প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৯ সদস্য সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার

Organized Crime, CID
ad

জাগরণ ডেস্ক: বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সাথে জড়িত একটি চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মো. ইব্রাহিম (২৮) ও হাসমত আলী সিকদার, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মো. আইয়ুব আলী (বাধন), সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মোস্তফা কামাল (২৮), চাদপুরের হাজীগঞ্জ থানার মনোয়ার হোসেন (৪২), মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নুরুল ইসলাম (৪৭), ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুলের শিক্ষিকা হোসনে আরা বেগম, অগ্রণী স্কুল ও কলেজের শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল ও রাজবাড়ীর অলিপ কুমার বিশ্বাস।

আপনারা জেনে থাকবেন, প্রেস বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যারা এনালগ পদ্ধতিতে প্রশ্নপ্রত্র ফাাঁস করে থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা যতটা সহজ ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বনকারীদের আইনের আওতায় আনা ততটাই জটিল। কিন্তু সিআইডি অর্গানইজড ক্রাইম প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই সামাজিক ব্যাধি ও অবক্ষয় রোধ বদ্ধপরিকর। তাই অত্যন্ত সুকৌশল, ধৈর্য এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ চক্রটিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
পাশাপাশি আমরা বিস্মিত হয়েছি, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করে আসছে।

সিআইডি জানিয়েছে, পাঁচদিন সাড়াশি অভিযান চালিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিজিটাল ডিভাইস চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ুব আলী বাঁধনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

এছাড়াও পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রনী স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মজুমদার এবং নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়াও একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল গ্রেফতারের সময় হাসমতের কাছে ওই দিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।  এই ৯ জনসহ এ মামলায় মোট গ্রেপ্তার ৩৭ জন।

অলিপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টার মাইন্ড। কয়েক বছরে সে জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কোটি টাকার বেশি আয় করেছে।  ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাঁধন বিসিএসসহ সকল নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূল হোতা। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।

অলিপ, ইব্রাহীম, বাঁধন ও মোস্তফা জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে প্রশ্নফাঁসের পর রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে তারা অভিজ্ঞদের দিয়ে সে প্রশ্নপত্র সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করত।

সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ad