জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ফাইনালে টাইগাররা

ছবি: আইসিসি

জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেয়া ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৩৬ রানেই অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ফলে ৩৯ রানের জয় পায় টাইগাররা।

বাংলাদেশের দেয়া ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশি বোলারদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে শুরু থেকেই বেশ চাপে পড়ে সফরকারীরা। আট রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে বসে দলটি।

এরপর মাতুমবদজিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করেন মাসাকাদজা। কিন্তু ব্যক্তিগত ১১ রানে মাতুমবদজিক ফিরেন সাজঘরে। এরপর আবার আঘাত হানেন শফিউল ইসলাম। তার বলে স্টাম্প হারান রায়ান বার্ল।

এরপর আমিনুলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান মাসাকাদজাও। খেলতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই সাজঘেরে ফেরেন ব্রেন্ডন টেইলর।

ভালো খেলতে পারেননি রেজিস চকভাও। সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এদিকে শফিউল ইসলামের বলে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন শেন উইলিয়ামস।

৬৬ রানে ৭ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে হারের ব্যবধান কমাতে থাকে রিচমন্ড মুতুম্বামির ব্যাটিং ঝড়ে। তার সঙ্গে জার্ভিসের জুটি ৩০ বলে পঞ্চাশ রান স্পর্শ করে। তিনটি করে চার ও ছয়ে ৩০ বলে প্রথম হাফসেঞ্চুরি করেন মুতুম্বামি। ১৯তম ওভারে তাকে থামান শফিউল। নিজের শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের ইনিংস সেরা পারফর্মারকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যাচ বানান এই পেসার। ৩২ বলে চারটি চার ও তিনটি ছয়ে ৫৪ রান করেন মুতুম্বামি। জার্ভিসের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৫৮ রানের।

ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ২৭ রানে জার্ভিসকে ফেরান। বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচ হন জিম্বাবুয়ান ব্যাটসম্যান। তাতে টি-টোয়েন্টির ৫০তম উইকেট পান বাঁহাতি পেসার। শেষ ওভারে আইন্সলি এনলোভুকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করেন মোস্তাফিজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ে সব উইকেট হারিয়ে করেছেন ১৩৬ রান।

এর আগে খেলতে নেমে ঝড় তুলেন বাংলাদেশি ওপেনার লিটন দাস। ২২ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। এরপর এমপোফুর বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। অন্যদিকে অভিষেক ম্যাচে ভালো করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্তও। ৯ বল খেলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ব্যক্তিগত ১০ রানে আউট হন সাকিব।

মুশফিক রহিম বড় সংগ্রহের দিকে ছুটলেও তিনি ব্যক্তিগত ৩২ রানে সাজঘরে ফেরেন। তবে ধাক্কা সামলে এগিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। তুলে নেন নিজের অর্ধশত। ৬২ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (শান্ত ১১, লিটন ৩৮, সাকিব ১০, মুশফিক ৩২, মাহমুদউল্লাহ ৬২, আফিফ ৭, মোসাদ্দেক ২, সাইফ ৬*, আমিনুল ০*; এনডিলোভু ৩-০-৩২-০, জার্ভিস ৪-০-৩২-৩, এমপোফু ৪-০-৪২-২, উইলিয়ামস ৪-০-২৬-০, বার্ল ১-০-১৩-১, মাতুমবদজি ৩-০-১৭-১, মাদজিভা ১-০-১০-০)

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৩৬ (টেইলর ০, মাসাকাদজা ২৫, চাকাভা ০, উইলিয়ামস ২, মাতুমবদজি ১১, বার্ল ১, মুতুমবামি ৫৪, মাদজিভা ৯, জার্ভিস, এনডিলোভু ২, এমপোফু ০*; সাইফ ৪-০-১৪-১, সাকিব ৪-০-২৮-১, শফিউল ৪-০-৩৬-৩, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৮-২, আমিনুল ৪-০-১৮-২)

ফল: বাংলাদেশ ৩৯ রানে জয়ী

মন্তব্য লিখুন :