খালেদার জামিন বিষয়ে রায় ১৫ মে

Khaleda, court, Arguments,
ad

জাগরণ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে করা আপিলের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে আগামী মঙ্গলবার (১৫ মে)।

বুধবার (৯ মে) সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

শুরুতেই জামিন বহাল রাখার পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আপিল শুনানিতে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, আসামীরা বিশ্বাস ভঙ্গ করে টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে টাকা উত্তোলন করেন। এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার মতো যুক্তি রয়েছে। প্রধান আসামিকে (খালেদা জিয়া) নারী ও অসুস্থ, বয়স বিবেচনায় দেওয়া হলো পাঁচ বছর, অথচ অন্য আসামীদের দেওয়া হয় ১০ বছর। এটা হতে পারে না। বরং প্রধান আসামী হিসেবে খালেদা জিয়ার সাজা আরও বেশি হওয়ার কথা। নারী ও অসুস্থতা বিবেচনায় উনার শাস্তি কমানোর সুযোগ নেই।

খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে বরং আপিল শুনানি করে একসঙ্গে রায় ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষে আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে রয়েছেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল।

শুনানিকে কেন্দ্র করে কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার সময় তল্লাশি করা হয় সবাইকে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন বিচারিক আদালত। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে পরের দিন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল করে। পরে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ জামিনের স্থগিতাদেশ দেন। পরদিন ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

এরপর গত ১৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করে।

ad