১ রানের ট্রাজিক হারে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

afg win 3-0
ad

স্পোর্টস ডেস্ক: স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর পঞ্চম উইকেটে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন ৮৪ রানের জুটিতে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ১ রানের নাটকীয় পরাজয় বরণ করল বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের সব ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা।

১৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ হারায় ৬ বলে ৫ রান করা তামিম ইকবালকে। মুজিব উর রহমানের বল উড়াতে গিয়ে ধরা পড়েন এক্সট্রা কাভারে। এরপর ১৩ বলে ১৫ রান করে ফেরেন সৌম্য। তিনি রান আউট হয়ে প্রতিপক্ষকে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন বলাই যায়।

সৌম্য সরকার যেভাবে আউট হয়েছিলেন তিন বল পর ঠিক সেভাবেই রান আউট হয়ে ফিরে গেলেন লিটন দাস। নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন ১৪ বলে ১২ রান করা লিটন।

সাকিব আল হাসান ফিরে যান সামিউল্লাহ শিনওয়ারির দারুণ ক্যাচে। এক্সট্রা কাভারে ঝাঁপিয়ে এক হাতে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেন শিনওয়ারি। ৯ বলে ১০ রান করে সাকিব আউট হওয়ার সময় দলের রান ৪ উইকেটে ৫৩।

এমন বিপদের মাঝে আশার আলো দেখাতে থাকেন রিয়াদ আর মুশফিক। ৮৪ রানের জুটি গড়ে তারা ম্যাচকে হাতের মুঠোয় আনতে থাকেন। যদিও একটা সময় শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ রান।

এমন সময়ে করিম জান্নাতের করা ১৯তম ওভারে মুশফিক তানা ৫ চার মারার পর শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে নেন মোট ২১ রান। তাতে শেষ ওভারে টাইগারদের দরকার ছিল ৯ রান। শেষ ওভারে এলেন রশিদ খান। তার করা প্রথম বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৩৭ বলে ৭ চারের মারে ৪৬ রান করে আউট হন মুশফিক।

পরের ৪ বলে ৫ রানের বেশি নিতে না পারায় শেষ বলে দরকার পড়ে ৪ রান। শেষ বলে আরিফুল স্ট্রেইট শট মারলেও শফিকুল্লাহর রাদুন ফিল্ডিং করে চার ঠেকিয়ে বল পাঠান উইকেটকিপার শাহজাদের হাতে। আর তাতে ৩৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ রান করা রিয়াদ রান আউট হলে ১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান তাদের ইনিংসের শুরুতে টাইগারদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ ফেলে দিয়েছিল। শাহজাদ-ঘানির উদ্বোধনী জুটি ৫৬ রান যোগ করে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

তবে নাজমুল অপুর বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়ে ২৬ রান করা শাহজাদ বিদায় নেয়ায় ভেঙ্গেছে তাদের উদ্বোধনী জুটি। তার পরের ওভারে রাহির বলে ১৯ রান করা ঘানি মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়ে আউট হন। তার পরের ওভারে রাহির বলে ১৯ রান করা ঘানি মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়ে আউট হন।

নিজের প্রথম ওভারে ৪ বলেই ১৩ রান দিয়ে ফেলেছিলেন। তবে পঞ্চম বলে টাইগারদের হয়ে আরিফুল হকের বলে লং অনে দ্বাদশ খেলোয়াড় সাব্বিরের হাতে ধরা পড়ে ১৭ বলে ২৭ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন আজগর স্টানিকজাই। আফগানদের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৯৫ রান।

দলীয় ১০১ রানে নবী আউট হন রিয়াদের চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচে। রাহির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে নবী মাত্র ৩ রান করে উইকেট নেন।

এরপরই আফগানরা ৩০ রানের জুটি পায় পঞ্চম উইকেটে শিনওয়ারি ও জাদরান। দলীয় ১৩৫ রানে সাকিব তুলে নেন জাদরানকে আর গড়েন নতুন ইতিহাস। ইতিহাসের প্রথম বামহাতি ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট ও ১০ হাজার রানের মালিক হয়েছেন।

টাইগার বোলাররা আজ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে। নাজমুল অপু ৪ ওভারে মাত ১৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। সাকিব দেন ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে একটি, রাহি ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২টি। এছাড়া আরিফুল নেন একটি উইকেট। মিরাজ অবশ্য ভালো বল করেননি। ২ ওভারে রান দেন ২৭।

ad