গত বছরের সেরা ফুটবলার কে জানা যাবে আজ

গত বছর কে ছিলেন সেরা ফুটবলার জানা যাবে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু ফ্রান্সের মোনাকাতে একইসঙ্গে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ নতুন মৌসুমে ড্রও। বর্ষসেরা ফুটবলারের জন্য তিনজন খেলোয়াড়ের নাম আগেই ঘোষণা করেছিল ইউয়েফা। বার্সেলোনার লিওনেল মেসি, জুভেন্টাসের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সেরা তিনে আছেন লিভারপুলের ভার্জিল ভ্যান ডাইক। 

ভোটিং পদ্ধতি 

৩১ জুলাই, ২০১৮ থেকে পরবর্তী এক বছরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের আনা হবে বিচারে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপা লিগের মোট ৮০ জন কোচ, ৫৫ জন সাংবাদিক জুরিগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন ইউয়েফার সেরাদের। প্রথম খেলোয়াড় পাচ্ছেন ৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয়জন ৩ ও শেষজনের জন্য ১ পয়েন্ট।

মেসি, রোনালদোর আধিপত্য ভাঙতে পারবেন ভ্যান ডাইক?

ইউয়েফার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচন শুরুর পর তিনবার এই পুরস্কার জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর লিওনেল মেসি জিতেছেন দুইবার। মেসি-রোনালদোর আধিপত্য ভেঙে গতবার লুকা মদ্রিচ হয়েছিলেন ইউয়েফার বর্ষসেরা ফুটবলার। ফিফার মতো অবশ্য এখানে মেসি-রোনালদোর একচেটিয়া আধিপত্য ছিল না কখনোই। ফ্রাঙ্ক রিবেরি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও একবার করে নির্বাচিত হয়েছিলেন ইউয়েফার বর্ষসেরা। 

তবে ডিফেন্ডার হিসেবে এখনও কেউ জিততে পারেননি এই পুরস্কার। গোলরক্ষক হিসেবে এর আগে সেরা তিনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার ও জিয়ানলুইজি বুফন। ডিফেন্ডার হিসেবে ভ্যান ডাইকই প্রথম। ২০১৮ সালে লিভারপুলে যোগ দিয়ে ক্লাবের রক্ষণের খোলনলচে পালটে ফেলেছেন ডাচ ডিফেন্ডার। 

গত মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ৫৯ ম্যাচ খেলেছেন ভ্যান ডাইক। গোল করেছেন ৯টি, অ্যাসিস্টও আছে ৪টি। আর রক্ষণে রীতিমত দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে তাকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যেতে পারেননি কোনো ফুটবলার। লিভারপুলের হয়ে গত মৌসুমে তাঁর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেননি কেউ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩.৭ শতাংশ এরিয়াল ডুয়েল জিতেছেন ভ্যান ডাইক। গতবার প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে কম হজম করেছিল লিভারপুল। তাতে ভ্যান ডাইকের অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি।

ভ্যান ডাইকের দারুণ পারফরম্যান্সের সঙ্গে যোগ হচ্ছে তাঁর চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। সেটাই রোনালদো ও মেসির চেয়ে এবার এগিয়ে রাখছে ভ্যান ডাইককে। বাকি দুইজনই গতবার ক্লাবের হয়ে জিতেছেন শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগ।  

রোনালদো অবশ্য ভ্যান ডাইকের দলকে ফাইনালে হারিয়ে পর্তুগালের হয়ে নেশনস লিগের শিরোপাও জিতেছিলেন। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৫৪ ম্যাচে রোনালদোর মোট গোল ৩১। সিরি আতে হয়েছেন চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা আর ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রোনালদোর সামনে আছেন আরও আটজন। 

মেসি অবশ্য গোল করার দিক দিয়ে রোনালদোর চেয়ে এবার এগিয়ে আছেন অনেকটাই। শুধু রোনালদোই নয় গত মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যার ধারে কাছে নেই কেউ। ইউরোপের লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগেরও সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে ৫৪ ম্যাচে মেসির গোল ৫১।  মেসির মিনিটপ্রতি গোল ৮৬ আর রোনালদোর ১২৬।

মেসি, রোনালদো, ভ্যান ডাইকের- এই তিনজনের একজনকে বর্ষসেরা ফুটবলার দেওয়ার পাশাপাশি ইউয়েফা ঘোষণা করবে গত মৌসুমের সেরা ডিফেন্ডার, গোলরক্ষক, মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ডের নামও। মেয়েদের ফুটবলের সেরা খেলোয়াড়ের নামও ঘোষণা করা হবে এই অনুষ্ঠানে।

মন্তব্য লিখুন :