ওমানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইলো বাংলাদেশ

বাঁচা মরার লড়াইয়ে ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।

আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ আজও শুরুতেই হতাশায় ডুবে। তবে সাকিব আল হাসান ও নাঈম ইসলামের ব্যাটে ভর করে তোলে ১৫৩ রান। জবাবে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণ চালায় ওমান। তবে সাকিব আল হাসান আর মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে ২০ ওভারে ১২৭ রানের বেশি তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ হন লিটন দাস। ওমানের বিরুদ্ধে মাত্র ৬ রান করে ফিরেছেন সাজঘরে।

বাংলাদেশ দলীয় ১১ রানে হারিয়েছে প্রথম উইকেট। ১০ রান যোগের পরই হারাতে হয় দ্বিতীয় উইকেট। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মাহদি হাসান ৪ বলে করেন ০ রান।

এরপর সাকিবকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন নাঈম ইসলাম। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা তুলেন মূল্যবান ৮০ রান। তখন মনে হচ্ছিল বড় রানের দেখা পাবে বাংলাদেশ। তবে তখনই ঘটে বিপত্তি। শর্টে টোকা দিয়ে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট হন সাকিব। ২৯ বলে তিনি করেন ৪২ রান।

এরপর শুরু হয় আসা যাওয়ার লড়াই। ৫ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন সোহান। পঞ্চম উইকেট পড়ে ১২০ রানের মাথায়। ৫ বল খেলে ১ রান করে বিদায় নেন আফিফ।

দলের খাতায় ২ রান যোগ করে ওমানের ক্রিকেটারদের ক্যাচ প্রাকটিস করিয়ে ফেরেন নাঈম। তিনি ৫০ বলে করেন ৬৪ রান। এরপর ওমানের উইকেটকিপারকে ক্যাচ প্রাকটিস করিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক।

তাতে বড় সংগ্রহের আশা ধুলোয় মিশে যায়। শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহর ১০ বলে ১৭ রানের ইনিংসে ভর করে ১৫৩ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ওমানের বিলাল খান ৪ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট ও ফায়াজ বাট ৪ ওভারে ৩০ রানে নেন ৩ উইকেট।


জবাবে ব্যাট করতে নামা ওমান শুরু থেকে মারমুখি হয়ে খেলতে থাকে। তবে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন আকিব ইলিয়াস। এরপর অবশ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলের জতিন্দর সিং ও কাশ্যপ প্রজাপতি। এই দুজন রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে প্রথম ৪ ওভারে তোলেন ৪৫ রান। ষষ্ঠ ওভারে ২১ রান করা প্রজাপতিকে সোহানের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ।

তবে তার আগে দুইটি ক্যাচ মিস করে বাংলাদেশ। প্রথমে মোস্তাফিজ কাশ্যপের ও পরে রিয়াদ ছাড়েন জতিন্দরের ক্যাচ। এরপর জিশান মাকসুদকে নিয়ে জুটি গড়েন জতিন্দর। জিশান ১২তম ওভারে মাহদির শিকার হলেও ভয় ধরাচ্ছিলেন জতিন্দর।

তবে সাকিবের ঘূর্ণির সামনে তিনি টিকে থাকতে পারেননি। ১৩তম ওভারের শেষ বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার আগে ৩৩ বলে করেন ৪০ রান। এরপর বলতে গেলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ওমান। ২৪ রান তুলতে তারা হারায় ৬ উইকেট।

এর মধ্যে দুইটি নেন সাকিব ও দুইটি মোস্তাফিজ। একটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মোস্তাফিজ ৪ উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৩৬ রান আর সাকিব ৩ উইকেট নিতে ২৮ রান। মাহদি দিয়েছেন মাত্র ১৪ রান আর সাইফউদ্দিন ১৬ রান।