আইনের শাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

PM in rajshahi
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।

বুধবার (১৬ মে) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুলিশ সন্ত্রাস ও জঙ্বিাদ দমনে সফল হয়েছে। কিন্তু মাদক আমাদের সমাজে এক ব্যাধির মতো লেগে আছে। এটি একটি পরিবারকে-সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই এই মাদকের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হবে। আর এজন্য বিশেষ কাজ আপনাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই মাদক সেবনকারী, সরবরাহকারী এবং মাদক ব্যবসায়ী সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। যেমন জঙ্গি দমনে আপনারা সফল হয়েছেন, তেমন আমার বিশ্বাস আমাদের দেশ থেকে মাদক নির্মূলেও আপনারা সফল হবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বহির্বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরণ দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও আধুনিক ও দক্ষ হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি, স্টাফ কলেজ নির্মাণ, টিফিন ভাতা, ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি জন্য ৫০ হাজার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ আমাদের জনসংখ্যা বেড়েছে। বর্ধিত জনগণকে সেবা দিতে পুলিশের ওপর বেশি চাপ পড়ছিল। তাই জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকি ভাতা দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ ভাতা দেয়া হবে। নতুন নতুন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত শাখা শিল্প পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ করা হয়েছে। গার্ড ও প্রোটেকশন পুলিশ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০০৯ সাল থেকে ট্রাফিক পুলিশে নারী সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা, রেশন বৃদ্ধি, উন্নত যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি। নানা ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় আইজিপি র‍্যাংক ব্যাজ প্রবর্তন করেছে। আমার আর্মড পুলিশের জন্য ৩০টি ট্রেনিং সেন্টার করে দিয়েছি। এছাড়া আরও চারটি সেন্টার করার কাজ চলছে। আমার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সেবা চালু করেছি। যা জনগণকে সেবা দিয়ে সাহায্য করছে। আমরা চাই পুলিশের কাছ থেকে আমাদের জনগণ যথাযথ সেবা পাবে। এজন্য পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

এক বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ad