লড়াইটাও করতে পারলো না সাকিবহীন বাংলাদেশ

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-তিন ডিপার্টমেন্টেই যাচ্ছেতাই পারফর্ম করে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এতে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা।

কলম্বোয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটিতে কুশাল পেরেরার সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ৩১৪ রান তুলে লঙ্কানরা। জবাবে টপঅর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। তবে তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারের শেষ বলেই মাত্র ১০ রানের মাথায় তারা হারায় ফার্নান্দোকে।

শফিউল ইসলামের করা দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্যর হাতে। কোনো ভুল না করেই তিনি ক্যাচটি লুফে নেন। একপর্যায়ে ৫ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৩ রান।

এরপরই উঠে ঝড়। দুই ব্যাটসম্যান করুণারত্নে আর পেরেরা ৫ ওভারেই তুলে ফেলেন ৫০ রান। ১৪ ওভারেই এসে পড়ে তাদের শতক। এরইমাঝে মাত্র ৩৭ বল খেলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন পেরেরা। এরপর ১৫তম ওভারের শেষ বলে ৩৭ রান করা করুনারত্নেকে ফেরান মিরাজ। তবে তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।

কারণ অন্যপ্রান্তে থাকা কুশাল পেরেরা তুলেন ঝড়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন কুশাল মেন্ডিস। এই দুজনের ব্য্যাটে ঝড়ো গতিতে এগুতে থাকে ম্রীলঙ্কা। ২৫ ওভার শেষে একপর্যায়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৯।

এরপর ২৭তম ওভারে এসে উইকেট নেওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে লং অনে দাঁড়ানো রিয়াদের কাছে ক্যাচ গেলেও কুশাল মেন্ডিসের ক্যাচটি তিনি ফেলে দেন। তাতে মহাবিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। পরের ওভারেই মোসাদ্দেককে চার মেরে মাত্র ৮২ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন পেরেরা।

তবে সেঞ্চুরি করার পর আর তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি সৌম্য সরকার। ৩৩তম ওভারে বল করতে এসে মোস্তাফিজের ক্যাচ বানিয়ে ৯৯ বলে ১০১ রান করা পেরেরাকে ফেরান তিনি। তখন লঙ্কানদের রান ছিল ২০৭। এরপর ৩৪তম ওভারে আরেক সেট ব্যাটসম্যান মেন্ডিসকে ফেরান তিনি। ৪৯ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। যদিও আম্পায়ার তাকে আউট দেননি তবে নিজ থেকেই তিনি মাঠ ছাড়েন।

পরপর দুই উকেটের পর ফের জুটি গড়ে তোলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও লাহিরু থিরামান্নে। এই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে তারা দুইজন দলকে নিয়ে যান বড় সংগ্রহের দিকে। ৪৫ ওভারের সময় ২৭২ রানে থিরামান্নে আউট হলেও মেন্ডিস টিকে থাকেন ৪৯ ওভার পর্যন্ত। ৫২ বলে তার ৪৮ রানের সুবাদে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান তুলে লঙ্কানরা।

শফিউল ইসলাম ৯ ওভারে ৬২ রান দিয়ে তিনটি, মোস্তাফিজুর রহমান ১০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে দুইটি ও সৌম্য সরকার ৫ ওভারে ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।

কুশাল পেরেরা ৯৯ বলে ১১১, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৫২ বলে ৪৮ আর কুশাল মেন্ডিস ৪৯ বলে ৪৩ রান করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই মালিঙ্গার ইয়র্কার খেলতে ব্যর্থ হন তামিম। ফলাফল তার স্ট্য্যাম্প উল্টে যায়। এরপর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার আর মোহাম্মদ মিথুন। তবে তাদের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি নুয়ান প্রদীপ।

অষ্টম ওভারে এসে এই বোলার তুলে নেন মিথুনকে। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২১ বলে ১০ রান। পরের ওভারেই আবার উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা। এবার মালিঙ্গার ইয়ার্কারে শট খেলতে গিয়ে আউট হন সৌম্য। তিনি ২২ বলে করেন ১৫ রান।

এই ধাক্কা সামলে না উঠতেই বিদায় নেন মাহামুদুল্লাহ রিয়াদও। এই ব্যাটসম্যান লাহিরু কুমারার শিকার হওয়ার আগে করেন ৩ রান।

পঞ্চম উইকেটে সাব্বির-মুশফিক যোগ করেন ১১১ রান। তবে ফিফটি করার পর দায়িত্ব শেষ মনে করেছেন সাব্বির। ৫৬ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি ধনঞ্জয়াকে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন।

এরপর মোসাদ্দেক (১২), মেহেদী মিরাজরা (২) দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় মুশফিকও তাদের সঙ্গী হলে পরাজয়টা কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের। ৮৬ বলে ৫ বাউন্ডারিতে মুশফিক ৬৭ রান করে নুয়ান প্রদীপের শিকার হন।

১৪ বলে ১৮ করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মোস্তাফিজ। তাতে সফরকারীদের ইনিংস ৪১.৪ ওভারেই গুটিয়ে যায় ২২৩ রানে।

সাকিব ও মাশরাফিকে ছাড়া বাংলাদেশ কেমন করে তা দেখার ম্যাচ ছিল এটা। নিজেকে প্রমাণ করার ম্যাচ ছিল সৌম্য, মিথুন, তামিমের। তবে বলতে গেলে তারা সবাই ব্যর্থ।  

মন্তব্য লিখুন :