বাফুফের এ কেমন ‘অবমাননা’ বোধ!

সম্প্রতি বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোশিয়েশন বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় সম্মাননা দিয়েছে। প্রথম পুরস্কার দিয়েছে ক্রিকেটার সাকিবুল হাসানকে। দ্বিতীয় পুরস্কার দেয়া হয়েছে বর্তমান বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনকে। এতেই সালাউদ্দিন ক্ষেপে বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করেছেন।


এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে ব‍্যক্তিকে। সংগঠনকে না। কিন্তু সালাউদ্দিনের সম্মাননা প্রত‍্যাখ‍্যান করেছে বাফুফে! এ সংক্রান্ত একটি দৈনিকে প্রকাশিত বাফুফের প্রেস রিলিজটা তুলে দিলাম।


বাফুফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির ষষ্ঠ নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের কাজী মো. সালাউদ্দিনকে প্রদত্ত দ্বিতীয় সেরা ক্রীড়াবিদ পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সালাউদ্দিনের মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি কিনা একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন, তাকে দ্বিতীয় সেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার দেয়াটা প্রহসনের শামিল। এটা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে অবমাননা এবং একইসঙ্গে ক্রীড়াঙ্গন তথা ফুটবলসংশ্লিষ্ট সবার জন্য অবমাননাকর।’


কারো ব‍্যক্তিগত সম্মাননা গ্রহণ বা বর্জন নিয়ে রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন মিটিং করতে পারে? অফিসিয়ালি প্রেস রিলিজ দিতে পারে? আমি ঠিক জানি না বাফুফে ব‍্যক্তি মালিকানায় দিয়ে দেয়া হয়েছে কিনা! যদি দেয়া হয় তাহলে পুরস্কার সংক্রান্ত অফিসিয়াল চিঠি নিয়ে কথা নেই। কথা আছে চিঠির ভাষা বা কারণগুলো নিয়ে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তাই শ্রেষ্ঠ দ্বিতীয় পুরস্কার তার জন‍্য অবমাননাকর। এটা কেমন কথা? তাকে তো শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা বা কতগুলো পুরস্কার পেয়েছেন এ হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়নি। সম্মাননা দেয়া হয়েছে ব‍্যক্তিগত ক্রীড়া নৈপুণ্যের ভিত্তিতে।


সবচেয়ে যে বিষয়ে খারাপ লেগেছে তা হলো কাজী সালাউদ্দিনকে দ্বিতীয় পুরস্কার দেয়ার কারণে নাকি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের’ অবমাননা হয়েছে- এই বক্তব‍্যটি! যোগ‍্যতার ভিত্তিতে তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন এতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অবমাননা কী করে হলো?


কাজী সালাউদ্দিন বাফুফের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হন ২০০৮ সালে। তখন বাংলাদেশ ফুটবলের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ছিল ১৫১। এখন হয়েছে ১৯২। গত ১৪ বছরে ফুটবলকে তিনি কত পিছিয়েছেন তার উদাহরণ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং। যদি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অবমাননা হয়, তবে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং এর কারণেই হয়েছে।


জহিরুল হক বাপীর ফেসবুক থেকে