জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল

National Professor Mustafa Nurul Islam, died,
ad

জাগরণ ডেস্ক: জাতীয় অধ্যাপক, ভাষাসৈনিক, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম (৯১) ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

বুধবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

অ্যাপোলো হাসপাতালের মর্গে মুস্তাফা নূরউল ইসলামের মরদেহ রাখা হয়েছে। তার প্রবাসী তিন ছেলে-মেয়ে দেশে ফিরলে দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর শোক জানিয়েছেন

বৃহস্পতিবার (১০ মে) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাটের দশকের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, একষট্টি’র প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনসহ সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ আন্দোলনেও তিনি অনন্য অবদান রাখেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে লন্ডনে পিএইচডি গবেষণারত অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে জনমত গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই বিশিষ্ট সাহিত্যিকের মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

অধ্যাপক নূরউল ইসলামের জন্ম বগুড়ায়, ১৯২৭ সালে ১ মে। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে গ্রাজুয়েশনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন নূরউল ইসলাম। পরে লন্ডন ইউনিভার্সিটির প্রাচ্যভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র সোয়াস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৫১ সালে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। দুই বছর পর করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন।

স্বাধীনতার আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি এবং সেখানে কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে অধ্যাপক নূরউল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৪ সালে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে যোদ দেন অধ্যাপক নূরউল ইসলাম। এরপর ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক তিনি। তবে সামরিক সরকারের সঙ্গে মতভিন্নতার কারণে বাংলা একাডেমির চাকরি ছেড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান। ১৯৯২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি।

এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের তিন মেয়াদে চেয়ারম্যান, নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের তিন মেয়াদে সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

অধ্যাপক নূরউল ইসলাম সুন্দরম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয় তাকে। এ ছাড়া তিনি একুশে পদকও লাভ করেছেন।

ad