তাইজুলের ৭, লিড পেল বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিন বেশ হতাশাতেই কেটেছিল বাংলাদেশের। ৮০ রান তুলতে ৬ উইকেট হারানোর পর দুই সেশন বল করেও পাকিস্তানের কোনো উইকেট নিতে পারেনি। তবে তৃতীয় দিনে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ১৪১ রান যোগ করতেই ১০ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। ফলে উল্টো ৪৪ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ১১৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল।

রবিবার দিনের প্রথম ওভারেই জোড়া সাফল্য তুলে নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পরপর দুই বলে সাজঘরে ফেরান অভিষিক্ত ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক ও আজহার আলিকে।

এরপর ডানহাতি ওপেনার আবিদ আলির সঙ্গে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার কাজটা বেশ ভালোভাবেই করছিলেন বাবর। আগেরদিনের মতোই সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন আবিদ। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি তিনি। দেখেশুনে খেলে ইনিংসের ৬৮তম ওভারে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন আবিদ।

তবে আবিদকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দেওয়া হয়নি বাবরের। পাকিস্তানের ইনিংসের ৭৩তম ওভারে মিরাজ সরাসরি বোল্ড করে ১০ রানেই বাবরের বিদায়ঘণ্টা বাজান।

অধিনায়কের বিদায়ের পর ফাওয়াদও বেশি কিছু করতে পারেননি। ইনিংসের ৭৮তম ওভারের তৃতীয় বলে তাইজুলের ঘূর্ণিতে পুরোপুরি পরাস্ত হন ফাওয়াদ।

ফাওয়াদকে আউট করার পর ইনিংসের ৮০তম ওভারে আবিদের বিপক্ষে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেছিলেন তাইজুল। তার হালকা বাঁক খাওয়া ডেলিভারি আবিদের ব্যাটের বাইরের কানা ছুঁয়ে চলে যায় প্রথম স্লিপে। কিন্তু সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। ফলে ১১৩ রানে জীবন পেয়ে যান আবিদ।

মধ্যাহ্ন বিরতি দেওয়ার আগের ওভারে নতুন বল নিয়েছিল বাংলাদেশ। এক ওভার করা নতুন বলে দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই দুই পেসারকে আক্রমণে আনেন মুমিনুল। সফলতাও পেয়েছেন হাতেনাতে। সেশনের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে রিজওয়ানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন এবাদত।

দ্বিতীয় সেশনে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসে চতুর্থ বলেই আবিদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন তাইজুল। যার ফলে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের সামনে জাগে লিড নেওয়ার আশা।

আবিদকে আউট করার পর হাসান আলিকেও সাজঘরে পাঠান তাইজুল। তার করা ৯৬তম ওভারের প্রথম দুই বলে যথাক্রমে চার ও ছক্কা মারেন হাসান। তৃতীয় বলে তাকে বিদায় করে ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন তাইজুল।

২৪০ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর শেষ দুই উইকেটে মূল্যবান ৪৬ রান পেয়ে যায় পাকিস্তান। দশম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশায় ডোবান শাহীন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ। দুজন মিলে গড়েন ২৯ রানের জুটি। শেষপর্যন্ত নাটকীয় এক ক্যাচে ফাহিমের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান লিটন। লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বলে সুইপ করেছিলেন ফাহিম।

বল হাতে ১১৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। যা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। এছাড়া এবাদত দুইটি ও মিরাজ নিয়েছেন এক উইকেট।