সাকিব জাদুতে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ

সব ডর, ভয়, শঙ্কা দূর করে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ৮৪ রানের বিশাল জয় পেয়েছে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্য্যাটে ভর করে ১৮১ রান তুলে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নামা নিউগিনি দাঁড়াতেই পারেনি সাকিবের ঘূর্ণির সামনে। ২৯ রানে ৭ উইকেট হারানো নিউগিনি কিপলিন দরিগার শেষদিকের তাণ্ডবে করতে পেরেছে ৯৭ রান।

সাকিব আল হাসান মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ফলে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত টাইগারদের। এখন বাংলাদেশকে চেয়ে থাকতে হবে স্কটল্যান্ড ও ওমানের ম্যাচের দিকে। এই ম্যাচই নির্ণয় করবে কোন গ্রুপে পড়বে বাংলাদেশ।

ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা রাঙাতে পারেননি নাঈম শেখ। দ্বিতীয় বলে সেসে বাউর হাতে ক্যাচ তুলে শূণ্য রান নিয়েই সাঝঘরে ফেরেন তিনি। ওয়ান রাউন্ডে নেমে দলের হাল ধরেন সাকিব আল হাসান। তাকে সঙ্গ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু মাঠে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারলেন না তিনি। ব্যক্তিগত ২৯ রান করে আসাদ ভালার বলে সেসে বাউর হাতে ক্যাচ তুলে উইকেট হারান এই ওপেনার।

চতুর্থ উইকেটে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না মুশফিক। সিমন আতাইয়ের বলে হিরি হিরির হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৫ রান করে বিদায় নেন তিনি। লিটন-মুশফিক ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে লড়ে যাচ্ছিলেন সাকিব। কিন্তু অর্ধশতক পূর্ণ করার ৪ রান আগেই আসাদ ভালার শিকার হন তিনি। ৩ ছয়ে ৩৭ বল খরচায় ৪৬ রান করে বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

সাকিবের বিদায়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩ চার ও ৩ ছয়ে মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। কিন্তু ১৮তম ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে রাবুর বলে সোপারের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন টাইগার অধিনায়ক। একই ওভারের শেষ বলে আতাইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ডাক মারেন সোহান। পরের ওভারে ব্যক্তিগত ২১ রান করে মোরেয়ার শিকার হন আফিফ হোসাইন।  

শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে ক্যামিও ইনিংসে বাংলাদেশকে এ আসরের সর্বোচ্চ ১৮১ রান এনে দেন সাইফুদ্দিন। ৬ বলে ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে ২ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন মাহেদি হাসান।

১৮২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম দুটি ওভার ভালোভাবেই মোকাবেলা করেছে দেশটির ওপেনাররা। তৃতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে এলবিডব্লিউ হন ওপেনার লেগা সিয়াকা। ১০ বলে ৫ রান করেন তিনি।

এরপর নুরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হন পিএনজি অধিনায়ক আসাদ ভালা। তাসকিনের বলটি লেগ সাইড দিয়ে বের হওয়ার মুহূর্তে ব্যাটের খোঁচা দেন। সেই বলটি ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে তালুবন্দী করেন সোহান।

এরপর সাকিবকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওভারের প্রথম বলেই উইকেট নেন সাকিব। এবারও আরও একটি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন মোহাম্মদ নাইম। ২০ থেকে ২৫ গজ পেছনে গিয়ে লং অফে অসম্ভব এক ক্যাচ তালুবন্দী করেন নাইম। তাতে ফিরে যান চার্লস আমিনি।

ওই ওভারের চতুর্থ বলে আবারও উইকেট নেন সাকিব। এবার শেখ মেহেদী হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সিমন আতাই। ২ বল খেলে কোনো রানই করতে পারননি তিনি। ১৪ রানের মাথায় পড়লো চতুর্থ উইকেট।

পরের বলে আবারও ক্যাচ। এবার ক্যাচ তুললেন সেসে বাউ। কিন্তু তার ক্যাচটি ফেলে দেন নুরুল হাসান সোহান। ৯ম ওভারে গিয়ে আবারও উইকেট পান সাকিব আল হাসান। সেই সেসে বাউকেই এবার মোহাম্মদ নাইমের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সাকিব। ২১ বলে ৭ রান করে ফিরেন সেসে। ২৪ রানে পড়ে পঞ্চম উইকেট।

এরপর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের দেখা পান স্পিনার শেখ মাহদি হাসান। এবার বিদায় নিলেন নরম্যান ভানুয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি তিনি। নরম্যান স্লগ খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল উঠে যায় লং অফে। সেখানে ছিলেন মুশফিক। বল তালুবন্দী করতে কোনোই সমস্যা হয়নি।

সপ্তম আঘাত হানেন সাকিব। নিজের শেষ ওভারে হিরি হিরিকে বানান সোহানের ক্যাচ। এরপর অবশ্য প্রতিরোধ গড়ে নিউগিনি। তবে ততক্ষণে সব শেষ। শেষদিকে কিপলিন দরিগা ৩৪ বলে করেন ৪৬ রান। ১৯.৩ ওভারে নিউগিনি থামে ৯৭ রানে। সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ২১ রান ২ উইকেট ও তাসকিন আহমেদ ৩.৩ ওভারে ১২ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।