নরসিংদীর জজ কোর্ট থেকে জঙ্গি মামলার আসামীর পলায়ন

Judge court, militant, suede, convict, escapee,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নরসিংদীতে জজ কোর্ট ভবন থেকে হাজিরার জন্য হাজত থেকে পুলিশ প্রহরায় আদালতে নেয়ার পথে হাতকড়াসহ কাউছার নামে এক ডাকাতি ও জঙ্গি মামলার আসামী পালিয়ে গেছে।

রবিবার (৪ মার্চ) সকালে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আসামী কাউছার কখন পালিয়ে গেছে তা পুলিশ বুঝতেই পারেনি। পলাতক জঙ্গি আসামী কাউছারের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার বিনানুই গ্রামে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত হাজিরার জন্য কোর্ট পুলিশ সদস্যরা সকাল পৌনে ১০টার দিকে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে আসামী কাউছারকে কোর্ট হাজতে নিয়ে রাখে। বেলা ১১টায় কাউছারসহ আর ৯ আসামীকে হাজতখানা থেকে বের করে এজলাসের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।

এ সময় কাউছার হাতকড়া অবস্থায়ই পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনা টের করতে পারেনি। এজলাসের কাঠগড়ায় নিয়ে মাথা গনণার সময় পুলিশ দেখতে পায় যে আসামী একজন কম। কাগজপত্রের সাথে আসামীদের নাম মিলিয়ে দেখতে পায় যে, জঙ্গি মামলার আসামী কাউছার পালিয়ে গেছে।

এই অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশসহ পুলিশের একাধিক টিম তৎপরতা শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ তার কোনো হদিস বের করতে পারেনি।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রহুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ কনস্টেবল সাইদুল ও হামিদ আসামী কাউছারসহ অন্যান্য আসামীদের গারদখানা থেকে আদালতের এজলাসে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ভীড়ের মধ্যে সে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে পালিয়ে যায়। এজলাসে নেয়ার সময় কাউছারের হাতে হাতকড়া ছিল না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে কৌশলে পালিয়ে যায়।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম সাংবাদিকদেরকে জানান, কোর্ট থেকে আসামী পলায়নের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

জানাগেছে, ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে নরসিংদী থানা পুলিশ শহরের বাসাইলের একটি বাড়ি থেকে প্রথমে ডাকাতির ঘটনায় কাউছারকে তার ৪ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে। সে সময় তার কাছ থেকে ২টি বিদেশী পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পরে কাউন্টার টেরিরিজমের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, কাউছার জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় থানা পুলিশ তাকে ডাকাতি ও জঙ্গি মামলার আসামী হিসেবে কারাগারে প্রেরণ করে। দীর্ঘ ২ বছর ধরে সে নরসিংদী কারাগারে আটক ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আরও ৮টি মামলা রয়েছে।

ad