টাঙ্গাইলের অনিল-কল্পনা দম্পতির হত্যা রহস্য উদঘাটন

Tangail, teacher couple, murder,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়।

শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৪৮), রসুলপুরের মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা আত্মসাত করার জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র পরিকল্পনা করে।

তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগিদের পাঁচ লাখ টাকা দেবে এবং জমি বিক্রির অর্ধেক টাকাও তাদের দেয়া হবে বলে জানায়।

ঘটনার দিন ছয়জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ১২ মে গ্রেপ্তার হওয়া রসুলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও ফরহাদ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তাদের জবানবন্দিতে হত্যা রহস্য বেরিয়ে আসে।

পরে পুলিশ ১৪ মে রসুলপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুইয়া ওরফে খোকন ভুইয়া ও শালিনাপাড়া গ্রামের মনজুরুল ইসলাম ওরফে মিনজুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাস তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় আরও বলেন, এই হত্যা মিশনে ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানাগেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা পরবর্তীতে জানা যাবে। দুজন আসামীকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নিহত অনিল কুমার দাসের বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের কোনো এক সময় অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাদের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে রেখে যায়। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। ওইদিন নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

ad