সাকিবে কুপোকাত আফগানিস্তান, সেমিতে যেতে চাই আর দুই

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারায় সেমিফাইনালের স্বপ্ন অনেকটাই কঠিন হয়ে যায় বাংলাদেশের। টাইগারদের সামনে পরের তিন ম্যাচেই হয়ে যায় নকআউট ম্যাচ। মানে একটিতে হারলেই শেষ সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন। এমন সমীকরণে দাঁড়িয়ে আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় টাইগাররা।

রোজ বেলে টসে জিতে আগে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান অধিনায়ক। আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ২৬২ রান তুলে টাইগাররা। এতে ২৬৩ রানের লক্ষ্য্য দাঁড়ায় আফগানদের সামনে। দেখতে ছোট মনে হলেও সেই লক্ষ্যকে পাহাড়সম করে তোলেন সাকিব। তার স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ২০০ রান তুলতে সক্ষম হয় এশিয়ার দেশটি। সাকিব একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট।

এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ৭ ম্যাচে টাইগারদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। এরপর ম্যাচ আছে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। তাহলেই সেমিতে যেতে পারে বাংলাদে।  

সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে রোজ বলে আজ মাঠে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব ব্যাটে পাঠায় টাইগারদের। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই লিটনকে হারায় টাইগাররা।


এই ব্যাটসম্যান ড্রাইভ করলে সামনের দিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমান হাশমতউল্লাহ শাহিদি। আম্পায়ার আউটের সফট সিগন্যাল দিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান। কয়েকবার রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত জানান আলিম দার।


এই ব্যাটসম্যান আউট হলেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেন টাইগারদের দুই বিশ্বস্ত সেনানি তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। এই জুটিতে আসে ৬০ রান। তবে যখন তাদের ঘিরে বড় সংগ্রহের আশা দেখছিল বাংলাদেশ ঠিক তখনই নাবির বলে অযাচিত শট খেলতে গিয়ে আউট হন তামিম ইকবাল।


এই ব্যাটসম্যান দলীয় ৮০ রানের মাথায় আর ব্যক্তিগত খাতায় ৩৬ রান যোগ করে বিদায় নেন। এরপর আরও একটি উইকেট চলে যেতে পারতো বাংলাদেশের। রাশিদ খানের বলে ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হন সাকিব। বলটি পায়ে আঘাত হানলে রাশিদ আবেদন করলে আউট দেন আম্পায়ার। তবে চ্যালেঞ্চ করলে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের ইপরে ছিল। যে কারণে বেঁচে যান সাকিব।


এরপর সাকিব ও মুশফিক গড়ে তোলেন আরও একটি অর্ধশত রানের জুটি। এই দুই ব্যাটসম্যান মাত্র ৫৮ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশত রান। এর কিছুক্ষণ পরই এবারের বিশ্বকাপের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। আর ফিফটি তুলে নিয়েই সাজঘরে ফেরেন এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী।


তার বিদায়ের পর দ্রুত বিদায় নেন সৌম্য সরকার। এই ব্যাটসম্যান মাত্র ৩ রান করে মুজিবের শিকার হন। এতে মুহূর্তেই ধস নামে টাইগারদের ইনিংসে। ২ উইকেটে ১৪২ থেকে হয়ে যায় ৪ উইকেটে ১৫১। তবে মাহামুদুল্লাহকে নিয়ে এরপর লড়াই শুরু করেন মুশফিক।


তাদের জুটিতে আসে মূল্যবান ৪৬ রান। মুশফিক এ সময় ব্যাট চালিয়ে খেললেও স্লো ছিলেন রিয়াদ। যে কারণে খুব একটা এগিয়ে যেতে পারেনি বাংলাদেম। দলীয় ২০৭ রানের মাথায় রিয়াদ ৩৮ বলে ২৭ রান করে নাইবের শিকার হলে ভাঙে জুটি।


এরপর আবার প্রতিরোধ মুশফিকের। এবার মোসাদ্দেককে নিয়ে। তবে এই জুটিতে মোসাদ্দেক ভালো করলেও মুশফিক যেন বল ব্যাটেই লাগাতে পারছিলেন না। তবুও দলীয় ২৫১ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরার আগে এ তারকা করেন ৮৭ বলে ৮৩ রান।


এরপর শেষ তিন ওভারে তাণ্ডব চালান মোসাদ্দেক। মাত্র ২৪ বলে ৩৫ রান করা এ ব্যাটসম্যান আউট হন ইনিংসের শেষ বলে। তার ব্যাটে বাংলাদেশও পায় লড়াকু সংগ্রহ।




সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ২৬২-৫ (৫০)


মুশফিকুর রহিম ৮৩ (৮৭), সাকিব আল হাসান ৫১ (৬৯), মোসাদ্দেক হোসেন ৩৫ (৪০), তামিম ইকবাল ৩৬ (৫৩)।



মুজিব উর রহমান ১০-৩৯-৩, গুলবাদিন নাইব ১০-৫৬-২।

বাংলাদেশের দেয়া ২৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালোই এগুচ্ছিল আফগানিস্তান। দুই ওপেনার মিলে প্রথম ১০ ওভারে তুলেন ৪৮ রান। তবে তাদের জুটি দীর্ঘ হতে দেননি সাকিব।


প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে এই স্পিনার ফেরান ৩৫ বলে ২৪ রান করা রহমত শাহকে। তামিম ইকবালের কাছে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর শাহিদিকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন নাইব। তবে সে জুটিকে মাঠে থিতু হতে দেননি মোসাদ্দেক হোসেন।


মেহেদি আর মিরাজের ঘূর্নিতে ধুকতে থাকা আফগানদের দ্বিতীয় উইকেট পড়ে দলীয় ৭৯ রানের মাথায়। এগিয়ে গিয়ে মোসাদ্দেককে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন শাহিদি।


এরপর আসগর আফগানকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন নাইব। তবে তখনো বাকি ছিল সাকিব জাদু। পঞ্চম ওভারে জোড়া ধাক্কা দেন বাঁহাতি স্পিনার। হাফসেঞ্চুরির পথে ছুটতে থাকা অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবকে প্রথম বলে লিটন দাসের চমৎকার ক্যাচ বানান। ৭৫ বলে ৩ চারে ৪৭ রান করেন আফগান ওপেনার।


ক্রিজে নেমে দুই বল পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাকিবের কাছে বোল্ড হন মোহাম্মদ নবী। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।  এখানেই থেমে যাননি সাকিব। নিজের সপ্তম ওভার করতে এসে আঘাত হানেন ফের। এবার তার শিকার আসগর আফগান। সাব্বিরের হাতে ক্য্যাচ দেওয়ার আগে তিনি করেন ২০ রান। এতে আফগানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৭-৫।

 এরপর সরাসরি থ্রোতে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটন দাস।


তবে সপ্তম উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধের আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ফেলেন ৫৬ রানের জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে ফের বল হাতে হাজির হন সাকিব।


ইনিংসের ৪৩তম ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নাজিবউল্লাহ। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক বল গ্লাভসে জমিয়ে উইকেট ভাঙতে সময় নেননি একদমই।


এ উইকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। তার আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব দেখান যুবরাজ সিং।


সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়। মাঝে রশিদ খানকে মাশরাফির হাতে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। সাকিবের স্পেল শেষ হবার পর দাওলাত জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার।


ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আফগানরা। তবু একা খানিক লড়াই করেন শিনওয়ারি। কিন্তু অপরপ্রান্তে মুজি উর রহমান আউট হয়ে গেলে তিনি অপরাজিত থেকে যান ৪৯ রানে। ইনিংসের ৩ ওভার বাই থাকতেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা। 

মন্তব্য লিখুন :