নির্বাচনে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন হবে: কাদের

Jagoran- Election, deployment of soldiers, kader ,
ad

জাগরণ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না, এটা আমরা বলবো না। প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন হবে। যদি সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় মোতায়েন করা দরকার হয়। সেই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে, সরকার প্রয়োজন ও বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কিভাবে মোতায়েন হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কার সঙ্গে জোটে যাবে, কিভাবে যাবে সেটা তো আমরা জানি না। আমরা পত্র-পত্রিকা, মিডিয়ায় জানতে পারছি যুক্তফ্রন্ট নেতারা বিএনপির প্রধান পার্টনার। এখানে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তারা কিভাবে কার সঙ্গে কি ঐক্য করবে, সেটা তো আমরা জানি না।

তিনি বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এক দেড় মাস বাকি আছে। এখন মামাবাড়ির আবদার করলেতো চলবে না। সংসদের শেষ অধিবেশন ২০ অক্টোবরের আগেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর সংসদ বসবে না নির্বাচন পর্যন্ত। এ সংসদ সদস্যদের কোনো ক্ষমতা ও কার্যকারিতা থাকবে না। কাজেই এটা ভেঙে দেওয়া, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো রেখে এবং অকার্যকর এর মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়, আমি বুঝতে পারি না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের বিকল্প হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। যাদের দুঃশাসনে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল। অনেক অত্যাচার, নির্যাতন করেছে, ব্যাড পলিটিক্স ছিল। সেই নির্যাতন ও অন্ধকারে কি কেউ ফিরে যেতে চান? আমরা মনে করি না আমাদের সবকিছু শুদ্ধ, আমাদের ভুলত্রুটিও আছে, কিন্তু ভুলত্রুটি সংশোধনের সৎসাহস শেখ হাসিনার রয়েছে। দলের মধ্যে কেউ অন্যায় করলে তাকে আমরা শাস্তি দিই। কিন্তু আমাদের বিকল্প যাদের ভাবেন, তারা তো নিজেদের লোকদের শাসন করেননি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সাহস থাকলে জনগণের কাছে নালিশ করুন। বিদেশে গিয়ে নালিশ করে দেশকে কেন খাটো করছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ, বাস্তবে দেখা গেলো এমন কোনও আমন্ত্রণ নাই। কি রকম তারা প্রতারণা করে, রাজনীতিতে ছদ্মবেশী প্রতারণা পার্টির নাম বিএনপি। বিএনপি এখন বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশ কান্নাকাটি পার্টি হয়ে গেছে। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বির অভাব নেই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বির ফাঁদ তৈরির কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা কি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, আমরা কি সাউথ সুদান, কঙ্গো, ইরাক, আমরা কি জিম্বাবুয়ে? বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে সংবিধান অনুসারেই নির্বাচন পরিচালিত হবে। এখানে কোনও ব্যত্যয় করার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার সরকারই তত্ত্বাবধান করবে এবং নির্বাচন কমিশনই এ নির্বাচন পরিচালনা করবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ না করে, পল্টনে-প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশের প্রয়োজন নেই। গতকাল (শনিবার) গণভবনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন সভা-সমাবেশ করার ব্যাপারে এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যাতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এ কথা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিতে। আজকেই (রবিবার) আমি পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছি।

ad