হ্যাটট্রিক হারে টাইগারদের বিদায়

টানা তিন ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার শেষ ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৪৩ রানের টার্গেটে খেলতে নামা টাইগারদের শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২২ রানের। ব্রাভোকে প্রথম বলে ছয় মেরে আশার আলো দেখিয়েছিলেন রিয়াদ। তবে বাকি ৫ বলে ৩ রান নিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ওই ওভারে হারায় লিটন দাসের উইকেটও।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রানের। প্রথম বলে ডাবল নেন আফিফ। পরের বলে আসে সিঙ্গেল। পরের ৩ বলে ডাবল নেন রিয়াদ। তাতে শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রানের। তবে রাসেলের করা শেষ বলটি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি রিয়াদ।

ফলে ৩ রানের হার মেনে নিতে হয়। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের কাছে হারে টাইগাররা। ফলে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত বাংলাদেশের।


টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে মেহেদি হাসানকে দিয়ে বোলিং উদ্বোধন করায় বাংলাদেশ। ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস সেই ওভার থেকে তোলেন ৪ রান। পরের ওভারে আসেন তাসকিন আহমেদ। পেস-স্পিনের দ্বিমুখী আক্রমণে চাপে পড়ে যায় ক্যারিবীয়রা। তৃতীয় ওভারেই আনা হয় মোস্তাফিজকে। শেষ বলে বলটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্কয়ার লেগে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি হন ৯ বলে ৬ রান করা এভিন লুইস।  

দলীয় ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এক ওভার পরেই মেহেদী হাসানের বলে 'দ্য ইউনিভার্স বস' গেইল (৪) আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে তিনে নামা শিমরন হেটমায়ারকে বিদায় করেন মেহেদী। এবার হেটমায়ারও তুলে মারেন। কিন্তু বল বাউন্ডারি লাইনের কিছুটা ভেতর থেকে তালুবন্দি করেন সৌম্য সরকার। ৭ বলে ৯ রান করেই বিদায় নেন হেটমায়ার।

প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৮ রান তুলতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাউন্ডারি মাত্র ২টি!, ছক্কা নেই একটিও। এতেই বোঝা যায় টাইগারদের বোলিংয়ের সামনে কতটা অসহায় ছিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড ও চেজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল উইন্ডিজ। কিন্তু সাকিব-তাসকিনরা তা হতে দেননি। বরং সবাইকে চমকে দিয়ে ১৩তম ওভারে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন পোলার্ড। পরের বলে চেজের স্ট্রেইট ড্রাইভে বল বোলার তাসকিনের হাতে লেগে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্ট্যাম্প ভেঙে দিলে কোনো বলের মোকাবিলা করার আগেই রান আউট হয়ে ফেরেন আন্দ্রে রাসেল।  

এরপর সাকিবের করা ইনিংসের ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চেজের ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান। এক বল পরেই নিকোলাস পুরানকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলতে পারেননি উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

ফলাফল পরের তিন ওভারে তাণ্ডব চালান নিকোলাস পুরান। মাত্র ২২ বলে ৪০ রান করেন তিনি। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে এই ব্যাটসম্যানকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। পরের বলে তিনি ফেরান রোস্টন চেসকে। ওই ওভারে পঞ্চম বলে আরও একটি উইকেট তিনি পেতে পারতেন। তবে এবার জেসন হোল্ডারের ক্যাচ মিস করেন আফিফ হাসান।

শেষ ওভারেই এই হোল্ডারই দুটি ছক্কা মারেন মোস্তাফিজকে। ওই ওভারে আসে ১৯ রান। ফলে লড়াকু সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৪ ওভারে ২৭ রানে মেহেদি হাসান ২ উইকেট, ৪৩ রানে মোস্তাফিজুর রহমান ২ উইকেট ও ২০ রানে শরীফুল ইসলাম নিয়েছেন ২ উইকেট।