প্রকৃত ঘটনা গণমাধ্যমের কল্যাণে আড়াল থাকেনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর চট্টগ্রাম টেস্ট হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ শেষে তখনকার টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক এক কথা বলে বসেন। তিনি বলেছিলেন, একাদশ নির্বাচনে অধিনায়কের কোনো স্বাধীনতা নেই। যদিও এই কথা অস্বীকার করেছিলেন খোদ বোর্ড সভাপতি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের চলাকালীন সময়ে হাথুরু তার পদত্যাগপত্র বিসিবিকে পাঠালে শেষ হয় তার অধ্যায়। আর শুরু হয় নতুন কোচ নিয়োগ নিয়ে একের পর এক নাটক। দীর্ঘ সময় পর স্টিভ রোডস টাইগারদের দায়িত্ব পান এবং প্রথম মিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ বাজেভাবে শুরু করলেও ওয়ানডে আর টি-২০ সিরিজ শেষ করায় আপাতত টাইগার ভক্তদের মন তিনি জয় করতে পেরেছেন।

তবে ভুলে গেলে চলবে না, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার পর পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোম সিরিজ হারানোর পর বেশ মন জয় করতে পেরেছিলেন টাইগারদের তৎকালীন কোচ হাথুরুসিংহে। পরে একজ আধিপত্য মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করার পর থেকে জাতীয় শত্রু হতেও তার বেশি সময় লাগেনি।

তবে কি দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটিতে জায়গা পাওয়া রোডসও পরবর্তীতে হাথুরুর মতো অধিনায়ককে তোয়াক্কা না করে একক আধিপত্য দেখাবেন? এমনটা করলে কি তিনি বোর্ড সভাপতির প্রত্যক্ষ সমর্থন পাবেন যেমনটা হাথুরু পেয়েছিলেন? এমনটা সত্যি হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তা মোটেও মঙ্গলজনক হবে না।

ad