ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ
ad

জাগরণ ডেস্ক: আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে শপথ নেয় অস্থায়ী সরকার।

বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি বা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করে, তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) করে এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা বিজয়ের শপথ নিয়েছিল।

তাঁরা শপথ নিয়েছিলেন পরাধীন একটি জাতিকে স্বাধীন মানচিত্র এনে দিতে। শপথ নিয়েছিল বহুকালের নির্যাতন বঞ্চনা আর শোষণের ইতিহাসকে পরাজিত করে স্বাধীনতার নতুন সূর্য ছিনিয়ে আনতে।

ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের সফলতা দেখিয়ে মুজিবনগর সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং, অস্ত্র, ভাতা, রসদ দেবার ব্যবস্থা করেছিল। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে ভারতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিল। পাকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের কথা বহির্বিশ্বে প্রচার করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য বিশ্ব নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছিল।

১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে গঠিত সরকার ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের সাংবিধানিক ও আইনগত স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তা অনুমোদন দেয়া হয়। যেটি পাঠ করা হয় ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

মূলত ২৬ মার্চ থেকেই আমাদের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয় এভাবে, যে জন্য ২৬ মার্চের পরে পাকবাহিনী শুধু হানাদার বাহিনীই ছিল না, তারা ছিল আইনের দৃষ্টিতে জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছায় আক্রমণকারী ‘দখলদার বাহিনী’। ৯ মাসে একটা দেশের জন্ম হয়েছিল এই মুজিবনগর সরকারের ঔরসে।

ad