কোটা সংস্কারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Montrisova
ad

জাগরণ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এমন নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধা বা অন্যান্য কোটাগুলো যদি পূরণ করা সম্ভব না হয় তবে তা মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করতে হবে। সেটা পূরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোটার মাধ্যমে মেধা অবহেলিত হয়নি। কোটার ক্ষেত্রেও যারা মেধাতালিকায় ভালো তারা আসছেন। এমন না যে মেধাতালিকায় যারা আছেন তারা অবহেলিত আছেন, পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। কোটার দ্বারা কারও মেধা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

৩৩তম বিসিএসে মেধাকোটায় পূর্ণ হয়েছে ৭৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৩৫তম বিসিএসে ৬৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ মেধা তালিকা থেকে এসেছে। ৩৬তম বিসিএসে ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ মেধাকোটায় নিয়োগ পেয়েছেন বলেও জানান শফিউল আলম।

তিনি বলেন, যেটা মোডিফাই করা হয়েছে অর্থাৎ পদ পাওয়া না গেলে মেধাতালিকার শীর্ষে যারা আছেন তাদের দিয়ে পূরণ করা হবে। এটাই তো একটা সংস্কার।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যা আলোচনা হয়েছে তা জানিয়েছি তো। কোটার কারণে যারা মেধাবী তারা খুব বেশি বঞ্চিত হয়নি। আপনাদের তো তিনটা বিসিএসের রেজাল্ট দিয়ে দিলাম।

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি ৩০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ কোটা বরাদ্দ আছে।

সব মিলিয়ে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা পদ্ধতি রয়েছে। বর্তমানে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৩০ লাখ। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী।

অনেকদিন ধরেই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে চাকরি প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল কোটা সংস্কারের দাবিতে কয়েক হাজার চাকরি প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থী শাহবাগে অবস্থান নেয়। পরে রাতে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এরপর সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা আবারও টিএসসিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এছাড়া, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ad