গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস, ৪০ গ্রাম প্লাবিত

gaibandha flood
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: উজানের ঢল আর পানির প্রবল চাপে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট ধসে গেছে। এতে জেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে, গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুরের একটি কাঁচা রাস্তা ধসে যাওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

জানা যায়,  পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তিনটি বাঁধ ধসে দুই উপজেলার অন্তত ৪০ গ্রাম নতুন করে বন্যার পানি প্রবেশ করে। পানিবন্দী হয়ে পড়ে উপজেলার ২০ হাজার মানুষ। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয় স্কুল, কলেজসহ এলাকার উঁচু স্থানে। এসব এলাকার আমন ধান, পুকুর, মাছের ঘের, বীজতলা, শাক সবজি, পানের বরজ ও আখ ক্ষেত তলিয়ে যায় পানির নিচে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চেরেঙ্গা, কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টোংরারদহ ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অংশ বিশেষ ধসে যায়। এছাড়া, করতোয়া নদীর পানির তোড়ে গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের ছোট দুর্গাপুর-বিশ্বনাপুর কাচা রাস্তার ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যায়।

এদিকে, চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, কাতলামারী ও গাইবান্ধা পৌর শহরের ডেভিট কোম্পানী পাড়ারসহ অন্তত ১০টি পয়েন্টে। সোমবার সিংড়া-রতনপুর ও ডেভিট কোম্পানী পাড়ার বাঁধের নিচের গর্ত দিয়ে পানি ঢোকা শুরু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন চেষ্টা চালিয়ে কোনরকম গর্তের পানি বন্ধ করে। তবে এসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতস্ক বিরাজ করছে।

ধসে যাওয়া বাঁধ-রাস্তাসহ ঝঁকিপূর্ণ বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন রক্ষায় স্থানীয়দের সহায়তায় সেনাবাহিনীর কারিগরি দলের ৮৫ সদস্যরা কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান।

ad