পরিস্থিতি শান্ত রাখতেই ভাস্কর্য অপসারণ: সুপ্রিমকোর্ট

Sculpture, removal, supreme court,
ad

জাগরণ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্য পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৬ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ এমন মন্তব্য করেন।

এই ভাস্কর্য এখন কোথায় বসানো হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ মে) মধ্যরাত ১২টার দিকে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের অব্যাহত দাবির মুখে অনেকটা গোপনেই শুরু করে ভোরের আগেই ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শেষ করা হয়। টানা ৪ ঘণ্টা ধরে কয়েকজন শ্রমিক ভাস্কর্য সরানোর কাজ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশেই ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাস্কর্য সরানোর খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে ছুটে আসেন বিক্ষুব্ধরা। দুইটার দিকে বেশ কিছু তরুণ সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের একটি মিছিল আসে।

সাময়িক উত্তেজনার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ফটকের সামনে ও অন্য একটি অংশ রাস্তার একপাশ বন্ধ করে রাস্তার ওপর অবস্থান নেন। থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। স্লোগান ওঠে ‘ন্যায়বিচারের ভাস্কর্য অপসারণ করা যাবে না’, ‘আপস না রাজপথ?—রাজপথ, রাজপথ’, ‘হেফাজতের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘মৌলবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও জ্বালিয়ে দাও’ ইত্যাদি।

ভাস্কর্যটি অপসারণের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাক্টিভিস্টরা। এটিকে কালো দিন বলেও অভিহিত করেন কেউ কেউ। ‘২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৬ মে নতজানু দিবস।’, ‘যেদিকে তাকাই আলকাতরা’, ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি’, এ ধরনের নানা ক্ষোভ আর হতাশায় ফেসবুক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে।

ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক বলেছেন, আমার কিছু বলার নাই। অনেকের অনেক ক্ষমতা আছে। আমি বানিয়েছি, আমাকে সরাতে বলা হয়েছে। আমি তদারকি করছি। এসব বলতে গেলে বিপদ। এর আগে আমার বানানো লালনের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। আমাকে গতকাল বলা হয়েছে। এ ভাস্কর্য কোন গ্রিক দেবীর নয়। এটি সম্পূর্ণ বাঙালি মেয়ের ভাস্কর্য। শাড়ি-ব্লাউজ পরা একজন বাঙালি নারীকে উপস্থাপন করা হয়েছে এ ভাস্কর্যে। আর এখানে দাড়িপাল্লা বিচারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন করে বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যে আঘাত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর ব্যাপারে তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ad