‘ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই’

jagoran- Two buses, rivalries, 2 students, deaths,
ad

জাগরণ ডেস্ক: গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাস চাপা দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন জাবালে নূর পরিবহনের চালক মাসুম বিল্লাহ।

বুধবার (৮ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে মাসুম বিল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এ কথা জানায়। জবানবন্দী শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতে মাসুম বিল্লাহ বলেন, বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য তিনটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ছাত্ররা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই।

তিনি বলেন, জাবালে নূর বাসের (যার রেজি. নং ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭) চালক আমি। গত ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৪-১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদের গুরুতর জখম করি। গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাই। আমার গাড়ির আঘাতেই রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় ৮-১০ জন।

এর আগে সাতদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করেন। এ সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দী রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি এবং মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করেন।

গত ১ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম এই মামলায় মাসুম বিল্লাহকে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএ বাসস্ট্যান্ডে দুই বাসের রেষারেষিতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন কলেজের আর ১২ শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে আটজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো হাসপাতালে বর্তি আছেন চারজন।

এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভে নামে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সাথে যোগ দেয় রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ-স্কুলের শিক্ষার্থী। একসময় তারা পুরো ঢাকায় অবরোধ দেয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৯ দফা দাবি তুলে। পরে সরকার তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে ৬ আগস্ট তারা ধর্মঘট তুলে নেয়।

ad