দুদকে হাজির না হয়ে সময় চাইলেন বেসিকের বাচ্চু

Basic Bank, Former Chairman, Interrogation,
ad

জাগরণ ডেস্ক: বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি।

সোমবার (৭ মে) দুদক কার্যালয়ে তার হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি হাজির না হয়ে দুই মাসের সময় চান। দুদক তা বিবেচনায় নিয়ে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। নতুন নোটিশে ১৫ মে তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৩ শতাংশ (৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা), যা যেকোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারের চেয়ে বেশি। আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১১ মাসে বিভিন্ন ‘অনিয়ম’-এর মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিভিন্নজনকে ঋণ দেয়া হয়।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিনদিনে টানা ৫৬টি মামলা করে দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় মোট আসামী করা হয় ১৫৬ জনকে।

মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখার মাধ্যমে অনিয়ম করে ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়।

মামলাগুলো তদন্ত করছেন দুদকের ১০ কর্মকর্তা। তবে কোনো মামলাতেই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামী করা হয়নি। এ নিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সর্বশেষ আদালত পর্যন্ত সমালোচনা করেন।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যানের অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজতে অনুসন্ধান শুরু করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

ঋণ কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দুদকের এই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে গত ২২ নভেম্বর থেকে। এখন পর্যন্ত দুদক বেসিক ব্যাংকের সাবেক ১০ জন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

আজ সোমবার আবদুল হাই বাচ্চুকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির থাকতে তলবি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সংস্থার উপপরিচালক সামছুল আলম। পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে তিনি অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান করছেন।

ad