ভবন ভাঙতে ১ বছর ১০ দিন সময় পেল বিজিএমইএ

BGMEA, building, break
ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৬তলা বিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ভবিষ্যতে আর সময় চাইবে না- এই মর্মে দাখিল করা মুচলেকায় থাকা তিন শর্তের প্রেক্ষিতে ভবনটি ভাঙার জন্য আরও এক বছর দশ দিন সময় পেয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সোমবার (২ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে বিজিএমইএর আইনজীবী এডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মুচলেকা দাখিল করেন।

ভবন ভাঙাসহ এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ছয় মাস ও সাত মাস সময় পেয়েছিল সংগঠনটি। এবার এক বছর নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সময় পেল সংগঠনটি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এবার যেন বাস্তবায়ন হয়, ১২ মাস ১০ দিন সময় পাচ্ছেন এটি মনে রাখবেন। আদালতের এ আদেশের ফলে বিজিএমইএ ১৬তলা ভবনটি ভাঙার জন্য ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পেল।

বিজিএমইএ-ভবন কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মুচলেকাতে তিনটি শর্ত উল্লেখ করেছিলাম। মুচলেকাতে বলেছিলাম, আমাদেরকে এক বছর সময় দেয়া হলে- ১/আমরা আর সময় চাইবো না, ২/ আদালত যে আদেশ দেবেন তা মেনে চলবো এবং ৩/ আদালতের দেয়া সময় শেষে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদে যারাই থাকবেন, তারা ভবন ভাঙতে দায়বদ্ধ থাকবেন।

গত ২৮ মার্চ দাখিল করা মুচলেকায় কিছু অস্পষ্টতা থাকায় তা সংশোধন (মোডিফাই) করে ফের সোমবারের মধ্যে দিতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ।

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর ভবনটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে এটি বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

গত ২৫ মার্চ বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় চেয়ে আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বিজিএমইএ’র আবেদনের ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

গত ৫ মার্চ ভবনটি ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ। আর গত বছরের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএর বহুতল ভবনটি ভাঙতে সাত মাস সময় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তখন আদেশে আদালত বলেছিলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ অক্টোবর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ শুনানি শেষে সাত মাসের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার আদেশ দেন।

আদালত বলেন, আপনাদের ইতোপূর্বে আরো কয়েকবার সময় দেয়া হয়েছে। কেন ভবন অপসারণ করেননি? আপনারা যদি মনে করে থাকেন, আদালতে এসে সময় চাইবেন আর সময় দেয়া হবে; এ ধরনের মনোভাব পোষণ করা ঠিক না।

এরপরই আদালত সাত মাস সময় দিয়ে ভবন ভাঙার আদেশ পালন করতে হবে জানিয়ে বলেন, এটাই লাস্ট চান্স।

এর আগে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ বিজিএমইএর ১৬তলা ভবন ভাঙার বিষয়ে করা পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দেন। এরপর ওই বছরের ১২ মার্চ বিজিএমইএ ভবন আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভাঙতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।

রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ানবাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিনই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় হাইকোর্টের রায়ে বিজিএমইএ ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা।

ad